🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমার স্বামী আমাকে বলেছে আমি নাকি তাকে বলেছি আপনি আমাকে ডিভোর্স দিবেন এরপর আমার স্বামী ডিভোর্স দিলে নাকি দিলাম বলেছে তা আমি স্পষ্ট শুনিনি এখন আমার করনীয় কি
আপনার কথা থেকে বুঝতে পারলাম যে আপনার স্বামী কিছু বলেছিলেন যাকে তিনি পরে বলছেন তিনি স্পষ্ট শুনেননি—এ ক্ষেত্রে হানাফি শরীয়তের আলোকে করণীয় সংক্ষিপ্তভাবে নিচে দিলাম।

ফিকহী মূলনীতি (হানাফি):
- তালাক ঘটতে হলে স্বামীর দ্বারা স্পষ্ট ও মারফূ‘ শব্দের মাধ্যমে বলা জরুরি। যদি তিনি “তালাক” বা তার সমমানের স্পষ্ট বাক্য উচ্চারণ করেন এবং আপনি বা অন্য কোন সাক্ষী তা পরিষ্কারভাবে শুনে থাকেন, তাহলে talaq কার্যকর হবে, এবং পরে স্বামী যদি বলুক “আমি স্পষ্ট শুনিনি/ইচ্ছা ছিল না” তা তালাক বাতিল করবে না।
- যদি কথোপকথনে শব্দগুলো অস্পষ্ট থাকে বা কেউ নিশ্চিত না যে তালাক বলার মতো বাক্য উচ্চারিত হয়েছে, তাহলে সন্দেহ থাকলে বিষয়টি বলে-শুনে যাচাই করা দরকার; স্বচ্ছতার অভাবে যদি নিশ্চিত করা না যায়, তখন স্থানীয় আলেম/কাজিদের কাছে সিদ্ধান্ত নিন।
- যে তালাক কার্যকর হলে তার শর্তাবলী অনুসরণ করতে হবে: প্রথম বা দ্বিতীয় তালাক হলে ইদ্দতকালের মধ্যে স্বামী যোগাযোগ করে পুনর্মিলন (রজ‘ি) করতে পারবেন; তৃতীয় তালাক হলে আর ফিরতি নেই (আব-মুছলাহ অনুযায়ী হালাল হওয়া ছাড়া)।

প্র্যাকটিক্যাল করণীয় (ধাপে ধাপে):
1) প্রথমে স্বামীর কাছ থেকে স্পষ্ট জিজ্ঞাসা করুন—তিনি ঠিক কী বলেছিলেন, ঠিক কী উদ্দেশ্যে বলেছিলেন।
2) যদি আপনার বা অন্য কারো সাক্ষ্য থাকে যে তিনি “তালাক” বলেছেন, সেটা নথিভুক্ত করুন (সাক্ষীদের নাম/সময়)। সাক্ষীর কথা গুরুত্বপূর্ণ।
3) যদি talaq নিশ্চিত হয়: ইদ্দত শুরু করে দিন—মহিলা যদি মাসিক হয়, তাহলে তিনটি মাসিক হার (তিন মাসিক যুগ) ইদ্দত; যদি গর্ভবতী থাকে, সন্তানের জন্ম পর্যন্ত ইদ্দত। ইদ্দতের সময় স্বামী প্রথম/দ্বিতীয় talaq হলে পুনর্মিলন করতে পারবেন।
4) যদি সন্দেহ থাকে যে talaq বলা হয়নি (কোনও স্পষ্ট শব্দ বা সাক্ষ্য নেই) তবে স্থানীয় হানাফি আলেম/মুফতিকে দেখিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন; সাধারণভাবে সন্দেহের সুবিধা স্ত্রীকে দেওয়া হয়—কিন্তু সিদ্ধান্তের জন্য স্থানীয় সিদ্ধান্ত আবশ্যক।

উক্ত বিষয় সম্পর্কিত হানাফি গ্রন্থের নির্দেশনা: Al-Hidayah, Kitab al-Talaq.

আল্লাহ আপনার কাজে সহজতা করুন।