🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

শিরক নিয়ে জানতে চাই
ifatwa.info — হানাফী ফিকহ অনুসারে:

শিরক (শিরকুল্লাহ) অর্থ: আল্লাহর সাথে কাউকে বা কিছুকে একই উদ্দেশ্য, দেবতা, রব বা ইলাহ হিসেবে স্থাপন করা — অর্থাৎ আল্লাহকে ভাগ করা। সাধারণত দুই ভাগে বর্ণনা করা হয়:

1) বড়ো শিরক (শিরকুল আকবার) — যে কাজ ইসলামের মূল ঈমান-বিশ্বাসের বিপরীত; যেমন কাউকে আল্লাহর মতো ইবাদতের অধিকারানো দেওয়া (পূজা, ঠেকানো-চাহিদা আদায় ইত্যাদি), অথবা আল্লাহকে ছাড়া কাউকে রব ওমুকার দায়িত্ব চাপানো। বড়ো শিরককারী ঈমান থেকে বেরিয়ে যায় (কাফির) যতক্ষণ না সৎভাবে তাওবা করে এবং শিরক ত্যাগ করে।

2) ছোটো শিরক (শিরকুল আসগর) — যে কাজ ঈমানকে সরাসরি নাশ করে না কিন্তু ইবাদতে রিয়া (দেখানাও) বা আল্লাহ ছাড়া মানুষের প্রশংসার উদ্দেশ্যে আল্লাহকে সহযোগী করাকে বোঝায়। উদাহরণ: নামাজে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য বেশি ইশারা করা, নাকাবিল কাজ আল্লাহর নামে করে মানুষের খুশির জন্য প্রকাশ করা। ছোটো শিরক ব্যক্তিকে কটাক্ষযোগ্য কিন্তু যদি সৎ তাওবা না করে, ফিতর বিকৃত করে; বড়ো শিরকের মত সরাসরি কাফির বানায় না (হানাফী মসন্্নদে রুলিং অনুযায়ী)।

শাস্তি ও পরিণতি: শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ; আল্লাহ শিরককে ক্ষমা করবেন না যদি মানুষ মৃত্যুপ্রাপ্ত অবস্থায় তা বজায় রাখে। কুরআনের একটি স্থাপন (একটি মাত্র রেফারেন্স) বিখ্যাতভাবে বলেছে:
إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ
(সূরা নিসা 4:116)
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক বসালাকে কদাপি ক্ষমা করবেন না; আর তার চেয়ে কম পাপ তিনি যাকে চান ক্ষমা করে দেন।”

তাওবার বিধান (হানাফী দৃষ্টিতে সংক্ষিপ্ত): বড়ো শিরক থেকে ফিরে আসতে চাইলে অবশ্যই — (1) শিরককরণ ত্যাগ করা; (2) আন্তরিক অনুশোচনা ও অনুতাপ; (3) ভবিষ্যতে ফিরিয়ে না আনার দৃঢ় সংকল্প; এবং যেখানে সম্ভব, যাদের অধীনে কষ্ট বা অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে তাদের সঙ্গে কেড়ে নেয়া/সংশোধন করা। এই শর্তগুলি পূরণ করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন।

কী করা উচিত (সংক্ষেপে): নিজের ইবাদত পরীক্ষণ করুন—রিয়া আছে কি না—পবিত্র কিবলায় ফেরত যান, তওবা করুন, আল্লাহর একত্বে দৃঢ় হোন এবং আল্লাহ শিক্ষা (কুরআন-সুন্নাহ) অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করুন।

(রেফারেন্স: কুরআন, সূরা নিসা 4:116)