আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ। উস্তাদ একজন প্রতারক মহিলা আমাকে সহ আরো অনেক মানুষকে ২০২৪ সাল থেকে ঠকাচ্ছে। অনলাইনের মাধ্যমে নষ্ট আর মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করে। তার কাছে এখনো অনেক পণ্য আছে।
উস্তাদ আমার কাছে একটা সুযোগ আছে যে আমি তার কাছে অর্ডার করে তার বেশ কয়েকটা পণ্য জব্দ করে ফেলতে পারবো, এতে করে সে মানুষের কাছে আর এগুলো বিক্রি করতে পারবে না আর তার ও একটা শিক্ষা হবে। ভোক্তা অধিকার বা অন্যান্য মাধ্যমে কোনো ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়।
এখন আমি যদি অর্ডার করে ওর কিছু নষ্ট পণ্য জব্দ করে ফেলি, যাতে ও মানুষকে এইসব দিয়ে প্রতারিত করতে না পারে এবং ওর একটা শিক্ষা হয়.... তাহলে এটা কি আমার জন্য জায়েজ? আমি কি এমনটা করতে পারবো? (এগুলো ওই মহিলা সব ফ্রিতে পায় আর অনেক দামে বিক্রি করে, ওর কোনো লস হবেনা যদি আমি ওর পণ্য জব্দ করি)।
একটু দ্রুত জবাব দিয়েন উস্তাদ ইনশাআল্লাহ।
ওয়ালাইকুমুস সালাম। সংক্ষিপ্তভাবে উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী):
আপনার উদ্দেশ্য যতটা সুফলপ্রদ হলেও অন্য কারো মাল অবৈধভাবে জব্দ করা—অর্থাৎ অর্ডার দিয়ে চালাকি করে পণ্য নিয়ে নেওয়া বা না দিয়ে দখল করা—সর্বসাধারণভাবে হারাম এবং বেআইনি। ইসলামে একরকম নীতিতে বলা হয়েছে যে লোকের মাল-সম্পদ তার নিজস্ব সম্মতিতেই নেয়া যায়। আল্লাহ তাআলা কোরআনে অবহিত করেছেন: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের মধ্যে অকারণভাবে একে-অপরের সম্পদ হারামভাবে গ্রাস করো না…” (সূরা নিসা 4:29)। এই নির্দেশের আলোয় অন্যের মাল জব্দ করা ন্যায়সঙ্গত নয়।
কী করলে চলবে (প্রস্তাবিত পথ):
- যদি সম্ভব হয়, প্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ/ভোক্তা অধিকার/আইনি পথে অভিযোগ দিন এবং ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করুন।
- পাবলিকদের সতর্ক করতে চাইলে মিথ্যা বা অপপ্রচার না করে শুধু যাচাই করা প্রমাণ দেখিয়ে সতর্ক করুন।
- যদি সত্যিই পণ্যগুলো জনস্বাস্থ্য-ঝুঁকিপূর্ন হয় এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া যায়, তাহলে তা সরানোর জন্য ভদ্র উপায়ে কিনে নেওয়া (নির্ধারিত দাম দিয়ে) করা যায়; কিন্তু কেনা-ছাড়া চালাকি করে দখল করা যাবে না।
- আদালত/প্রশাসন কর্তৃক জব্দ করার জন্য আবেদন করা সবচেয়ে সঠিক উপায়।
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত: প্রতারককে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগতভাবে জব্দ করা বা ঠকানো جائز নয়। আইনসম্মত ও নৈতিক উপায় (অভিযোগ, রিপোর্ট, প্রয়োজন হলে বৈধভাবে ক্রয়) গ্রহণ করুন। আল্লাহ তাআলা সঠিক পথ দেখাক।