আমার মেয়ের বয়স এখন ২ বছর ১১ মাস হইছে।এখন আমার মনে বা ভিতরে আসে তাকে এখন বিয়ে দিয়ে দিতে হবে বা শরীয়তে বিয়ের সময়ে বিয়ে দিতে হবে।যার সাথে বিয়ের কথা মনে বা ভিতরে আসে সে একজন প্রতিবন্ধির মত মনে হয় কি বলে বুঝা যায় না ঠিক মত। দেখতে পছন্দ হয়না বাবা মা নাই ভাইয়েরা ঠিকমত খোজ নেয় না কোনো মাদ্রাসাতে ফ্রিতে খায় বা ছোটো খাটো মসজিদে চাকরি করে কোরআন তিলাওয়াত ও শুদ্ধ না। তার সাথে বিয়ে দিতে ইচ্ছে নাই। এরপরে মনে বা ভিতরে আসে আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ যদি সপ্নে দেখায় তার সাথে বিয়ে দিতে হবে। তারপর মাথা মন ভিতর থেকে শড়ানো যাচ্ছে না শড়লেও আবার আসে
ওয়ালাইকুম আসসালাম। ifatwa.info-এর হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত স্পষ্ট জবাব —
- আপনার মেয়ে এখন ২ বছর ১১ মাস; এমন বয়সে তাকে “অবিলম্বে” বিয়ে দিতে কোনো ইসলামিক বাধ্যবাধকতা নেই। বাচ্চা এখনো বালিগ নয়; সাধারণভাবে মেয়ের কল্যাণ ও সক্ষমতা না থাকা পর্যন্ত বিয়েকে টানা বা তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। হানাফি ফিকহে অভিভাবক (ওলি) নিকাহ সম্পাদন করতে পারেন, কিন্তু শারীরিক মিলন বা বসবাস করার মতো ব্যাপারগুলো মেয়ে বালিগ বা সক্ষম না হলে স্থগিত রাখতে হবে।
- আপনি যে ব্যক্তিটিকে মনে করেন—তার শরীর বা আচরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা/অপ্রিয়তা থাকলে জোর করে বিয়ে না করাই ভাল। বিয়ে হলো দীন ও চরিত্রের উপর ভিত্তি করে এবং মেয়ের কল্যাণ বিবেচনা করে হওয়া উচিত।
- যদি আপনার মনে বারবার “আবশ্যক” এমন চিন্তা আসে বা স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখার কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে উস্কানি আসে: স্বপ্নে নবী (সা.) দেখা সবসময়ই সদ্যাগতি—কিন্তু কোনো স্বপ্ন নিজে থেকেই শার‘ঈ সিদ্ধান্ত গ্রহণের উৎস হতে পারে না। স্বপ্ন বা ভিতরের ফিসফিসা নিয়ম-কানুনে আইনগত প্রমাণ নয়; বাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে-বুদ্ধিমত্তা, ক্যানোনিকাল বিধান ও মেয়ের কল্যাণ বিবেচনা করতে হবে। (রিসালব্যক্তভাবে: Nabi ﷺ-কে স্বপ্নে দেখা সম্পর্কে সংক্রান্ত হাদিস রয়েছে — من رآني في المنام فقد رآني — Sahih al-Bukhari.)
- মাথায় লাগাম না থাকলে বা চিন্তা-ফিসফিসা বেশি হওয়ার সুযোগ থাকলে নিম্নলিখিত কাজগুলো করুন:
1) “أعوذ بالله من الشيطان الرجيم” ইত্যাদি আতিথ্য বলুন এবং ধীরস্থির নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকর বাড়ান।
2) সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবারের সম্মত, চিকিৎসক/মানসিক পরামর্শদাতা ও প্রয়োজনে নামাজিপণ্ডিত (আলিম/ইমাম)–এর সঙ্গে পরামর্শ করুন।
3) কোনো তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত বা কারও ওপর চাপ দিয়ে বিয়ে দেবেন না; মেয়ের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন।
দোয়া: আল্লাহ আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্তে হেদায়ত করুন ও ফিতনাগুলো থেকে রক্ষা করুন।