আচ্ছা আমি মনে মনে যে বলছিলাম এই কথাটা যেমন তোমাকে তালাক দিলাম একদম নীরব পরিবেশে দুইবার ঠোট জিহবা খুব কম নড়ছে আমি তো জানি ফতোয়া টা তাই এমন ভাবে বলছি যাতে আওয়াজ না আসে। কিন্তু জিহবার হালকা বাড়ি খাইছিলো কিনা মনে নাই যেটা ন্যাচারাল বাড়ি খায় মুখ হাল্কা নাড়লেই ওটাও যে আওয়াজ হিসেবে গন্য হতেও পারে জানতাম না।আনি জানতাম হালকা বা ফিসফিস আওয়াজে শুনতে হবে৷ শব্দ হয় নাই এটা মনে আছে কিন্ত জিহবা বাড়ি খাওয়ার হালকা আওয়াজ মনে নাই তালাক হবে কি?
আমার তো মনে আছে যে গলার আওয়াজ হয় নাই + ফিসফিস শব্দ হয় নাই কানে আসার মতো এক ফোটা শব্দও হয় নাই। বাইচান্স যদি এমন শব্দ বের হয় খুব হালকা যা মুখ নাড়ালেই হয় যেমন মুখ যত হালকা করে খোলা হোক না কেন জিহবার শিব্দ হয় সেই কারনেও কি তালাক পতত হবে?
এই উত্তরে ৪ নং এ যে তুমি বলছো ফিসফিস শুনছি কিনা মনে নাই। ভাই ফিসফিস ও শুনি নাই সেটা মনে আছে কিন্তু মনে নাই হলো ন্যাচারাল যেই শব্দ টা হয় জিহিজা তালুর সাথে ঘষা বা বাড়ির আওয়াজ যা কোন রকম জিহিবা নাড়ালেই হয় সেটা এখন পরীক্ষা করে দেখলাম অনেক দিন পর
তোমার শব্দ নিয়া সমস্যা আছে আমি তো জানি ফিসফিস বা গলার আওয়াজ হলে হবে না। কিন্তু মুখ নাড়লে শব্দ না আসলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পট টপ ট শব্দ হয় ই এটা ফিসফিস না হলেও হয় তাইলে কি হবে? এটা তো মনে নাই ধরে নিবো চান্স থাকতেও তো পারে কারন অনেক দিন পর টেস্ট করে ওই আওয়াজ পাইছি এক দুইবার হয়তো পাই নাই
সংক্ষিপ্ত উত্তর (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী):
- যদি তুমি মুখ-ও জিহবা নড়িয়ে কথা বলার সময় কোনো আওয়াজই সৃষ্টি না করো (নীরবে কেবল ঠোঁট/জিহ্বা নড়ানো, কণ্ঠ থেকে কোনো শব্দও না উঠা) এবং স্ত্রী বা পাশে থাকা কেউ শুনেনি — তাহলে তালাক পরিণত হবে না। (অর্থাৎ নীরব ভাবেই মনে-ই বলে ফেললে তালাক না।)
- কিন্তু যদি কথাটি বলার সময় কণ্ঠ থেকে কিছু আওয়াজ বের হয়েছিল (অল্প হলেও) এবং তা শুনতে পাবে এমন কেউ—বিশেষত স্ত্রী—শুনেছেন বা শুনতে পেয়েছিলেন, তাহলে সেই আওয়াজে উচ্চারিত lafz যদি "আমি তোমাকে তালাক দিলাম" ইত্যাদি স্বরুপ বোঝানো হয়ে থাকে, তখন talaq বৈধ হতে পারে।
- তুমি নিশ্চিত নও যে শব্দ বাইরে এসেছে নাকি না, বা স্ত্রী শুনেছে নাকি না — এমন সন্দেহ থাকলে হানাফি বসস্থায় সাধারণ বিধান হলো: যেহেতু স্পষ্ট প্রমাণ নেই, সাধারণত বিবাহ বহাল ধরা হয়; কিন্তু যদি সম্ভাব্যতা থাকে যে আওয়াজ বের হয়ে স্ত্রী শুনে ফেলেছে, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচ্য। সর্বোপরি নিশ্চিত করতে স্থানীয় আলেম/মুফতি’র কাছে প্রশ্ন করে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি (কাউকে শুনেছে কি না, কী lafz বলার উদ্দেশ্য ছিল ইত্যাদি) জানানো উত্তম।
মূল শর্ত ও ক্লাসিক্যাল রেফারেন্স (হানাফি):
- আল-হারিদিয়্যাহ/আল-হিদায়া (شرح المرقنة لمرغيناني): উচ্চারণ থেকে শব্দ হওয়া এবং শব্দ শোনা হওয়া গুরুত্বপূর্ণ — চুপচাপ বা কেবল মানসিক ভাবনাই তালাক নয়।
- ردّ المحتار على الدرّ المختار (ابن عابدين, হাশিয়া): যদি শব্দ উঠেনি বা কেউ শুনেনি, তবে তালাক প্রতিষ্ঠিত হয় না; কিন্তু যদি স্বর উঠেছে এবং তাকে শোনা যায়, তবে তা বাধ্যতামূলক হবে।
- الفتاوى الحنفية / الفتاوى العمرية (الفتاوى الهندية / اللبز): একই ব্যবধান—همس إذا لم يسمع لم يجز، وإذا سمع فهو معتبر।
প্রয়োগ (তোমার বর্ণনা অনুযায়ী):
- তুমি বলেছো “গলার আওয়াজ ছিল না” এবং “ফিসফিসও শোনা যায়নি” — এই অবস্থায় হানাফি শরঈদৃষ্টিতে talaq গন্য হবে না।
- যে সামান্য "পট-টপ" বা জিহ্বা/তালু ঘষার טבעগত শব্দগুলো যেগুলো মুখ নড়ালে স্বাভাবিকভাবে হয়, সেগুলো যদি distinct lafz (ইউনিসন “তুমি-কে তালাক”) হিসেবে উচ্চারিত না হয়ে কেবল স্বাভাবিক মেকানিক্যাল শব্দ হিসেবে বের হয়েছে, তা তালাক নয়; কিন্তু যদি সেই আওয়াজের মধ্যে lafz-এর স্বর বের হয়ে ঠিকভাবে বোঝা যায় এবং শুনতে পেয়েছে — তখন তা বিবেচ্য হবে।
রেফারেন্স (হানাফি সূত্রাবলী):
- Al-Hidaya (Sharh al-Marghinani) — Kitab al-Nikah, شرح أحوال اللفظ والهمس في الطلاق.
- Radd al-Muhtar ‘ala al-Durr al-Mukhtar’ (Ibn Abidin) — المسائل المتعلقة بالهمس واللفظ في الطلاق: "إذا تهامس ولم يسمع لم يجز، وإذا سمع فقد وقع".
- Al-Fatawa al-Hindiyya / Fatawa Alamgiri — مسائل مربوطہ باللفظ والسمع في الطلاق.
(উপরের গ্রন্থসমূহেই হানাফি উকুলের প্রচলিত আলোচনা পাওয়া যায়; নির্দিষ্ট শব্দ-প্রমাণ ও শ্রবণপ্রমাণ না থাকলে সাধারণভাবে তালাক গণ্য করা হয় না।)