☘অনুশীলন-১☘
প্রশ্ন:
ক. বিছানা বা তোষকে বাচ্চা /বিড়ালের পেশাব লাগলে তা যদি বারবার ধোয়া সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে কি নাপাক বিছানা
খ. মোটা বিছানা বা তোষক নাপাক হয়ে গেলে তা পাক করার পদ্ধতি কি? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর (হানাফি মাযহাব) — রেফারেন্সসহ
সংক্ষেপে মূল নীতিসমূহ (হানাফি):
- মানুষের মূত্র নাজায়েজ (নাজিশ)। মূত্র লাগলে তা ধোয়া প্রয়োজন। (Al-Hidayah, Kitāb al-Ṭahārah)
- বিড়াল (cat) সাধারণ হানাফি অবস্থান অনুযায়ী পবিত্র; তার মল-মূত্রকে নাজিস গণনা করা হয় না। (Radd al-Muḥtār ‑ Hashiyah ʿalā Durr al-Mukhtār; Al-Hidayah — আলোচনা অনুযায়ী)
অ. বাচ্চা/বিড়ালের পেশাব লাগলে বিছানা নাপাক কি?
1) বাচ্চার/মানুষের পেশাব: এটি নাজিস। পেশাব যদি বিছানার উপর লেজে থাকে এবং স্পষ্টভাবে দেখা/মহসুস করা যায় বা ভেজা থাকে — তখন বিছানাটি নাজিস; পরিশোধন (ধোয়া) ছাড়া তা পাক বলা যাবে না। (Al‑Hidayah, Kitāb al‑Ṭahārah)
2) বিড়ালের পেশাব: হানাফি মতানুসারে বিড়ালের পেশাব সাধারণত পবিত্র ধরা হয়, অতএব আলাদাভাবে পাক করার প্রয়োজন নেই। (Radd al‑Muḥtār, Hashiyah; Al‑Hidayah — Hanafi ijmā‘ ও মতানুযায়ী)
বিডিটেই প্রয়োগিক কারণ: যদি বিড়াল ছাড়া অন্য কোনো নাজায়েজ মিশে যায় বা মিশ্রিত হয়ে রং/গন্ধ/চিহ্ন থেকে যায়, তখন সেই দিক থেকে বিচার হবে — তবে সাধারণভাবে বিড়ালের নির্দিষ্ট মূত্রকে হানাফি নাজিস ধরে না।
বি. মোটা বিছানা/তোষক নাপাক হলে পাক করার পদ্ধতি (বিস্তারিত, হানাফি নির্দেশনা)
1) প্রথম কথা: যতটা সম্ভব নাজায়েজ সরিয়ে ফেলুন — শুকিয়ে থাকলে শুকনো অংশ ঝাড়া বা কুঁচি-ফুঁকি করে খুলে ফেলুন। (Al‑Hidayah)
2) কভার (যদি আলাদা) থাকলে কভার খুলে আলাদা করে ধুয়ে নিন — কাপড়ের উপর লেগে থাকলে সাধারাণভাবে সাধারণ ধোয়ার নিয়ম প্রযোজ্য: ঘোর পানি দিয়ে রং/চিহ্ন/গন্ধ না থাকা পর্যন্ত ধোয়া। (Al‑Hidayah: কাপড়ের পবিত্রকরণ জন্য ধোয়া যতক্ষণ না পর্যন্ত দাগ/রং অদৃশ্য)
3) যদি মূত্র ভিতর পর্যন্ত সংক্রমিত হয়ে যায় (মোটা তোষকের ভেতরের ফিলিং/প্রাচীর ইত্যাদিতে) এবং পুরো ধোয়া সম্ভব না—তাহলে:
- সম্ভব হলে সংক্রমিত অংশ (ভর্তি পদার্থ, সাদা ফোম, তুলো ইত্যাদি) বের করে বদলে ফেলুন বা আলাদাভাবে ধুয়ে ফেলুন।
