মনে মনে তালাকের ক্ষেত্রে আওয়াজ হইছে কিনা মনে নাই বা এত আস্তে ঠান্ডা পরিবেশ এ বলছে যে কানেই আসে নাই। তাইলে তালাক ধরা হবে?
এখানে আরেকটা সন্দেহ আছে অন্য কাউকে ইমাজিন করে বুঝানোর উদ্দেশ্য এ মনে মনে তালাক দিছে
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
- কেবল মনে (হৃদয়ে) ভাবলেই তালাক হবে না। (বাতিল)
- যদি ভাষ্য ঝরিয়ে জিহ্বা/মুখ দিয়ে লফ্জ উচ্চারিত হয় — এমনকি খুব ধীরে বা ফিসফিস করে — তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে, এমনকি স্ত্রী শুনেনি বলেও হোক। (সঠিক/বৈধ)
- কেবল কল্পনা করে অন্য কাউকে ইমাজিন করে “বলার মতো” মনে-manner-এ করলে তা কেবল মানসিক ভাবনা; তালাক হবে না।
রেফারেন্স (হানাফি):
1. আল-হিদায়া, কিতাবুল-তালাক — তালাক কেবল নিয্যতের উপর স্থিত নহে; তালাক মূলত কাওল (উচ্চারণ) দ্বারা হয়। (Al-Hidayah, Kitab al-Talaq)
2. রাদ্দু ল-মুক্তার (হাশিয়্যাহ ইবন্ আবীদীন) — মানসিক নিয্যেত/ভাব কেবল দিয়ে তালাক পড়ে না; কোন লফজ মুখে উচ্চারিত হলে তা বৈধ; এমনকি কোর-কথা উচ্চারণ করা হলেও যদি স্ত্রী শুনেনি, তবুও উচ্চারিত কাওলকে তালাক ধরা হয়। (Ibn Abidin, Radd al-Muhtar, Hashiya `ala Durr al-Mukhtar, Kitab al-Talaq)
3. ফতাওহ ইহকাম/ফতাওহ হিন্দিয়া (হানাফি পরিচিত সূত্রসমূহ) — সাধারণভাবে হানাফি প্রথা মতে কেবল হৃদয়ে থাকা মানসিক কথা তালাক নয়; উচ্চারিত লফজই প্রভাবিত করে। (Fatawa Hindiyya / classical Hanafi fatawa)
সংক্ষেপে: যদি আপনি কেবল মনে-মনেই বলেছেন বা কল্পনা করে অন্যকে উদ্দেশ্য করে “বলেছেন”, তা তালাক নয়। কিন্তু যদি জিহ্বা/মুখ দিয়ে কোনো লফজ উচ্চারিত হয়েছে (যাই হোক তত্ক্ষণাৎ ধীরস্বরে), তা হলে হানাফি অনুযায়ী তালাক ধরা হবে (শর্ত অনুযায়ী)।