🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারাকাতুহ। ১। অনেকে কোন বিষয় না জানলে বলে থাকে,আল্লাহ জানেন আর সে জানে, এরকম বললে কি গুনাহ হবে বা শিরক হবে? ২। এক মহিলার দুই মেয়ে স্বপ্নে দেখেছে যে,তার মা আবার করেছে,, দুইজনে একই দিনে স্বপ্ন দেখেছে এটার ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে মিন ফাদ্বলিক ( উল্লেখযোগ্য,সেই মহিলার হাজবেন্ডের সাথে তার সম্পর্ক ভালো না,,যদিও এদের মধ্যে তালাক্ব হয়ে যায়,,তারপরও সেই মহিলা আবার বিয়ে করবে না আমি যতটুকু জানি)
ওয়ালাইকুমুস সভ — রহমাতুল্লাহি — বারাকাতূহু।

১) প্রশ্ন: অনেকে কিছু জানেন না বলে “আল্লাহ জানেন, আর সে জানে” এ রকম বলে থাকে — এটা কি গুনাহ বা শিরক?
উত্তর (হানাফী মত): যদি লোকটি কৃপণে কেবল বলে “আল্লাহ তো জানেন” বা “আল্লাহ জানেনই_best” অর্থাৎ সে নিজে না জানার কথা স্বীকার করে এবং সবশেষে আল্লার উপর নির্ভর করে—এতে কোনও গুনাহ বা শিরক নেই; বরং সত্য ও শিষ্টভাষণের মধ্যে পড়ে। কিন্তু যদি কেউ কাউকে (মানুষকে) আল্লাহর মত বা আল্লাহর বিশেষ স্বত্ব (যেমন গায়ব-জ্ঞাতি) প্রদর্শনের সক্ষমতা অযথা অর্পণ করে, অথবা কাউকে গায়ব-জ্ঞাতি দাবি করতে বলে—তাহলে সেই দাবি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভুল; গায়ব সম্পর্কে জ্ঞাতি আল্লাহর একমাত্র বিষয়, কারও দ্বারা গায়ব দাবী করা কুবুলযোগ্য নয় এবং অতি গুরুতর। সংক্ষিপ্তভাবে: “নিজে না জানা স্বীকার করা” জায়েজ; অন্য কারওকে গায়ব-জানার দাবিতে সম্মান দেওয়া বা গার্হস্থ্যভাবে আল্লাহর বিধান অন্য কাউকে অর্পণ করা নিন্দনীয় ও ভুল।

২) প্রশ্ন: দুই মেয়ের একই দিনে স্বপ্নে দেখা যে তাদের মা “আবার করেছে” — ব্যাখ্যা করবেন? (উল্লেখ্য, মায়ের স্বামী-সংক্রান্ত সম্পর্ক খারাপ ছিল; তালাক হয়েছে; মায়ের পুনর্বিবাহ করার সম্ভাব্যতা জানা নেই)
উত্তর (হানাফী মত): স্বপ্ন ইসলামী শিক্ষায় তিন রকম হয় — (১) আল্লাহর পক্ষ থেকে সৎ খুশির সংবাদ, (২) শয়তানের থেকে কষ্টদায়ক বিভ্রান্তি, (৩) ব্যাক্তিগত দৈনন্দিন চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন। স্বপ্ন কোনো শাস্তিদায়ী বা প্রমাণমূলক ভূমিকা রাখে না। হাদিস ও ফিকহ অনুযায়ী স্বপ্নকে আইনগত হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। বিশেষত যদি স্বপ্ন দিয়ে কাউকে নৈতিক দোষ—যেমন পরকীয়া/অশ্লীলতা—এর অভিযুক্ত করা হয়, তা প্রকাশ করলে সেটি ‘কয্ফ’ (মিথ্যা লাঞ্জনা) হতে পারে এবং ইসলামি হুকুমে গুরুতর; কোনো ব্যক্তিকে শর্তহীনভাবে কলঙ্কিত করা যাবে না — বৈধ শাস্তি বা বিবেচনার জন্য চারটি সাক্ষী বা নির্ভরযোগ্য স্বীকার প্রয়োজন। তাই দুই মেয়ের একই ধরনের স্বপ্ন দেখা মানেই বাস্তবে ঘটে যাবে না — সেটি হয় শয়তানি বা মনের শোক-অবসাদ বা কল্পনার মিল। করণীয়:
- সরাসরি মায়ের সম্মুখে অদক্ষভাবে বা অনবরত অভিযুক্ত করবেন না।
- যদি উদ্বেগ থাকে, নম্রভাবে মায়ের সঙ্গে কথা বলা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে; কিন্তু নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া কলঙ্কিত করা হারাম।
- স্বপ্ন যদি কষ্ট দেয়, দু’আ ও স্তরব (অভয়) নিন, নফস ও শয়তান থেকে রক্ষা চান, এবং ইস্তিক্ষারা/দান ও সদকা ইত্যাদি করুন।
- স্মরণ রাখুন: স্বপ্নকে কোন আইনি বা নৈতিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয় না; ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত-নির্ণয় বাস্তব তথ্য ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করুক।

সূত্র (একটি): কোরআন, সূরা আন‑নূর (24):4 — যে কেউ নিরপরাধভাবে কাউকে ধিক্কার হিসেবে বিবেচনা করে মিথ্যা অভিযোগ করে, তার জন্য আল্লাহ কোর্টে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য; (অর্থাৎ শাসন ও বিচার স্বপ্নের ওপরে নির্ভর করে না এবং মিথ্যা লাঞ্জনার বিরুদ্ধে কঠোর বিধান আছে)।