১.একজন লোক তার প্রয়োজনের ফলে আমাকে মসজিদর টাইলসের ছবি তুলে দিতে বলেছিল এটা কি জায়েয?
২.নামাজের ভিতর তাওয়াক্কুল করা কি জায়েজ?
৩.তওবা করা পর বিশ্বাস করলাম যে,
রব অবশ্যই এই তওবা কবুল করবেন,এটি যদি দোয়া হয় আল্লাহ অবশ্যই তা কবুল করবেন,তওবাতে ভুল না হলে কবুল হবে ভুল হলে নয়। তাহলে তা কি ঠিক হবে?
৪.যে বিষয়ে তাওয়াক্বুল করলাম সে বিষয়ে বিশ্বাস করলাম যে,
"আমি অবশ্যই তা পাব আর কল্যাণকরই জিনিস পাবো" এই বিশ্বাস কি ঠিক এবং তাওয়াক্কুল এর জন্য যথেষ্ট?
৫. দুআ করার পর বিশ্বাস করলাম যে,
"আল্লাহ অবশ্যই এই দোয়া কবুল করবেন আর কল্যাণকর জিনিসই পাবো" এটা কি সঠিক?
৬. আইফতোয়াতে চাই দিয়ে যে উত্তর দেওয়া হচ্ছে উত্তরগুলো কতটুকু সঠিক?
১) মসজিদের টাইলসের ছবি নেওয়া: যদি টাইলসগুলোর ওপরে কোনো জীবন্ত সৃষ্টির (মানুষ/জীবজন্তু) চিত্র না থাকে এবং ছবিকে মসজিদ বা ইবাদতের মর্যাদা লঙ্ঘন করে না ব্যবহার করা হয়, তবে প্রয়োজনের কারণে ছবি তোলা জায়েয। অবশ্যই গায়ে নাজায়েজ অবস্থায় বা অন্য ইবাদতকারীকে বিঘ্ন না করে, মর্যাদা বজায় রেখে করা উচিত।
২) নামাজের ভিতর তাওয়াক্কুল করা: নামাজে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা রাখা) রাখা আমলগতভাবে প্রশংসনীয় ও গ্রহণযোগ্য; তবে তাওয়াক্কুল মানে কোনো মিল-অসূল ত্যাগ করে নি—অর্থাৎ কাইন্যা (উপায়) বাতিল করা যায় না। নামাজে ভ্রষ্ট মনোযোগ বা শাস্ত্রবিরুদ্ধ কাজ হলে তা ঠিক নয়। অর্থাৎ তাওয়াক্কুল করা যাবে, কিন্তু একই সময়ে শাস্ত্রানুযায়ী কর্মও চালিয়ে যেতে হবে।
৩) তওবা করার পর নিশ্চিতভাবে মনে করা যে রব তা অবশ্যই কবুল করবেন: আল্লাহর রাহমত সম্পর্কে ভরসা এবং তওবায় আশা রাখা ইবাদতের অংশ; কিন্তু মানব অবস্থায় কোনো ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা (আল্লাহ্ তার তওবা কবুল করেছেন) দাবি করা যুক্তি-সিদ্ধ নয়—কারণ তওবায় নির্ধারিত শর্ত (আপদা ত্যাগ, আন্তরিক অনুশোচনা, পুনরায় পাপ থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি) পূরণ করা লাগবে। সুতরাং আশা রাখা ভাল, কিন্তু গ্যারান্টি দাবি করা সঠিক নয়।
৪) তাওয়াক্কুল করে “আমি অবশ্যই তা পাব এবং কল্যাণকরই পাব” ধরণে নিশ্চিত বিশ্বাস: তাওয়াক্কুলের মধ্যে আশা ও ভরসা থাকাটা ভালো; কিন্তু কোনো ফলাফল মিলবে কি না সেটায় আনিবার্য নিশ্চয়তা দাবি করা ইসলামী নীতির সাথে সঙ্গত নয়। তাওয়াক্কুল যথেষ্ট তখনই যখন আপনি যথাযথ উপায় গ্রহণ করবেন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখবেন; কেবল নিশ্চিত মনে থাকা যথেষ্ট নয়।
৫) দোয়া করার পর নিশ্চিতভাবে মনে করা “আল্লাহ অবশ্যই এই দোয়া কবুল করবেন” — এ বিষয়ে: দোয়ার পরে আল্লাহর রহমতের ওপর দৃঢ় আশা রাখা উত্তম; কিন্তু দোয়া কবুল হবে কি না—এই ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহ্-ই জ্ঞানী। তাই আশা ও ধৈর্য রাখুন এবং পুনরায় দোয়া ও সদকাহ্, উপায় চালিয়ে যান; নিশ্চিত গ্যারান্টি দাবি করা ঠিক নয়।
৬) ifatwa.info–তে চায়ে দেয়া উত্তরগুলো কতটুকু সঠিক: সাধারণভাবে ifatwa.info–এর উত্তরগুলো হানাফি ফিকহ্ অনুযায়ী দেওয়া হয় এবং আইনগত দৃষ্টিকোণে গ্রহণযোগ্য। তবু ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বা বিশেষ প্রসঙ্গ অনুযায়ী ভিন্নতা হতে পারে; তাই গুরুতর বা জটিল মামলায় স্থানীয় মুফতি বা আলিমের সঙ্গে আলাপ করা উত্তম।
একটি প্রাসঙ্গিক হাদিস (উল্লেখ্য): রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন — “عَجِبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ...” (সাহিহ মুসলিম) — অর্থ: “মুমিনের ব্যাপার বেশ নাছোড়; তার যা-ই ঘটে তা তার জন্যই মঙ্গল, যদি কিছু সে পায় তাহাতে কৃতজ্ঞ, আর যদি না পায় তাহাতে ধৈর্যশীল।”