🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম। জ্বীনগত সমস্যার চিকিৎসার জন্য একজন বোন, একজন হুজুরের কাছে গিয়েছিলে । তিনি উনাকে দুটি কাগজ দিয়েছেন। একটি কাগজ পানিতে ভিজিয়ে দুইদিন গোসল করার সময় ব্যবহার করতে বলেছেন। আরেকটি কাগজ দিয়ে শরীর মুছে সেটি পুড়িয়ে ফেলতে বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, “আল্লাহ চাইলে আপনি ভালো হয়ে যাবেন।” এখন আমার প্রশ্ন হলো—এই ধরনের আমল বা পদ্ধতি কি ইসলামের দৃষ্টিতে শির্কের পর্যায়ে পড়ে?
ওয়ালাইকুমুস্‌ সালাম।

সংক্ষেপে উত্তর (হানাফী ফিকহ অনুযায়ী) —
- যদি ওই কাগজগুলোতে কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা রাসূল (সা.)-এর দোয়া লিখে থেকে এবং আপনি ইটা শুধুমাত্র আল্লাহর অনুমতি ও ইজাজতের ওপর ভর করে, এটা কেবলমাত্র একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন — তবে এটি সবারপক্ষে জায়েজ। চিকিৎসা/রুকইয়ার মত মাধ্যম গ্রহণ করা যেখানে চিকিৎসার মৌলিক বিশ্বাস আল্লাহর ওপর থাকে, তা শরী‘আ অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য।
- কিন্তু যদি ঐ আমলটি করা হয় এই বিশ্বাস নিয়ে যে কাগজগুলো নিজে থেকে আলাদা কোন ক্ষমতা রাখে, বা অন্য কোনো সৃষ্টি/জ্বীনকে আহবান করে, কিংবা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক ধরা হয় (অন্যকোন হকিকতকে খোদার মতো ক্ষমতা দান করা) — তখন তা বড় শির্ক বা শির্কের ঘ রাণায় পড়ে এবং হারাম।

চরম সতর্কতা — যদি কাগজে কুফুরি মন্ত্ৰ, জাদু, অন্যভিত্তিক আহবান বা এমন কিছু লেখা থাকে যাকে আল্লাহ ছাড়া কাউকেই শক্তি দেওয়া হয় বলে বলা হয়, তা দিয়ে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্থ হয়; তা মুছে ফেলতে হবে এবং এ ধরনের লোকের কাছ থেকে দূরে থাকা উচিত। যদি অনিশ্চিত হন, আল্লাহর নাম করে কোরআন-ভিত্তিক রুকইয়া বা চিকিৎসা গ্রহণ করুন এবং বিশ্বাস রাখুন আল্লাহই শিফা দেন।

সূত্র (একটি মাত্র) — আল্লাহ তাআলার কথার জন্য দেখুন: “إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ” (সূরা নাহ্‌সা/নাম: সূরা النساء, আয়াত ৪৮) — অর্থাৎ আল্লাহর সঙ্গে شریک ঠাহর করা সবচেয়ে বড় গুনাহ; আল্লাহ ছাড়া যাকে কেউ শক্তি বা ইবাদতের যোগ্য মনে করে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।