আস্ সালামু আলাইকুম।
কুরআন তিলাওয়াত করার সময় নামাজের মতো সতর ঢেকে পড়তে হবে?
অনেক সময় মাথায় ওরনা থাকে কিন্তু থুতনি খোলা থাকে আবার চুলের কিছু অংশ দেখা যায় .... এভাবে কুরআন পড়লে কী গোনাহ হবে!?
আর একটা জিজ্ঞাসা ম্যাক্সি পড়ে সলাত পড়লে নীচে যদি পাজামা পড়া না হয় তাহলে কী নামাজ হবে না?..আর যদি সায়া পড়া হয় তাহলে কী নামাজ হবে না??
ওয়ালাইকুমুস সালাম। সংক্ষেপে হানাফি মাযহাব অনুসারে উত্তরগুলো নিচে দেওয়া হলো —
1) কুরআন তিলাওয়াতের সময় আভ্যন্তরীন নীতিমালা:
- তিলাওয়াত করার সময়ও সাধারণ সৌজন্য ও যে ন্যায়-নীতিতে কুরআন শ্রবণ/পাঠ করা উচিত তা বজায় রাখতে হবে। মহরাম নয় এমন পুরুষদের সামনে নারীর আওরাহ (নামাজের সময় সবচেয়ে কড়াকড়ি লেগে যা নারীর জন্য সাধারণভাবে গোঁফ ছাড়া মুখ ও হাত ছাড়া বাকী শরীর) উন্মুক্ত রেখে তিলাওয়াত করা ঠিক নয় এবং অন্যায়/গুনাহ ধরা হয়।
- যদি তিলাওয়াত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত—শুধু মহরাম বা নিজ-পরিবারের মধ্যে—তবে কিছুটা ঢুকনো ছোঁড়া থাকলেও মাশআ{{--}}ঈচহবে; কিন্তু নামাজের মতো পূর্ণ ঢেকে পড়াই উত্তম ও ব্যাপকভাবে মান্য করা হয়।
- স্বচ্ছ/চটকদার বা অত্যন্ত টাইট পোশাক যা শরীরের আকার বা চুল প্রকাশ করে, তাতে কুরআন তিলাওয়াত করাও নিষেধ বা ঘৃণ্য বিবেচিত হবে যদি অননুমত পুরুষরা তা দেখে।
2) ম্যাকসি (এক টুকরা ড্রেস) পরে নামাজ:
- যদি ম্যাকসি উপরের থেকে শুরু করে গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে রাখে, চুল ও মাথা (নারীর ক্ষেত্রে) সঠিকভাবে ঢাকা থাকে, কাপড় অস্বচ্ছ ও ঢিলা হয় এবং আওরাহ প্রকাশ করে না — তাহলে অতিরিক্ত পাজামা না থাকলে নামাজ ঠিক আছে।
- কিন্তু যদি ম্যাকসির কারণে নিচের অংশ (পা, পায়জামার প্রয়োজনীয় আওরাহ) বা চুল/গলার নিচের অংশ ইত্যাদি প্রকাশ পায়, বা কাপড় স্বচ্ছ/টাইট করে শরীরের আকার প্রকাশ করে — সে ক্ষেত্রে নামাজ নস্যাজ বা গৃহীত হবে না যতক্ষণ না প্রয়োজনীয় ঢাকাও পুর্ন হয়।
- তাই মূল মাপকাঠি: নামাজে প্রয়োজনীয় আওরাহ সম্পূর্ণ ঢাকা আছে কি না; কাপড় অস্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে ঢিলা কিনা; মুখ ও হাত (হানাফি মতে মুখ ও হাত উন্মুক্ত থাকতে পারে) ছাড়া অন্য কোথাও উন্মুক্ত থাকা চলবে না।
3) “সায়া” (যদি বোঝানো হয় পাতলা/স্বচ্ছ বা অপর্যাপ্ত ঢাকনা) সম্পর্কে:
- যদি সায়া মানে পাতলা/স্বচ্ছ কাপড় যার ফলে আওরাহ দেখা যায়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য নয় এবং নামাজ হবে না যতক্ষণ তা ঠিক করা না হয়।
- তবে যদি সায়া বলতে বোঝানো হয় একটা ঠিকঠাক স্তর যা আড়াল করে (অস্বচ্ছ), তাহলে ঠিক আছে।
সংক্ষেপে: কুরআন তিলাওয়াতের সময়ও লজ্জা ও আবর হিসেবে যথাযথ ভাবে ঢুকানো উচিত; বিশেষত জনসমক্ষে বা অমহরামের সামনে যদি আওরাহ প্রকাশ পায় তাহলে গোনাহ হবে। নামাজে মুখ ও হাত ছাড়া অন্য কোথাও যদি আবর প্রকাশ পায়, নামাজ গ্রহণযোগ্য নয় — ফলে ম্যাকসি যথেষ্ট ঢেকে রাখতে পারলে পাজামা বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু যদি অপ্রয়াপ্ত হয় তবে পাজামা/অতিরিক্ত ঢাকনা বাধ্যতামূলক।
সূত্র: রদ্দুল-মুৎহারের ভাষ্য (ردّ المحتار على الدرّالمختار — ইবনে আবদিন) (فقه الحنفيّة)।