- যদি তা করা সম্ভব না হয়, তাহলে উপরের দিকে নরম, পবিত্র (ধোয়া-সক্ষম) কভার/শীট প্রচুরভাবে পার করুন বা Impermeable (প্লাস্টিক/রাবার) এমন একটি পরিষ্কার লেয়ার ব্যবহার করুন যাতে শরীর সরাসরি নাজিস স্পর্শ না করে। হানাফি মাধাব অনুযায়ী এমন একটি পরিষ্কার আবরণ থাকলে আপনি সেটার উপর বসতে/ঘুমাতে পারবেন; কিন্তু তোষকের নিজে যদি অনিরুদ্ধভাবে নাজিস অবস্থায় থেকে যায়, সেটা নিজে করে পবিত্র হবে না যতক্ষণ না মূল নাজাসা উঠানো/ধোয়া হয়েছে। (Radd al‑Muḥtār; Al‑Hidayah — اصول: إزالة النجاسة بالغسل أو ازالة الجزء المتنجس)
4) প্রয়োগিক নিয়ম (ধারা):
- দাগ/চিহ্ন/গন্ধ মুছে না গেলে ধুয়ে-পরিশোধন না হওয়া পর্যন্ত পবিত্র নেবে না।
- শুকিয়ে গেলে এবং যদি দাগ/রং/গন্ধ আর দেখা/মহসুস না যায়, তাহলে হানাফি কাছে তা পাক গণ্য হবে। (Al‑Hidayah; Radd al‑Muḥtār — قاعدة: زوال أثر النجاسة زوالها)
5) নামাজ/বাসার অন্যান্য আবশ্যিক ক্ষেত্রে:
- যদি তোষকের উপরে পরিষ্কার, ধোয়া-যোগ্য শীট/মাহফিল বেধে দেওয়া হয় এবং আপনি সে শীটেই বসেন/প্রার্থনা করেন, তাহলে তাতে সমস্যা নেই; কিন্তু খোলা নাজিস তোষকের উপর নামাজ করা জায়েজ নয় যতক্ষণ না তা পাক করা হয়েছে বা তার উপরে পবিত্র আবরণ আছে। (فقه الطهارة: تغطية النجس بستر طاهر يكفي لمنع الاحتكاك)
হেদায়ত-ধাঁচ—রেফারেন্স (হানাফি মূল গ্রন্থের সারণি):
- Al‑Hidayah (Imam al‑Marghinani) — Kitāb al‑Ṭahārah (ধোয়া ও কাপড়/বস্ত্র/বিছানার পবিত্রকরণ সম্পর্কিত উদ্ঘাটন)
- Radd al‑Muḥtār (Ibn ʿĀbidīn), Hashiyah ʿalā Durr al‑Muḥtār — Kitāb al‑Ṭahārah (নাজাসা, ময়লা, ঢাকনা ও ইস্তিহাল ইত্যাদি বিষয়ে হানাফি হাশিয়া)
সংক্ষিপ্ত ব্যবহারিক উপদেশ:
- শিশুর পেশাব লাগলে দ্রুত ভেজা অংশ পানি দিয়ে ধুয়ে নিন; শুকিয়ে গেলে যদি দাগ/গন্ধ না থাকে, তখন পাক।
- বিড়ালের পেশাব হলে সাধারণত বিশেষ ধোয়ার দরকার নেই (হানাফি অনুযায়ী), তবে দাগ/গন্ধ থাকলে তা সরিয়ে নিন।
- বড় তোষক ভিতরে দিয়ে নোংরা হয়ে গেলে যোগ্য হলে ভেতরের পদার্থ বদল/ধোয়া করুন, না পারলে পরিষ্কার-ধোয়া-able কভার বা প্লাস্টিক লেয়ার ব্যবহার করুন; নামাজের সময় নিশ্চিতভাবে পবিত্র আবরণ ব্যবহার করুন।
(উপরোক্ত হানাফি নীতিসমূহের বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য দেখুন: Al‑Hidayah — Kitāb al‑Ṭahārah; Radd al‑Muḥtār (Hashiyah Ibn Abidin) — Kitāb al‑Ṭahārah.)