সামি বউকে বলে আমাকে তালাক দিস বা দে তালাক দিয়ে কোটি পতিকে বিয়ে করিস তবে সে তখনই বলেছে মনথেকে বলেনি এবং তার নিয়ত নেই তবে কি কোনো সমস্যা হবে
ifatwa.info (হানাফি মাযহাবের নীতি অনুসারে):
এই ক্ষেত্রে কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি এবং কোনো সমস্যাও নেই।
ব্যাখ্যা:
১.
তালাক-এ-সারিহ (স্পষ্ট তালাক) নয়: সামির কথাগুলো ("আমাকে তালাক দিস" বা "দে তালাক") সরাসরি তালাক ঘোষণার (যেমন: "আমি তোমাকে তালাক দিলাম" বা "তুমি তালাকপ্রাপ্তা") মতো স্পষ্ট শব্দ নয়। স্বামী যখন স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করে, তখন তার নিয়ত না থাকলেও তালাক হয়ে যায়। কিন্তু এখানে স্বামী নিজে সরাসরি তালাক দেননি, বরং স্ত্রীকে কিছু করার কথা বলেছেন।
২.
তালাক-এ-তাফউইজ (তালাকের ক্ষমতা অর্পণ) নয়: স্বামী স্ত্রীকে "আমাকে তালাক দিস" (অর্থাৎ "তুমি আমাকে তালাক দাও") বা "দে তালাক" (অর্থাৎ "তালাক দাও") বলার মাধ্যমে স্ত্রীর উপর তালাকের ক্ষমতা অর্পণ করার চেষ্টা করেছেন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু স্ত্রীর পক্ষে স্বামীকে তালাক দেওয়া সম্ভব নয়। একজন স্ত্রী কেবল নিজেকে তালাক দিতে পারে, যদি স্বামী তাকে সেই ক্ষমতা অর্পণ করে থাকে (যেমন: "তুমি নিজেকে তালাক দিয়ে নাও" বা "তোমার ব্যাপার তোমার হাতে") এবং স্ত্রী যদি সাথে সাথে তা গ্রহণ করে। যেহেতু স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারে না, তাই এই ধরনের অনুরোধ তালাকের ক্ষমতা অর্পণ হিসেবে গণ্য হবে না।
৩.
নিয়ত ও মনের অবস্থা: যেহেতু সামি মন থেকে কথাটি বলেননি এবং তার তালাকের কোনো নিয়ত ছিল না, এবং তার ব্যবহৃত শব্দগুলো তালাক-এ-সারিহ নয় বা বৈধভাবে তালাকের ক্ষমতা অর্পণকারী শব্দও নয়, তাই এই পরিস্থিতিতে কোনো তালাক সংঘটিত হবে না। এটি নিছক একটি নিরর্থক বা রাগের বশে বলা কথা হিসেবে বিবেচিত হবে।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়ায়ে আলমগিরী (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া), কিতাবুত তালাক: হানাফি ফিকহের এই প্রামাণ্য গ্রন্থে তালাকের শব্দাবলী, নিয়ত এবং তালাকের ক্ষমতা অর্পণের শর্তাবলী বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, অস্পষ্ট শব্দে বা ইঙ্গিতে তালাক দিলে তালাকের নিয়ত থাকা আবশ্যক, এবং তালাকের ক্ষমতা অর্পণ তখনই বৈধ হয় যখন স্ত্রী এমন কিছু করার ক্ষমতা রাখে। বর্তমান ক্ষেত্রে, স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে অক্ষম।
অতএব, সামি ও তার স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ আছে।