🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমার হাসবেন্ড জাপান যাচ্ছে ইনশাল্লাহ। ৭ তারিখ রাত ২ টায় ফ্লাইট এবং পৌছাবে ৮ তারিখ বিকাল ২/৩ টায়। বাংলাদেশ আর জাপানের সময়ের পার্থক্য ৩ ঘন্টা। বাংলাদেশে যোহরের ওয়াক্ত থাকতেই জাপানে আসর, মাগরিব হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন নামাজের ওয়াক্ত কীভাবে হিসাব করবে? নামাজের কিবলা কীভানে বুঝবে?
নামাজের ওয়াক্ত বিষয়ে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী মূল নীতি—কোন স্থানে আপনি শারীরিকভাবে অবস্থান করছেন সেই স্থানের ওয়াক্ত মেনে চলবেন। অর্থাৎ বিমান উড়ছিল কোথায় (যে দেশের উপরে বা যেই টাইমজোনে আপনি তখন আছেন) সেই জায়গার স্থানীয় ওয়াক্ত অনুযায়ী নামাজ পড়বেন। ফলে বাংলাদেশ ও জাপানের সময় পার্থক্য +৩ ঘণ্টা হলে, জাপানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী যদি সেখানে আসর/মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হয়ে থাকে আপনার বিমান তখন জাপানের সময় অঞ্চলে থাকলে আপনাকে আসর/মাগরিব সেই সময়েই অনুষ্ঠিত ধরা হবে, আর যখন বিমানে আপনি এখনও বাংলাদেশীয় টাইমজোনে থাকেন তখন বাংলাদেশের ওয়াক্তই প্রযোজ্য।

প্রায়োগিক টিপস:
- প্লেনে থাকাকালীন আপনার স্মার্টফোনে GPS অন করে যে দেশ/টাইমজোনের উপর উড়ছেন সেটির স্থানীয় সময় দেখবেন, বা ক্রু-কে জিজ্ঞাসা করবেন; সেই অনুযায়ী প্রার্থনার ওয়াক্ত নির্ধারণ করুন।
- যদি নির্দিষ্ট জায়গার সময় জানানো না যায়, তবে যেখানে প্লেন ক্রমাগত অবস্থান করছে তার নিকটতম বড় আবাসিক স্থানের (নির্ভরযোগ্য) ওয়াক্ত অনুসরণ করুন।
- ওয়াক্ত শুরু হলে যতক্ষণ সেই ওয়াক্ত বজায় থাকে ততক্ষণই নামাজ আদায় করতে হবে; যদি ওয়াক্ত পেরিয়ে যায় তবে পরে ক্বাদা (Qada) করতে হবে।

কিবলা সম্পর্কে:
- বিমানেই কিবলা জানার সহজ উপায় হলো কিবলা অ্যাপ বা কম্পাস ব্যবহার করা; অনেক স্মার্টফোনে কিবলা অ্যাপ আছে যা আপনার জিপিএস অবস্থান অনুযায়ী কিবলার দিক দেখায়।
- যদি অ্যাপ না থাকে তবে ক্রুকে জিজ্ঞাসা করুন, বা বিমান মানচিত্র/নেভিগেশন দেখেই আন্দাজ করুন। সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হলে যতটা সম্ভব মক্কা (কিবলা) এর সাধারণ দিকেই মুখ করে নামাজ পড়ুন—হানাফি রায়ে আনুমানিক দিক গ্রহণ করলেই চলে; যদি একেবারেই নির্ধারণ না করা যায় তবুও নামাজ পড়া বাতিল হয় না, ইচ্ছা কিবলার প্রতি থাকবে।
- বিমান আসনে বসেই নামাজ করা বাধ্যতামূলক নয়; যদি দাঁড়িয়ে পড়া সম্ভব না হয় তবে বসে (যথার্থ রুকু-সজ্দা না হলে) সামান্য রুকু/সজ্দার বদলে ইঙ্গিতপূর্ণ হাব-আকিব করলে চালিয়ে নেওয়া যায় (যদি পরিস্থিতি কঠিন হয়)। ক্রু-র অনুমতি নিয়ে গ্যালিতে বা মুক্ত স্থানে যথার্থভাবে নামাজ আদায় করা উত্তম।

তথ্যসূত্র (হানাফি ফিৎহ): Al-Hidayah (Kitab al-Salah) — ওয়াক্ত ও محل অনুসারে নামাজ আদায়ের বিষয় আলোচনা।