আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,
বেশ কিছুদিন যাবত আমার পারিবারিক কালাহার কারণে আমি এবং আমার স্ত্রী কথা কাটাকাটির সময়:-
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আমার (স্ত্রী) আমাকে বলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আমি এবং আমার ছেলে বাবার বাড়ি চলে যাব, আর আসবো না, আমি বলেছি তুমি গেলে যাও, কিন্তু আমার ছেলেকে নিবানা। আমার (স্ত্রী) বলে আমি এবং আমার সন্তান দুইজনেই যাব আর আসবো না, আমি বলি আমার ছেলেকে যদি নিয়ে যাও তাইলে তুমি তালাক (এখানে আমি নিয়ত করি ২৮ ফেব্রুয়ারি এই তারিখে যদি যায় তাহলে ১ তালাকের কথা)।
আমার স্ত্রী আমাকে বলে আমি তো চলে যাচ্ছি, তুমি আমাকে তালাক দিলে আর কি করার...
কিন্তু সে আজ তারিখ ০৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ হয়ে গেছে ঐদিন থেকে এখন পর্যন্ত সে আর বাপের বাড়ি যায় নাই।
এখন আমার প্রথম প্রশ্ন হল এমতাবস্থায় আমাদের বিবাহ কি ঠিক আছে এবং আমাদের কি করনীয়, এবং তার পাশাপাশি পরবর্তীতে যদি কখনো বাবার বাড়ি যায় তাহলে কি করণীয়।
এবং আমার ছেলেকে নিয়ে গেলে কোন ক্ষতি আছে কিনা...?
ওআলাইকুমুস সালাম। ifatwa.info (হানাফী ফিকহ) অনুসারে আপনার প্রশ্নের উত্তর সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো।
1) বিয়ে কি ঠিক আছে?
- কেবলমাত্র মনস্থ করা (নিয়ত করা) বা হুমকি হিসেবে বলা যে “তুমি যদি গেলে তালাক হবে” — এমনটি যদি বাস্তবে কোনো পরিষ্কার তালাকবর্হিভাষ (যেমন «أنتِ طالق» ইত্যাদি) উচ্চারণ না করা হয়ে থাকে, তাহলে তালাক হয়ে যায় না। তাই আপনি যদি শুধু নিয়ত করেছেন বা শর্তস্বরূপ হুমকি দিয়েছিলেন এবং বাস্তবে নির্ধারিত তারিখে স্ত্রী বাড়ি যায়নি, তাহলে বিবাহ স্থিতই আছে এবং তালাক হয়নি।
(হানাফী কিতাবীয় রুল অনুযায়ী তালাক সাধারনত স্পষ্ট উচ্চারণ বা কার্যকর কৃত্য দ্বারা প্রতিপন্ন হয়; কেবল অন্তর্নিহিত নিয়ত দ্বারা নয়।)
2) এখন কী করণীয়?
- ঝগড়া থামিয়ে মৃদুতা ও রাজি করানোর চেষ্টা করুন। দুই পক্ষের বাড়ির বড়দের মধ্যস্থতায় সালাহ (মصالাহ) করুন (ইসলামিক সালাহ/সলায়িশ)। দরকার হলে স্থানীয় আলেম বা কজির সাহায্য নিন।
- ভবিষ্যতে এমন হুমকি বা শর্ত-মূলক কথাবার্তা দেবেন না; ভুল হলে ক্ষমা চাইবেন ও সম্পর্ক মেরামত করতে চেষ্টা করবেন।
3) ভবিষ্যতে স্ত্রী যদি বাবার বাড়ি গেলে তখন কি করণীয়?
- স্ত্রী নিজ উদ্যোগে বাড়ি গেলে সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালাক নয়। যদি তিনি গিয়ে থেকে না ফেরেন, তাহলে আপনি আর তিনি দু’জনকে মীমাংসে করার চেষ্টা করতে হবে; প্রয়োজন হলে সাদা কাগজে যৌথ মধ্যস্থতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিন।
- যদি আপনি সত্যিই তালাক বলতে চান, তাহলে স্পষ্টভাবে বাক্য দিয়ে তালাক ঘোষণা করতে হবে এবং ইসলামিক বিধি (ঈদ্দত ইত্যাদি) অনুসরণ করতে হবে; প্রথম ও দ্বিতীয় তালাক পুনর্বিবাহের সুযোগ (ঈদ্দত চলাকালীন রুজু) ইত্যাদি সম্পর্কে সাবধান হোন।
4) যদি তিনি ছেলেটিকে নিয়ে চলে যান, তার ক্ষতি আছে কিনা?
- মাওয়া (হাদানা/শিশুর পালন) বিষয়ে হানাফী রায়ে মায়ের কাছে ছোট বেলায় শিশুর দেখাশোনার বিশেষ অধিকার থাকে; ঐতিহ্যসিদ্ধ রীতিতে ছেলে প্রাথমিক বয়সে মায়ের কাছে রাখা হয় (প্রচলিত বিবেচনায় প্রায় সাত বছরের আশে-পাশে সিদ্ধান্ত করা হয়), মেয়েকে সাধারণত কিশোর বয়স বা পক্বতা পর্যন্ত মায়ের নিকট রাখা হয়। কিন্তু পিতার বজায় থাকা অবৈধ নয় — পিতার অভিভাবকত্ব ও দায়িত্ব আলাদা।
- যদি তিনি শিশুকে নিয়ে বাড়ি যান, শান্তভাবে আলোচনার চেষ্টা করুন; শিশুর কল্যাণকে সামনে রেখে মধ্যস্থতা করুন; প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত বা সরকারি অধিকারবিধি অনুযায়ী আইনী/শরীয়তী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। জোর করে শিশুকে অপহরণ বা ক্ষতি করবেন না — শিশুর কল্যাণই প্রথম বিবেচ্য।
দ্রষ্টব্য (কিতাবি উদ্ধৃতি):
- আল-কুরআন বলেন, “তালাক (হয়) দুই বার; তারপর বা বিলম্বে (দ্বিতীয়বারের পর) ভালভাবে (মিমাংসা) করা উচিত…” (সূরা আল-বাকারা ২:২২৯) — এ আয়াত তালাক ও মিমাংসার নিয়মাবলীর ওপর ইঙ্গিত করে।
আপনি দ্রুত মীমাংসা চাইলে পরিবারের বড়দের মাধ্যমে মধ্যস্থতা শুরু করুন এবং যদি প্রয়োজন মনে করেন তবে স্থানীয় বিশিষ্ট আলেম/কাজির সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।