প্রশ্ন:
ক. বিছানা বা তোষকে বাচ্চা /বিড়ালের পেশাব লাগলে তা যদি বারবার ধোয়া সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে কি নাপাক বিছানা বা তোষকের উপর পাক চাদর বিছিয়ে তার উপর ইবাদত করা জায়েজ আছে? তার উপর নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা জায়েজ আছে কি?
খ. মোটা বিছানা বা তোষক নাপাক হয়ে গেলে তা পাক করার পদ্ধতি কি? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন
উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী — সূত্র: রদ্দুল-মুখতার (ইবনে আবিদীন)):
ক) সংক্ষেপে:
- বাচ্চা বা বিড়ালের পেশাব নিঃসন্দেহে নাজির/নাপাক। যদি টোশক/বিছানায় নাপাক লেগে যায় এবং বারবার ধোয়া সম্ভব না হয়, তবে নাপাক স্থানে ওপর থেকে একটি পবিত্র (তাহির) চাদর/ঢাকনা গেঁথে তার ওপর ইবাদত করা শর্তসাপেক্ষে জায়েজ। শর্তগুলো নিচে দেওয়া হলো।
শর্তসমূহ (না হলে নামাজ/তেলাওয়াত গ্রহণযোগ্য হবে না):
1) নাজা থাকা অংশ থেকে কেবলমাত্র ঢাকনা দিয়েই স্পর্শ বা নিকটসংযোগ না হয় — অর্থাৎ ঢাকনাটি যথেষ্ট মোটা/নিরবচ্ছিন্ন ও পবিত্র হতে হবে যাতে নাজা উপরে না উঠতে পারে বা কাপড়ে লেগে যায়।
2) সম্ভব হলে দেখা-শোনা গেলে প্রথমে দৃশ্যমান মল-মলিনতা ঝেড়ে নিন (খôরা/কাগজ দিয়ে মুছা ইত্যাদি)।
3) ঢাকনাটি যে অংশে পড়বে তা আগেই পরিষ্কার ও পবিত্র হতে হবে; উপরে পড়ে নামাজ আদায় করার সময় আপনার কাপড় ও দেহ নাজায় থাকলে চলবে না — অর্থাৎ নিজে তাহির থাকবেন।
4) গন্ধ স্পষ্ট থাকলে বা নাজা ঢেকে না গেলে ঢেকে নামাজ করা জায়েজ নয়।
তেলাওয়াত ও জিকির: ঢাকনাসহ উপরের শর্ত পূরণ থাকলে তেলাওয়াত ও জিকিরও করা জায়েজ। (কিন্তু মুসহাফ সরাসরি নাজায় থাকা স্থানে রাখবেন না।)
খ) মোটা বিছানা/তোষক পবিত্র করার বিস্তারিত পদ্ধতি (হানাফি বার্তা অনুযায়ী):
1) প্রথমে দৃশ্যমান মল-মলিনতা শুকনো কাগজ/কাঠ/চামচ ইত্যাদিতে ঝেড়ে ফেলুন — নাজা যাতে ছড়ায় না।
2) নাজা তরল হলে যতটা সম্ভব জলে ধুয়ে বাহির করুন (পৌঁছে গেলে বাইরে নিয়ে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন)।
3) যদি নাজা গভীরভাবে ঢুকে যায় (টোশকের ভেতরে) তবে সামান্য পানি ঢেলে ঘষে বার করে টেনে বের করা প্রয়োজন — হানাফা মতে নাজা দূর করতে পানি লাগবে; যতক্ষণ না রং/গন্ধ সরছে ততক্ষণ ধুতে হবে।
4) পুরো টোশক ধোয়া না গেলে বিকল্প: প্রাকৃতিক/প্লাস্টিক আলাদা অ্যালাইনার (ওয়াটারপ্রুফ বেকিং) ব্যবহার করে নাজা অংশকে আলাদা করে ঢেকে দিন; তার ওপর থেকে একটি বিশুদ্ধ চাদর দিন। তবে এ কভারিং স্থায়ী নয়—যদি সম্ভব হয়, নাজা পুরোপুরি ধুয়ে ফেলাই উত্তম।
5) যদি নাজা এতটাই প্রবেশ করে যে পানির মাধ্যমে পরিষ্কার করা সম্ভব না (অতি পুরনো/বহুবার শোষিত) এবং কেটে ফেলা-ধোয়া বাস্তবে সম্ভব না, তাহলে ঐ অংশ কেটে ফেলা, বাহিরে নিয়ে পেশাদার ক্লিনিং বা নতুন টোশক নেয়াই উত্তম; অন্যথায় স্থায়ীভাবে একটি ভাল মানের জলেরোধক ঢাকনা (ইউনিফর্ম পলিথিন/মেমব্রেন) লাগিয়ে তার ওপর থেকে পবিত্র চাদর রাখবেন।
সারমর্ম: নাজা যদি ঢেকে দেয়া হয় এবং ঢাকনাটি পরিষ্কার-তাহির হয় ও নাজা তার ওপর ওঠে না, তবে ঐ স্থানে নামাজ, তেলাওয়াত ও জিকির করা জায়েজ; কিন্তু সর্বোত্তম হলো সম্ভব হলে নাজাকে পানি দিয়ে ধুয়ে পুরোপুরি মুছে ফেলা।
সূত্র: রদ্দুল-মুখতার (ইবনে আবিদীন) — হানাফি ফতোয়া অনুযায়ী নাজা ঢাকা দিয়ে ঢেকে রাখার ও পবিত্রতা সংক্রান্ত বিধান।