🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম। অন্যান্য ভাষায় লিখা বইগুলো বাংলা অনুবাদ আকারে প্রকাশ করার জন্য কি মূল লেখক বা মূল পাবলিকেশনের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন? এবং না নিলে কি গুনাহ হবার সম্ভাবনা আছে? এবং অনুমোদিত নয় এমন বইগুলো কিনে পড়লে কি গুনাহগার হতে হবে? উত্তর দিবেন মিন ফাদ্বলিক
ওয়ালাইকুমুস সালাম। (হানাফী মাযহাবের দৃষ্টিতে)

- মৌলিক লেখক/প্রকাশকের লিখিত অনুমতি: যদি লেখক বা প্রকাশক কোনও কপিরাইট/স্বত্ব দাবি করে থাকে বা স্থানীয় আইন এমন পুনর্মুদ্রণ/অনুবাদ নিষেধ করে, তাহলে অনুমতি নেওয়া ফরজ বা বাধ্যতামূলক—কারণ এটি অন্যের মালিকানা ও অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব। আধুনিক ফিক্‌হী মতানুসারে কপিরাইটকে মালিকানার একটি ধরণ মনে করে তার লঙ্ঘন করা অবৈধ ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে হারাম স্বীকৃত।
- অনুমতি নিতে ভুল হলে গুনাহ হবে কি না: অনুমতি প্রয়োজন থাকা অবস্থায় অননুমোদিত অনুবাদ/প্রকাশ করলে সেটি অন্যের অধিকার লঙ্ঘন এবং যদি এতে লেখক/প্রকাশক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় বা আপনি লাভ করেন, তাহলে হারাম এবং গুনাহ নয়। যদি প্রকৃত কোনো বৈধ দাবি না থাকে (অর্থাৎ লেখক/আইন কোনো বাধা না রাখে) ও ক্ষতি না হয়, তখন অনুবাদ করা সাধারণত জায়েজ, তবে সতর্কতা হিসেবে লেখকের নাম ও উৎস উল্লেখ করা উচিত।
- অননুমোদিত বই কিনে পড়লে: কেউ যদি জানেন যে বইটি পায়রেটেড/অবৈধ এবং তবুও তা ক্রয় করে বা বিক্রি করে, তবে এতে শরীক হয়ে অন্যায়কে সমর্থন করা হয়েছে—এটি নিন্দনীয় ও গুনাহ হতে পারে। যদি অজান্তে কেউ কিনে পড়ে, দোষ কম; তবুও পরবর্তীবার উৎস যাচাই করা এবং লেখককে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা উত্তম। পড়া নিজেই—বিশেষত যদি বইটি অহেতুক বদলে দেওয়া বা বিতর্কিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়—অপরাধের সহায়তা হতে পারে, তাই সতর্ক থাকা ভাল।

প্রয়োজন হলে সর্বোত্তম উপায়: লেখক/প্রকাশকের লিখিত অনুমতি নিন, সূত্র ও কৃতজ্ঞতা দেখান, স্থানীয় কপিরাইট আইন মেনে চলুন এবং যদি অনিশ্চয়তা থাকে তাহলে ফতোয়া বা স্থানীয় আলেমের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

সূত্র (একটি): হাদীস — "مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا" (যে আমাদেরকে ছলনা করে সে আমাদের মধ্যে নাই)। (বুখারি ও মুসলিম) — অন্যায়ের মাধ্যমে লোকের অধিকার হরণ নিষিদ্ধ হওয়াকে নির্দেশ করে।

মিন ফাদ্বলিক।