রমাদানে একটা ফরজ রোজায় একজন ব্লাক ম্যাজিকের মেয়ে পেশেন্ট অজ্ঞান হয়ে কাঁপুনি শুরু হয়ে মনে হয় তাকে কেউ মেরে ফেলতে চায় এমন একটা অবস্থা । এ অবস্থায় তাকে তার পরিবার তার অজান্তে জমজম + দুআ পড়া পানি মুখের ভিতর দিয়ে দেয় কিন্তু সামান্যই দিতে পারে কারণ দাঁতে খিল লেগে যায়। আজ সেই পেশেন্ট শাওওয়াল + আইয়্যামে বীজের রোজা ছিল। আজকেও একই অবস্থা হয় এবং আজকেও একইভাবে তার অজান্তেই তাকে সামান্য পানি দেয়া হয়। কিন্তু রোগী একটাতেও ব্যক্তিগত ভাবে কিছু খায়নি।
♦️আমার প্রশ্ন হচ্ছে সেই ফরজ রোজা এবং এই সুন্নত রোজা ২ টাই আবার রাখতে হবে? যদি আবার রাখতে হয় তাহলে আইয়্যামে বীজেরটা কবে রাখবে? কারণ আজতো সেটার তারিখ শেষ। আগামীকাল থেকে শুধু শাওওয়ালের বাকি ৩ টা রাখার নিয়ত ছিল।
উল্লেখ্য : পেশেন্ট ৩ বছর ধরে জটিলভাবে যাদুতে আক্রান্ত। প্রথমে এই অজ্ঞান হবার ব্যাপার ছিল না দিন দিন বাড়তেছে। একাধিকবার রুকিয়ার চেষ্টা করেছিল কিন্তু যাদুটা জটিল খুব একটা লাভ হয়নি।চোখ বন্ধ করে মুখের ভিতর খাবার দেয়া,গায়ে কিছু দিয়ে দেয়া আবার চলার পথে সরাসরি পানি ছিটানো চলমান। সেলফ রুকিয়া করতে গিয়াই সর্বপথম অজ্ঞান হয় আর খাদেম জিন তাকে আঘাত করে আহত করে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের সাথে খাদেম আছে আর এছাড়া মাছি আকারে ২ খাদেম জীন ঘোরে যাদু প্রোটেকশনের জন্য। অনেক মাছি মারা হইছে কিন্তু ওরা বহালই আছে। সেলফ রুকিয়াতেও বাঁধা দেয়। আর যাদু বার বার রিনিউ করা হয়। ভালো থাকতেই দেয় না। পুরো পরিবারই আক্রান্ত তবে তার সমস্যা বেশি। রোগীর পিতা মানে ঘরের কর্তা রুকিয়ার বিপক্ষে। তাই এটা নিয়ে নিজ শহর ছেড়ে দূরে কোথাও গিয়ে রুকিয়া করা সম্ভব হচ্ছে না। পিতা বুঝতে চায় না। সে নিজেও আক্রান্ত কিন্তু বুঝতে চায় না। তাদের জন্য সকলের নিকট খাসভাবে দুআ চাই।
সংক্ষিপ্ত হুকুম (হানাফী):
1) রোজা ভাঙেছে কি না — মূল নীতিঃ
- যদি দেওয়া পানি/রুকিয়া-পানি মিষ্টভাবে মেদেতে (ঘাড়/গলাও হয়ে) পৌঁছে গিয়ে দানা বা গিলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে গেছে — তা হলে ফরজ রমজানের রোজার কদা (পূরণ) রাখা বাধ্য।
- যদি পানিটুকু মুখে দেওয়া হলেও গলায় না যায়, কাঁপুনি বা দাঁতের খিলের কারণে গিলে না যায়, বা বাইরে ফেলে দেয়া হয়, তাহলে রোজা টিকেই থাকে—কোনো কদা দরকার হয় না।
সুতরাং সিদ্ধান্তটা নির্ভর করে যে পানি/খাবারটি প্রকৃতভাবে গলায় ঢুকে পাকস্থলীতে পৌঁছেছে কিনা।
2) শাওয়াল ৬ দিন ও "আইয়্যামে বীজ" (বেইদ/বস্তুত সক্রিয় নফল) সম্পর্কেঃ
- শাওয়ালের ছয় দিন ও অন্য যেসব নফল রোজা ছিল, সেগুলোও একইভাবে ধরা হবে — যদি ঐ দিনগুলোতে সত্যিই কিছু গিলে থাকে তাহলে ঐ নফল রোজাগুলোও ভাঙেছে এবং পরে কদা রাখতেই হবে; যদি গলা না যায়, তাহলে ভাঙে না।
- নফল রোজাগুলো কদা রাখা জরুরি নয় যে অবশ্যই পরপরই রাখতে হবে; এগুলো পরবর্তীতে সুবিধা অনুসারে যে কোন সময় পূরণ করা যাবে। শাওয়ালের ছয় দিন কেও পরে টুকরো টুকরো অন্য সময়ে রাখা যায়।
3) অতিরিক্ত হুকুম ও ব্যবস্থা:
- রোগী দীর্ঘকাল জটিল অবস্থায় থাকলে, যদি নিয়মিত রোজা করা তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয় বা খুব কষ্ট হয়, হানাফী রায় অনুসারে সে রোজা না করেও পরে কদা বা স্থায়ী অসুস্থ্য হলে ফিদিয়া দিতে পারে — এটি নির্ধারণের জন্য স্থানীয় আলেম/ফকিহের সাথে পরামর্শ করুন।
- পরিবারের কেউ অজান্তে বা জোর করে মুখে কিছু দিলে, রোজা ভাঙার বিষয়ে উপরোক্ত শর্ত (গলায় পৌঁছেছে কি না) বিবেচ্য। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে যতটা সম্ভব চিকিৎসা-সহায়তা ও যোগ্য রুকিয়াকারী নেয়া উচিত; জোর করে মুখে খাবার/পানি দেওয়া এড়ান।
প্রমাণ (হাদিস): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম্র বাণী: “যে ব্যক্তি রোজায় থাকা অবস্থায় ভুলে খায় বা পান করে, সে খেয়ে ফেলুক; কারণ সে রোজা ছিল না; আল্লাহ্ তাকে খাইয়েছেন।” (সহীহ বুখারি) — এই হাদিসে ভুল করে/অনিচ্ছাকৃতভাবে খাওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমার নির্দেশ আছে, যেটি আমাদের সিদ্ধান্তে রেফারেন্স দেয়।
দুআ (আরবি ও বাংলা অর্থ):
- عربي: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
- বাংলা অর্থ: “আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কথার আশ্রয় চাই, প্রতিটি শয়তান ও ক্ষতিকর জিন, এবং প্রতিটি ক্ষতিকর নজর থেকে।”
- আর দোয়া করুন: “اللهم فكَّ أَسرَهُم وَاشفِ مَرِيضَهُم وَاحمِهِمْ وَاغْنِهِمْ بِحلالِكَ عَنْ حرامِك” — (তাদের বাঁচাও, রোগ সারাও, রক্ষা করো এবং তামাম বিপদ থেকে মহান সুরক্ষা দাও)।
নিবেদন: পরিস্থিতি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি — মাশাআল্লাহ দ্রুত চিকিৎসা ও যোগ্য রুকিয়াকারী, এবং নিকটস্থ একজন ভদ্রস্থানীয় আলেমের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরামর্শ গ্রহণ করা সর্বোত্তম। আল্লাহ্ তওফীক দিন।