আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহর গুনবাচক নাম যেগুলা সরাসরি ডাকা জায়েজ নেই।যেমন খলিক্ব,রমহমান,রাজ্জাক।কেউ যদি এইসব নামের অর্থ জানে যেমন রহমান মানে দয়ালু। তাই কেউ আল্লাহ যেভাবে দয়া করেন সেই ব্যাক্তিও সেইভাবে দয়া করেন এইটা চিন্তা না করে বা এমন বিশ্বাস না রেখে এমনিতেই শুধু রহমান বলে ডাকে ইচ্ছা করেই তবে কি শিরক হবে না তার ঈমান চলে যাবে?মানে এই নামের অর্থ যা তা সেই ব্যাক্তি আল্লাহর মতন নয় এমন বিশ্বাস রেখে যদি আব্দুল ব্যবহার না করে ডাকে তবুও কি শিরক হবে ঈমান চলে যাবে?
আসসালামু আলাইকুম।
সংক্ষেপে হুকুম (হানাফী ফিকহ অনুযায়ী) —
- আল্লাহর গুনবাচক নামসমূহ (যেমন: الخالق, الرحمن, الرزاق ইত্যাদি) কুরআনেরই নাম; এগুলো আল্লাহর নিজস্ব উচ্চন ও মর্যাদাসম্পন্ন নাম। (সূরা আল-হাশর: 59:24)*
- যদি কেউ এই নামগুলো দিয়ে কারোকে ডাকে এবং একইসঙ্গে বিশ্বাস করে যে সেই ব্যক্তি আল্লাহর মত একই স্বভাব, একই ক্ষমতা বা দিভ্য গুণে অংশীদার—অর্থাৎ আল্লাহর আল্লাহিয়্যত, তিনি যে কিছুর মাধ্যমে একমাত্রাত্মক—এমনটা লোকটিঃ তাহলে তা শিরক/কুফরে গড়াতে পারে এবং ঈমানের জন্য মারাত্মক।
- কিন্তু সাধারণভাবে, কেউ অসচেতনভাবে বা প্রশংসার তাগিদে কাউকে ঐ নাম দিয়ে ডিলে, অথচ তার অন্তরে আল্লাহর সঙ্গে কোনো সমতা বা ঐশ্বরিক ক্ষমতা ধারণা নেই — তখন তা সাধারণভাবে গাফিলতি/গোনাহ বা বিস্ময়কর আচরণ; শিরকপর্যায়ের দরজা না খোলে কুফর নয়। তবে এধরনের শব্দচ্যুতি থেকে বিরত থাকা উত্তম ও নিরাপদ; নামকরণে 'عبد' (যেমন: عبدالرحمن) বা অন্য বর্ণনামূলক শব্দ ব্যবহার করা প্রয়োজনীয় সুন্নত ও শ্রেয়।
নিষ্কর্ষ: নাম বলার সময় যদি আপনি নিশ্চিতভাবে মনে না করেন যে সেই মানুষ আল্লাহর সমকক্ষ, তাহলে আপনার ঈমান যায় না; কিন্তু এমন নাম দিয়ে ডাকতে অনভিপ্রেতেও অবহেলা ভাল কাজ নয় — ঝুঁকি এড়াতে এ ধরনের নাম ব্যক্তির জন্য নিজেরমতো ব্যবহার করা উচিত নয় এবং তাও হলে তাওৎবীহ ও তাওবাহ করা।
তথ্যসূত্র: কুরআন — সূরা আল-হাশর (59):24।