ইস্তগফার ও দরুদ শরীফ পড়ার নিয়ম ও সং্খ্যা।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াদাহু লা শারিকা লাহু,লাহুল মুলক ওয়ালাহুল হামদ,ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইঈন কদীর এর ফজিলত কি
ইস্তগফার ও দরুদ শরীফ পড়ার নিয়ম ও সংখ্যা (হানাফী মত অনুসারে)
১) ইস্তগফার (ওابা/তাওবা ও ইস্তিগফার)
- তাওবার মূল শর্ত: পাপ তৎক্ষণাৎ ত্যাগ করা, গতকালের জন্য অনুশোচনা (পশ্চাতোপ) হওয়া, ভবিষ্যতে পুনরায় একই পাপ না করার সঙ্কল্প, এবং যদি কাউকে কস্থানি/হক-হানি করে থাকে তবে তার অধিকার ফিরিয়ে দেয়া বা ক্ষমা চাওয়া। এগুলো পূরণ না হলে কেবল মুখে ইস্তগফার বলা প্রচুর ফল দেবে না।
- বিস্তৃত ইস্তগফারের কথাগুলি: সহজতম শব্দ “أستغفر الله” (আস্তাগফিরুল্লাহ) বা “أستغفر الله ربي من كل ذنب وأتوب إليه” ইত্যাদি বলা যায়।
- সংখ্যা/নিয়ম: ইসলামে ইস্তগফারের কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক সংখ্যা নেই — যতটা সম্ভব নিয়মিত ও আন্তরিকভাবে পড়া উত্তম। প্রথাগতভাবে অনেকে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় বেশি করে (যেমন ১০০ বার) পড়ে থাকেন; নামাজের পরে বা রাতে তেহজ্জুদ/আস্তাগফারের সময় ৩ বার, ৭ বার, ১০০ বার ইত্যাদি পড়া প্রচলিত কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়। হানাফী ফিকহ অনুযায়ী সংখ্যা নির্ধারিত নয়; মন ও নৈতিক পরিবর্তনই মূল উদ্দেশ্য।
২) দরুদ শরীফ (সালাওয়াত)
- নামাজে: তাশাহহুদে দরুদ (বিশেষ করে দরুদে ইব্রাহীমী — اللهم صلّ على محمد وآل محمد...) পড়া সুন্নাত ও অত্যন্ত প্রস্তাবিত। হানাফী অনুশাসনে টাশাহহুদের পরে একবার দরুদ পড়া যথেষ্ট ধরা হয়; কিন্তু বেশি পড়লেও হারাম নয়। নামাজের বাহিরেও যে কাউকে দরুদ পাঠ করলে সে বরকত ও সওয়াব লাভ করে।
- সংখ্যা/নিয়ম: দরুদেও কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক সংখ্যা নেই; নামাজে তাশাহহুদের সময় একবার দরুদ ইব্রাহীমী বলা প্রচলিত ও যথেষ্ট; বেলায়বেলায় বাড়তি দরুদ হলে বেশি সওয়াব।
৩) দরুদ ও ইস্তগফারের ফজিলত (সংক্ষিপ্ত)
- আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর উপর দয়া/বরকত প্রেরণ করেন, আর যারা নবীর উপর সালাত পাঠ করে তারাও এ বরকত পাবে—অতএব দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত বনিফিটেড। (সূত্র: আল-কিতাব — সূরা আল আযাব/আহজাব 33:56)
সূত্র (একটি মাত্র):
- আল-কুরআন, সূরা আল আহযাব (আল-আযাব) আয়াত 56: "إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا" — (এটাই একমাত্র উদ্ধৃত গ্রন্থ/কিতাব)।
সংক্ষিপ্ত নির্দেশ: আন্তরিক তাওবা ও ইস্তিগফার কর, নামাজে তাশাহহুদের পরে দরুদ ইব্রাহীমী পড়; সংখ্যা নিয়ে কষ্ট করো না — নিয়মিততা ও আন্তরিকতা প্রধান।