🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ। আমার কাজিনের সাথে বিয়ের কথা চলছে।আমরা চেয়েছিলাম বিয়েড আগে আমাদের দুই পরিবার বাদে কাউকে জানানো হবে না।এখন শুনি আস্তে আস্তে ছড়িয়েছে এটা।সবাই জানে। আমার নজরের ভয় লাগে.. আমাদের কি নজর লাগার সুযোগ আছে এখানে? উনি নেক্সট ইয়ার জানুয়ারিতে বিয়ে করতে চাচ্ছেন,এর আগে সেভিংস করছেন কিছু। আমরা কি তখন করবো নাকি এখন কাবিন করে ফেলবো?
ওয়ালাইকুম্ুস সালাম।

সংক্ষেপে উত্তর (হানাফী মত): হ্যাঁ, ইসলামে নজর/হাসাদ বাস্তব বিষয় হিসেবে বিবেচিত; তাই সাবধানতা নেবার ব্যবস্থা আছে। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা আমাদের ইর্ষুকর্তার (হাসেদের) ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাইতে বলেছেন — “ওَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ” (সূরা আল-ফালাক, 113:5)। এই আয়াতটি উদ্দেশ্য/রক্ষা হিসেবে গ্রহণ করবেন।

আচরণগত নির্দেশ (কার্যকর, হানাফী ও আমলযোগ্য):

- আতঙ্ক নয়; তাপর, আল্লাহর কাছে সব কিছু। নিয়মিত কোরআনসূরা আল-ফালাক ও আন-নাস পড়া, আয়াতুল কুরসি ও সূরা ফাতিহা পড়া এবং ইচ্ছু হলে হালকা রুকইয়াহ (আস্তে করে দু’আ পড়া ও কণ্ঠে ফুঁ দেওয়া) করা।
- যখন কাউকে প্রশংসা করবেন বা কিছু ভালো লাগলে বলতে習 করুন: “মাশাআল্লাহ” — এতে ইর্ষুকৃতার সম্ভাবনা কমে।
- গোপনে বা সীমিত পরিসরে বিয়ের বিষয় রাখা যাতে অপ্রয়োজনীয় প্রচার না হয় — হানাফী ফিকহে গোপনে নিকাহ (কিন্তু দু’জন সাক্ষী প্রয়োজন) বৈধ।
- যদি আপনি চান সম্পর্ক দ্রুত সুরক্ষিত হোক (অধিকার-দাবি ইত্যাদি নিশ্চিত করতে), তাহলে এখনই কাবিন (নিকাহ) করে পরে ওয়ালিমা বা বড় আয়োজন জানুয়ারির জন্য রাখতে পারেন — এটি পুরোপুরি জায়েজ এবং বহু ফকিহ বলেন এটাই উত্তম যাতে সম্পর্ক নিশ্চিত থাকে।
- আর যদি আর্থিক কারণে বা প্রস্তুতির জন্য জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিৎ মনে করেন, তাও জায়েজ; কেবল সাবধানতা অবলম্বন করে দু’আ ও রক্ষা ব্যবস্থা নিন।
- বদোনীতির থেকে বিরত থাকুন, লোকজনকে অনর্থকভাবে ছবি/বিস্তারিত না দেখানোই ভালো।

সংক্ষেপে: নজর লাগার সম্ভাবনা আছে — প্রতিরোধে আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও কোরআন/দু’আ; নিকাহ এখনই করা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং অনেক ক্ষেত্রেই উত্তম (আপনি সম্পর্ক নিরাপদ করতে চান), আর অপেক্ষাও জায়েজ যদি সেটাই পরিবার-উদ্দেশ্য। সিদ্ধান্ত নিন কোনটি আপনার এবং পরিবারের জন্য বেশি সুবিধাজনক — কিন্তু ভয়কে ভিত্তি করে অকারণ বিলম্ব করবেন না; প্রয়োজন হলে এখন গোপনে কাবিন করে পরে বড় অনুষ্ঠান করবেন।

সূত্র (একটি): কোরআন — সূরা আল-ফালাক, আয়াত: “وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ” (113:5).