মারাত্মক জীনের রোগী আছরের জন্য কন্ট্রোল হারিয়ে মুরুব্বিকে থাপ্পড় মারেন রোজা রেখে। রোগী নিজে অজ্ঞান হননি তখন, তবে সব বুঝতে পারলেও নিজের উপর কন্ট্রোল ধরে রাখতে পারেননি। এই অবস্থায় রোজা কনটিনীউ করেছেন। রোজাটা কি হয়েছে?
বিসমিল্লাহ الرحمن الرحيم।
সংক্ষেপে ফতোয়া (হানাফি):
- এই কেসে রোজা নষ্ট হয়নি। সাধারণ হানাফি বিধান অনুযায়ী কেবলমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকটি কাজ রোজা ভাঙে (খাওয়া, পান করা, অন্তস্ত্যাগে/মিশনে প্রবেশ, ইচ্ছাকৃত বমি ইত্যাদি); কারোকে থাপ্পড় দেওয়া বা আঘাত করা রোজা ভাঙ্গার অযথা কারণ নয়। (দৃঢ় উত্স: al-Hidayah — Kitab al-Siyam; Radd al-Muhtar (Ibn ʿAbidin) উপর মন্তব্য।)
- যদি ব্যক্তি সম্পূর্ণ অজ্ঞান বা পাগল (majnoon) হয়ে গিয়ে এমন কাজ করে, তাহলে সেটাও তার বিরুদ্ধে হিসাব বসে না; রোজা তারই মতোই গণ্য থাকবে। যদি সে সচেতন ছিল কিন্তু জীনের আক্রমণে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারায় — শারীরিকভাবে কিয়াদায় নাও ছিল — রোজা তবু নষ্ট হবে না, তবে সে পাপের দায়ে দায়ী থাকবে (অর্থাৎ তাওবাহ করা উচিত এবং যদি অন্যকে ক্ষতি বা দণ্ড-চাহিদা হয় তবে তার সম্মতি/ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি দেওয়া লাগবে)। (রেফারেন্স: Radd al-Muhtar — আলোচনা কম্পালসন/জবরের বিষয়ে; Fatawa al-ʿAlamgiriyya ও অন্যান্য হানাফি লেখা।)
- একটি সতর্কতা: যদি সেই ঘটনার ফলে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খেয়ে-পান করে, ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, কিংবা অন্যভাবে রোজার স্পষ্ট নস্যাৎকারী কাজ করে, তাহলে রোজা নষ্ট হবে (এমন কিছু ঘটলে আলাদা নিয়মানুবর্তিতা প্রযোজ্য)। involuntary/forceful (বাধ্যতাজনিত) বমি সাধারণত রোজা নষ্ট করে না — ইচ্ছাকৃত বমি নষ্ট করে। (রেফারেন্স: al-Hidayah; Ibn ʿAbidin।)
রেফারেন্স (হানাফি গ্রন্থসমূহ):
- Al-Hidayah (Kitab al-Siyam) — مباحث ما يفطر الصائم وما لا يفطر.
- Radd al-Muhtar ʿala ad-Durr al-Mukhtaar (Ibn ʿAbidin) — فقه أحوال الإكراه والجنون وما يتعلق بصوم.
- Fatawa al-ʿAlamgiriyya (Alamgir) — متعلق بالمسائل العملية للصوم.
নিচে সংক্ষিপ্ত নির্দেশ:
- রোজা: বৈধ। ক্বদা/কফারা লাজিম নয়।
- দায়িত্ব/পাপ: যদি সচেতন ছিল, তাওবাহ ও আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি ক্ষতিপূরণ/মাফির বিধান মেনে চলতে হবে; যদি পুরোপুরি অজ্ঞান/পাগল ছিল, তখন দায়-দায়িত্ব থাকবে না।
সমাপ্ত।