🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, ১.নামাজে কোনো অংশে ভুল করে উচ্চস্বরে পড়ে ফেললে নামাজ কি ভেঙ্গে যাবে? ২.পরীক্ষায় দেখে দেখে বা নকল করে লিখে নাম্বার পেলে সেই নাম্বার কাউকে বলা ও দেখানো কি জায়েয? ৩.আমি কাউকে পরীক্ষায় দেখালে সে দেখে লিখে নাম্বার পেলে তা যদি সে কাউকে বলে তবে আমার কি গুনাহ হবে? আমার করণীয় কি? ৪.আমার জানামতে জুমার প্রথম আযানের পর ক্রয় বিক্রয় জায়েয নয়। কিন্তু কেউ যদি কর্মচারী হয়(যে দোকান বা কোন অফিসে কাজ করে)আর শুক্রবারে তার ডিউটি থাকল তার জন্য কি জুমার প্রথম আযানের পর কাজ করা কি জায়েজ? আর তার বেতন কি হালাল হবে?
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

১) নামাজে ভুল করে কোনো আয়াত বা দোয়া উচ্চস্বরে পড়ে গেল — নামাজ টুটে যাবে না। হানাফী মত অনুসারে, অনিচ্ছাকৃতভাবে উচ্চস্বরে পড়া নামাজকে অবৈধ করে না; তবে এটি নির্মনীয় (কুফর/নাইয়্যর নয়, বরং মাকরূহ হতে পারে যদি অন্যকে বিরক্ত করে) এবং পরবর্তীতে আল্লাহর কাছে তাওবা করা উচিত। (নিয়মিত নামাজে অবাধ্য বা কথা বলা আলাদা; শুধুমাত্র উচ্চস্বরে কোরআন পড়া অনিচ্ছাকৃত হলে নামাজ ঠিকই থাকবে।)

২) পরীক্ষায় কপি করে পেয়ে সেই নম্বর কাউকে বলা বা দেখানো কি যায়েজ? — না, কপির মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর বা অর্জিত ফলকে প্রকাশ করা ঠিক নয়; কারণ সেটি চুরি/প্রতারণাযুক্ত উপায়ে আদায় করা হয়েছে। নিজের গর্ব বা অপরকে ছদ্মপ্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত জিনিস প্রদর্শন করা হারাম এবং দ্বীনি দোষ।

৩) আমি কাউকে পরীক্ষায় দেখালাম; সে পরে যদি সেটা কাউকে বলে — আমার কি গুনাহ হবে? করণীয়? — হ্যাঁ, আপনি অংশগ্রহণ করে দোষে অংশগ্রাহী। যদি আপনার সাহায্যে প্রতারণা ঘটেছে, আপনার দায় আছে: তাওবা করুন (দুঃখ প্রকাশ, ভবিষ্যতে আর করবেন না), সম্ভব হলে ক্ষতি মিটিয়ে দিন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে মর্মত ঘটান যাতে অন্যরা প্রতারণার ফলে ভুল সুবিধা না পায়। ভবিষ্যতে এমন কাজে আর অংশ গ্রহণ করা বা কাউকে সাহায্য করা বন্ধ করুন।

৪) জুম্মার প্রথম azan-এর পর ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ — হানাফী উস্তাদ অনুসারে জুম্মার জন্য মাইকৃত সময়ে (আযানের পরে থেকে খুৎবা শেষ হওয়া পর্যন্ত) ব্যবসা-ক্রয়-বিক্রয় করা অযোগ্য/নিন্দনীয়; তবে লেনদেনটি শারীয়তিভাবে অবৈধ বলে নয় (চুক্তি সাধারণত বৈধ থাকে)। যেখানে একজন কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে আর কাজ করতে হয় (দায়িত্বে থাকা, অফিস/দোকান খোলা ইত্যাদি) এবং তার জন্য জুম্মা আদায় করা সম্ভব না হলে সে কাজ করতে পারে এবং তার মজুরি হারাম হয় না; অর্থাৎ বাধ্যতামূলক কাজের পরিবর্তে যদি কেউ কেবল নিজের ইচ্ছায় জুম্মা কা‌টিয়ে দিয়ে কাজ করে, তা হলে তিনি দায়ী; কিন্তু কর্মচারী যিনি নিয়মিত ডিউটিতে আবদ্ধ এবং জুম্মায় উপস্থিত হওয়া তার পক্ষে অনিবার্য, তাঁর কাজ ও বেতন হালাল বিবেচিত হয়। খুৎবা-কালের পরে যতটা সম্ভব জুম্মায় অংশগ্রহণের চেষ্টা করুন।

রেফারেন্স (একটি): হাদীস — "مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا" (যে আমাদেরকে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়) — Sunan Ibn Mājah।