🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম , আমার বোন জামাই তার দোকানে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছে কিন্তু সে মাজে মাজেই দোকানে তালা মারে না। শুধু শাটার নামিয়ে রাখে এতে করে মাজে মাজে তার দোকান থেকে চুরি হয় আজকেও চুরি হয়েছে। আমি জানতে পেরে বলি সে মানে আমার বোন জামাই শুধু সিসি কেমেরা দেখেই যাবে এভাবে কথাটা বলার পরে আমি থেমে যাই,মনে সন্দেহ আসে যে কুফুরি হইল কিনা, আমি আসলে এইটা বুজাতে চেয়েছি যে আগে তাকে নিরাপত্তা মুলক যেমন তালা অন্তত মারতে হবে এরপরে আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে। আমার মনে সন্দেহ আসার সাথে সাথেই আমার একটি হাদিস মনে ছিল তাই আবার বলি এভাবে আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি (আল্লাহর উপর নির্ভর করার ধরন প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করে) বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! আমি উট বেঁধে আল্লাহর উপর নির্ভর করব, নাকি উট ছেড়ে দিয়ে?’ উত্তরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বরং তুমি উট বেঁধে আল্লাহর উপর ভরসা কর। আমার কি কোন কুফুরি হয়েছে কিনা আমার অই কথা যে সে শুধু সিসি কেমেরা দেখেই যাবে কেন সে তালা মারে না দোকানে, কেন শুধু শাটার নামিয়ে রেখেছিল।
ওয়ালাইকুমুস সালাম। সংক্ষেপে উত্তর — আপনার উক্তি কুফর নয়। (হানাফি কিতাব ও হাদিসসহ কারণ নীচে দেওয়া হলো।)

1) কেন কুফর নয় — শ্রুতি ও অর্থগত ব্যাখ্যা
- আপনি কোনো মৌলিক ঐক্য বা ঈমানের সত্য (যেমন আল্লাহর অস্তিত্ব, রিসালত, ইমানের স্তম্ভ ইত্যাদি) নাস্তিক বা অস্বীকার করেননি; বরং আপনি অনানুযায়ী বা অসতর্ক আচরণের বিরুদ্ধে সমালোচনা দিয়েছেন। হানাফী উস্তাদরা বলেছে যে কোনো কথা কুফর গণ্য হবে না যদি সেটি ইসলামের উঁচু মৌলিক সত্যসমূহকে সরাসরি অস্বীকার না করে। (দেখুন: al-Hidayah — Sharh al-Hidayah, Kitab al-Iman ও Kitab al-Kafaarah-এর আলোচনা; Ibn Abidin, Radd al-Muhtar-এর আলোচ্য বিষয় — সাধারণভাবে যে বক্তব্য কুফর হবে তার শর্তসমূহ।)

2) অনুমতি ও প্রাসঙ্গিক হাদিস
- ঝুঁকি কমানোর জন্য ব্যবস্থাপনা (means) নেওয়া উচিত—এটাই নবীর নির্দেশ: “উট বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করো”। (সুনান তিরমিধি, ও আনু ইত্যাদি তরিকায় বর্ণিত; তিরমিধিতে তিনি বলেন—হাদিস হসান/সহীহ)। আপনি যে হাদিসটি স্মরণ করেছেন তা থেকেই প্রমাণ যে আগে যতোটা সম্ভব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; আল্লাহর উপর ভরসা মানে এই যেবাস্তবিক কাওসুল ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা বাদ দেওয়া নয়। (এই হাদিস হচ্ছে ফিকহ ও আখলাক দুই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।)

3) যদি আপনার কথায় কোনো ভুলভাবে বিশ্বাস-অপমানের দিক থেকে বোঝানো হয়ে থাকে
- এমন কিছুর জন্য সচরাচর ‘কুফর’ ধরা হবে না—অর্থাৎ কাউকে আল্লাহকে অস্বীকার বা ঈমানের মৌলিক জিনিস উল্টে বলা না হলে। হানাফী মুফতিগণ বলেন যে শুধুমাত্র অবিবেচক, তিরস্কারমূলক বা খামোখা আক্রমণাত্মক কথা হলেও তা অভিযোগ, গুনাহ বা বিদ্ধ করা হতে পারে, কিন্তু কুফর হবে না যতক্ষণ না সেটি ঈমানের মৌলিক দিকসমূহ অস্বীকার করে। (দেখুন: Ibn Abidin, Radd al-Muhtar; Al-Hidayah-এর রেফারেন্স।)

4) প্রায়োগিক নির্দেশনা (আচরণগত)
- আপনার বক্তব্যে সঠিক নীতিটাই আছেঃ লোকজনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা (যেমন তালা করা, সতর্কতা) গ্রহণ করতে বলা উচিত, তারপর আল্লাহর উপর ভরসা। তাই আপনার দ্বিতীয় বক্তব্য (হাদিস উদ্ধৃত করে) অধিকতর শুদ্ধ ও প্রযোজ্য।
- নিকটজনকে নম্রভাবে বুঝিয়ে বলা ও নিরাপত্তা বাড়াতে উত্সাহ করা উত্তম; রাগ বা অবমাননাস্বরূপ কথাবার্তা এড়িয়ে চলা ভাল।

সমাপনী মন্তব্য: সংক্ষেপে — আপনার বলা কথাগুলো কুফর নয়। আপনি যা বোঝাতে চেয়েছিলেন সে পাঠ (প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা) ইসলাম ও হানাফি ফিকহের অনুকূল এবং তা প্রমাণিত হাদিসের অনুকরণে। (তথ্যসূত্র: Sunan al-Tirmidhi—হাদিস “اعقلها وتوكل” সম্পর্কে; হানাফি ফিকহের সাধারণ নীতির জন্য: al-Hidayah (Sharh al-Hidayah) ও Ibn Abidin, Radd al-Muhtar-এর আলোচনা)।