🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

বিয়ের পূর্বে পাত্র ও পাত্রী ফোন কলে কথা বলতে পারবেন কিনা?
সিদ্ধান্ত (সংক্ষেপ): হানাফি মাযহাব অনুযায়ী পাত্র ও পাত্রী বিয়ের উদ্দেশ্যে দরকারি আলাপচারিতা ফোনে করতে পারবেন — কিন্তু এটি শর্তসাপেত ও সীমাবদ্ধভাবে অনুমোদিত। যদি আলাপকালে খলওয়া (একান্ত একাকীত্ব), ফিতনা-জাগানো, শি্রলীল/ইচ্ছাপরায়ণ কথাবার্তা, অশ্লীল ছবি বা গোপন সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে — সেই ক্ষেত্রে তা হারাম। যদি ফিতনার ভয় থাকে বা মনের ইচ্ছা জাগে, তখন সম্পূর্ণ মানা।

শর্তসমূহ (মূল দিকনির্দেশ):
1) উদ্দেশ্য স্বচ্ছ ও ন্যায়্য (বিবাহ-সংক্রান্ত দরকারি প্রশ্ন, পরিবারের সমন্বয় ইত্যাদি)।
2) সঙ্গত শালীনতা—সুদীর্ঘ, রোমান্টিক বা লোভনীয় স্বরে আলাপ করা যাবে না।
3) ফোনে না-শোনানো/গোপন আলাপ শুদ্ধতাহীন পরিবেশের সমান হলে এবং একান্ত গোপনে দীর্ঘ রূপ নিলে তা খলওয়ার মত বিবেচিত হবে এবং হারাম। (রাতভর একান্ত আলাপ, রহস্যজনক মেসেজ/ফটো ইত্যাদি থেকে বিরত থাকুন)।
4) সম্ভব হলে মাহরাম/বাবা-মায়ের সহিত আলোচনা বা আলাপের টপিক উদঘাটন রাখা উত্তম।
5) ইচ্ছে-প্রবণতা থাকলে বা ফিতনার আশঙ্কা দেখলে অবিলম্বে বিরত থাকা ফরজ-সমান।

ধর্মশাস্ত্রীয় উৎস ও রেফারেন্স (হানাফি):
- কোরআন ও নৈতিক তত্ত্ব: সূরা নূর (24:30–31) — মানুষেরা তাদের চাহনিকে নিয়ন্ত্রণ কর এবং শালীনতা রক্ষা কর।
- হাদিস: রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.)-এর কথায়: “মানুষ ও নারী একা থাকলে শয়তান তৃতীয় হতে থাকে।” (সুনান তিরমিজি ও অন্য সরায়হ); এই নীতিই খলওয়া-বিরোধিতা প্রতিষ্ঠা করে।
- ফরযি/ফিকহি নির্দেশনা (হানাফি): খলওয়া ও বহির্ভূত সম্পর্ক থেকে বিরত রাখার ব্যাপারে আল-হিদায়া (ইমাম মারগিনানী), রদ্দুল-মুতহার (ইবনে আবিদীন; হাশিয়া আল-দুরর আল-মুখতাব উপর) ও ফতাওয়া-ই-আলমগিরী প্রভৃতি হানাফি গ্রন্থে খলওয়া/আকসরের মাধ্যমে ফিতনার সম্ভাব্য পথ বন্ধ করার গুরুত্ব আলোচিত। এই গ্রন্থগুলো সার্জমিনে বলে যে এমন সকল আচরণ যেগুলো পরকীয়ায় বা অবৈধ সম্পর্কের দিকে পরিচালিত করে তা থেকে বিরত থাকা ধরা হয়েছে, এবং প্রয়োজনীয়তা ও শালীনতার সীমা বজায় রেখে ভাই–বোন/পাত্র-পাত্রী’র জরুরি যোগাযোগ অনুমোদিত।
- আধুনিক হানাফি ফতোয়া-প্রচলন: বিভিন্ন হানাফি-ফতোয়া প্রতিষ্ঠান (যেমন: বদর/দারুল-ইফতা শাখা, জমিয়ত উলামা’র সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত) একই লাইন পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে বলেছে — বিবাহের প্রয়োজনেই দরকারি কথোপকথন করা যাবে; কিন্তু গোপন/রোমান্টিক/নেশাজাতীয় আলাপ, ছবি আদান-প্রদান ইত্যাদি মানা। (বিশেষ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দরস্থ আলেমের সাথে পরামর্শ গ্রহণ করা উত্তম)।

উপসংহার: সাধারণ নিয়ম — দরকারি ও শালীন আলাপ ততক্ষণ গ্রহণযোগ্য যতক্ষণ তা খলওয়া, ফিতনা বা নিয়ত-ভঙ্গের কারণ নয়। যদি সন্দেহ বা প্রবণতা থাকে — স্থগিত রাখুন এবং পরিবারের/মাহরামের মাধ্যমে বিয়ের ব্যবস্থা এগিয়ে নিন।