🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমাদের একটি ইসলামিক সেবামূলক ফাউন্ডেশন রয়েছে যার মাধ্যমে আমরা দ্বীনের ও উম্মাহর কল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজ ও প্রজেক্ট করে থাকি আলহামদুলিল্লাহ। অনেক মাস আগে আমাদের কে এক ভাই বেদে পল্লিতে মক্তব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিল, ওনার বেদে পল্লিতে ইসলাম প্রচারের অভিজ্ঞতা ছিল। ওনার তত্ত্বাবধানে মক্তব দেয়ার কথা ছিল। এজন্য আমাদের ফাউন্ডেশন থেকে ফান্ড কালেকশন করেছিলাম, কিন্তু মক্তবের জন্য শিক্ষক না পাওয়ায় এবং আনুষঙ্গিক আরো কিছু সমস্যার জন্য প্রজেক্ট টা শুরু করতে পারিনি। যার তত্ত্বাবধানে করার কথা ছিল তার সাথে আমরা অনেক বার যোগাযোগ করলেও উনি আমাদের প্রজেক্ট টা করিয়ে দিতে পারেনি। সুতরাং বেদে পল্লিতে মক্তব দেয়ার কথা বলে আমরা যে টাকা তুলেছিলাম সেই টাকা আমাদের হাতে এখনো রয়েছে। যেহেতু মক্তব দেয়া এখন আমাদের জন্য কঠিন কারণ যে ভাই এই কাজে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল উনি এখন অপরাগ। ঐ ভাই সহযোগিতা করতে না চাইলে আমরা এই প্রজেক্ট টা হাতে নিতাম না কেননা আমাদের পক্ষে একা একা এই প্রজেক্ট চালানোর সক্ষমতা নেই। এমতাবস্থায় এই টাকা টা ইসলামিক অন্য কোনো প্রজেক্টে ব্যয় করা যাবে কি? বিশেষ দ্রষ্টব্য এই টাকা যারা ডোনেট করেছে তাদের ফেরত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই কেননা বিকাশের মাধ্যমে anonymously ১০/২০/৫০/১০০ এভাবে অনেকে ডোনেট করেছে .
আলহামদুলিল্লাহ। সংক্ষিপ্ত হুকুম (হানাফী ফিকহ অনুসারে):

১) মূল নিয়া/শর্ত যাচাই করুন — যদি অনুরোধকারী/ডোনাররা স্পষ্টভাবে “মক্তব” নিমিত্তেই দান করে থাকে এবং তিনি পরে সেই শর্ত বাস্তবায়ন চান (বা টাকা ফেরত চেয়েছেন), তাহলে শর্ত পূরণ করা বা ফেরত দেওয়া লাগবে।
২) যদি প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিবার্যভাবে অসম্ভব হয়ে গেছে (শিক্ষক অনুপস্থিতি ইত্যাদি) এবং ডোনারদেরকে পৌঁছনো সম্ভব না হয় বা তারা অজ্ঞাত (anonymous), তাহলে সেই টাকাটা একই ধরনের বিশেষ সওয়াবি কাজে ব্যয় করা যায় — বিশেষতঃ উক্ত বেদে পল্লীর মসলাহত বা একই এলাকার শিক্ষা/দাওয়াহ/মনফা’তে ব্যয় করা উত্তম। যদি সম্ভব হয়, মক্তব স্থাপন হওয়ার আগের কাজগুলোই অগ্রাধিকার দিন (যেমন বাল্যশিক্ষা, কোরআন শেখানোর অন্য উপায়, দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী ইত্যাদি)।
৩) পরে কোনো ডোনার দাবি করলে তাকে ফেরত দেওয়া সম্ভব হলে ফেরত দিন; না পারলে যাচাই করে সমপরিমাণ সাদাকাহ/সদকায়ে জারিয়াহের হিসেবে ব্যাখ্যা করে সেটা দিয়ে দিতেই হবে বা তাদের সম্মতিতে বিকল্প কাজে ব্যয় করুন।
৪) পুরো বিষয়টি স্বচ্ছ রাখুন — রেকর্ড, খতিয়ান, আনাউন্সমেন্ট দিয়ে প্রচেষ্টা চালান যেন কেউ বলে না যে টাকা অন্যত্র গিয়ে গেছে।
৫) নীতিগত ভিত্তি: দানকারীর আসল নিয়া (intention) বিচার্য; যেহেতু দান সাধারণভাবে সওয়াবের উদ্দেশ্যে করা হয়, মক্ক্রুভক/অননুমোদিত কারণে উদ্দেশ্য বদললে সমমনা সওয়াবী কাজে ব্যয় করা যাবে (হাদীস: "إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ…" — إنما الأعمال بالنيات، صحيح البخاري/مسلم)।

সংক্ষেপে: ডোনাররা যদি বিশেষভাবে কড়া শর্ত না রেখে মক্তব নামে দান করে থাকেন এবং তারা আসলে পৌঁছনো যাচ্ছে না বা অনামি হলে, ঐ টাকাটা একই ধরনের ইসলামিক/সামাজিক কল্যাণে (বিশেষত উক্ত পল্লীরই উপকারে) ব্যয় করা জায়েজ ও উত্তম হবে; যেকোনো বৈপ্লবিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় হকীম/মুফতি’র সাথে পরামর্শ রেখে সিদ্ধান্ত নিন।