🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

অনলাইন প্লাটফর্মে বা গ্রুপে অন্যের পোস্ট থেকে আগ্রহী দের কমেন্ট করা নিয়ে প্রশ্ন। আমি অনলাইনে ক্লাস ৫ এর বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে কাজ করি, আমার প্ল্যাটফর্ম আছে, ফেসবুক প্রোফাইল আছে। এখন, যখন অন্য কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা কোচিং সেন্টার যখন fb তে ad, বিজ্ঞাপন হিসেবে (Post/Video) দেয়, তখন সেই বিজ্ঞাপনের নিচে যারা আগ্রহী তারা কিন্তু কমেন্ট করে, অথবা বোঝা যায় যে এরা বৃত্তি পরীক্ষা দিবে। এখন, আমি যদি তাদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই, যেহেতু আমিও বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে কাজ করি, যারা কমেন্ট করে ওদের ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দেয়ার উদ্দ্যেশ হলো, আমি যে বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে কাজ করি, এটা যেন তারাও জানতে পারে। তারা যেন আমার প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে জানতে পারে, আমি শুধু ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিই, এটি কি অন্যের ব্যবসার হক নষ্ট বা রিজিক নষ্ট করার পর্যায়ে পড়ে? যারা এড চালাচ্ছে তারা অনেক বড় প্রতিষ্ঠান । এমন টা করা কি আমার ঠিক হবে? আবার কখনো, উন্মুক্ত পাবলিক ফেসবুক গ্রুপে (বৃত্তি রিলেটেড গ্রুপ) , যেখানে মূলত সবাই বৃত্তি পরীক্ষা রিলেটেড নোট, তথ্য দেয় বা অনেক সময় এমন পোস্ট করে যে, "কারা কারা বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে আগ্রহী", তখন সেই পোস্টেই অনেকে কমেন্ট করে। এখন, যারা কমেন্ট করতেছে ওদের রিকুয়েষ্ট পাঠালে, যিনি পোস্ট করেছে, তার কি হক্ব নস্ট হচ্ছে? কারন তার পোস্টেই কিন্তু সবাই কমেন্ট করতেছে। এখানে ২ ধরনের মানুষ পোস্ট করে, এক. যাদের পেজ আছে, অনলাইনে পড়ায়, বা তারা নোট বিক্রি করবে তাই আগ্রহী যারা আছে তাদের অ্যাটেনশন পাওয়ার জন্য। দুই. সাধারন পাবলিক যারা বিভিন্ন তথ্য বা নিয়ম কানুন জানতে চায়। আমার উদ্যেশ্য আমি আগেই বলেছি,& অন্যের ক্ষতি কামনা বা তাদের চেয়ে যেন আমার কোর্সে বেশি স্টুডেন্ট ভর্তি হয়, এমন কোনো উদ্যেশ্য আমার নেই। আমি শুধু আমার প্লাটফর্ম সম্পর্কে অন্যদের জানাতে চাই। এক্ষেত্রে আমি যে ভাবে অন্যের পোস্টে যারা কমেন্ট করতেছে,তাদের রিকুয়েষ্ট পাঠানো কি ইসলামিক দিক থেকে বা হকের দিক থেকে ঠিক আছে? যদি ঠিক না থাকে তাহলে আমার করনীয় কি?
উত্তর (হানাফি ফিকহের দৃষ্টিকোণ থেকে — ifatwa.info):

সংক্ষিপ্ত ফতবা: অন্যের বিজ্ঞাপন/পোস্টে যে জনরা পাবলি‌কভাবে কমেন্ট করেছে তাদেরকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো সাধারণত শারইরূপে হারাম নয়; তবে এটি তখনই জায়েজ যখন তোমার উদ্দেশ্য সরল, প্রতারণা বা ভ্রান্তিকরণ না করা, এবং তা কারো হক/রিযিক নষ্ট করার মনোভাব থেকে হয়ে না থাকে। যদি তোমার আচরণ দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিরকে স্পষ্টভাবে আর্থিক ক্ষতি হয়, জনসাধারণবিতরণে অবৈধভাবে তাহাদের গ্রাহকদলের প্রতারণা করা হয়, বা গ্রুপ/পেজের নিয়ম/নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয় — তখন তা পাপ এবং হারাম হতে পারে।

বিবেচ্য কয়েকটি নীতিমালা (অবশ্য পালনীয়):
- যদি মন্তব্যটি PUBLIC (পাবলিক) সারা-স্বচ্ছ, সেটি দেখে যোগাযোগ করা শারইভাবে অনুমোদনযোগ্য; কিন্তু ব্যক্তিগত/প্রাইভেট তথ্য ব্যবহার করে অথবা জাল উপায়ে লিড চুরি করা যাবে না।
- কোনো গ্রুপ বা পেজে স্পষ্টভাবে “বিজ্ঞাপনী প্রচার নিষিদ্ধ” বা “কমেন্টকে লিড হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না” ইত্যাদি নিয়ম থাকলে তা মানতে হবে।
- যে উদ্দেশ্যে তুমি রিকোয়েস্ট পাঠাবে, প্রথম মেসেজে সরল ও সৎভাবে জানিয়ে দিতে; মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, ছাপিয়ে নেওয়া বা প্রলোভন দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।
- যদি লক্ষ্যরা نابالغ (ছোট শিশুরা) হয় (শ্রেণি-৫-এর ছাত্রছাত্রী সাধারণত نابالغ), তবে সরাসরি ছোটদের না গিয়ে বাবা-মা/অভিভাবকের মাধ্যমে যোগাযোগ করাই উত্তম ও কর্তব্য।
- যদি তুমি বারবার স্প্যাম করো বা অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের নৈমিত্তিক কাজ-বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করো, তবে এটা নিষিদ্ধ হতে পারে।

সারমর্ম: উদ্দেশ্য সৎ ও আচরণ স্বচ্ছ থাকলে এবং গ্রুপ/পেজের স্থাপিত নিয়ম ও মানুষের হক-সম্মান রক্ষা করে যোগাযোগ করলে এটি ইজাজতপ্রাপ্ত। এহেনভাবে যেকোনো কাজ করার সময় “হানফি” আইনের মৌলিক নীতি — ন্যায় ও ক্ষতি নিষেধ — মনে রাখা জরুরি।

একটি শারই সাধারণ নীতিস্মারক: “لا ضرر ولا ضرار” (অর্থ: কোনো ক্ষতি করা বা ক্ষতি গ্রহণ করা উচিত নয়) — এই মূল হাদিসটি ক্ষতি থেকে বিরত রাখার ভিত্তি।