🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় উস্তাদ। আমি আর গুনাহ সমার্থক হয়ে গেছি। ইন্টার পাশ করে ফেলেছি, কিন্তু গোপন গুনাহ আমাকে ছাড়ছে না, আমিও ছাড়তে পারছি না। রমজান মাস সহ সব মাস সমান হয়ে গেছে। বিয়ের কথা বলছি, বাড়িতে রাজি আছে। তবে মনে হচ্ছে, বিয়ে করে কি এটা থেকে বাঁচতে পারবো। অনেকে বলে যে, যদি বিয়ের আগে এটা থেকে বাঁচা না যায়, তবে বিয়ের পরেও প্রবলেম থেকে যেতে পারে।
ওয়ালাইকুমুস্সালাম। ifatwa.info (হানাফি মাযহাব) থেকে সংক্ষিপ্ত জবাব—

১) প্রথমে তওবা করা অত্যাবশ্যক: সৎরূপে আর ফিরে না যাওয়ার নিক সিদ্ধান্ত, পেছনের গুনাহের জন্য আন্তরিক দোয়া ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তওবার মূল শর্তগুলো: (ক) পস্তাওয়া, (খ) গুনাহ তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দেয়া, (গ) ভবিষ্যতে আর তা করা থেকে স্থায়ীভাবে বিরত থাকার দৃঢ় নামজব করা। অতীতে কারো যে অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে (যদি থাকে) তাদের প্রতি সঠিক ব্যবস্থা নিতে হবে (যেমন মেরাদান হলে পরিত্রাণ দেওয়া ইত্যাদি)।

২) বিয়ে কি সাহায্য করবে: বিয়ে অনেকের জন্য নফস নিয়ন্ত্রণে বড় সহায়তা করে কারণ শারীরিক সম্পর্ক হালাল হয়ে যায় এবং জীবন সঙ্গী থাকার কারণে দায়বোধ ও দায়িত্ববোধ বাড়ে। তবে বিয়ে নিজে কোনো ওষুধ নয়—আপনি তওবা ও আচরণ পরিবর্তন না করলে বিয়ের পরেও পুরনো অভ্যাস থাকতে পারে। তাই বিয়ে করা ভাল কিন্তু তা করার আগে তওবা, মনোযোগী প্রস্তুতি, ও সমস্যার মূল কারণ কাটাতে চেষ্টা করে নিন।

৩) ব্যবহারিক পরামর্শ (ফৌরী ও স্থায়ী):
- তৎক্ষণাৎ আল্লাহর কাছে তওবা করুন এবং প্রতিদিন ইবাদত (নামাজ, কোরআন, দোয়া) বাড়ান।
- উদ্দীপক জিনিসসমূহ (অশ্লীল সাইট/দৃশ্য, একান্ত নিভৃততা) থেকে নিজেকে দূরে রাখুন—টেকনিক্যাল ব্লক, ফোন/কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ব্যবহার করুন।
- নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখুন, সমাজে মিশুন, কোন কার্যকরী মেন্টর বা ইসলামী ভাইয়ের সহায়তা নিন।
- প্রয়োজনে পেশাদার কাউন্সেলিং বা চিকিৎসা সহায়তা নিন (যদি স্বাধীনভাবে ছাড়ানো কঠিন হয়)।
- বিয়ে করলে সঠিক ইসলামিক নিয়মে নিকাহ সম্পন্ন করুন (মহর, সাক্ষী, প্রকাশ্যতা ইত্যাদি) এবং জীবন সঙ্গীর সাথে স্পষ্ট প্রত্যাশা নির্ধারণ করুন।

৪) হাল না ছাড়ার সম্পর্কিত তসকিন (আশ্বাস): Rasulullah (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "كل ابن آدم خطاء، وخير الخطائين التوابون" — প্রতিটি মানুষ ভুলকারী, আর ভুল করলে সেরাটি সেই যে তওবা করে। (حديث، رواه الترمذي) তাই আল্লাহর রহমতের আশা রাখুন এবং স্থির পরিশ্রম চালিয়ে যান।

সংক্ষেপে: বিয়ে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু পূর্ব শর্ত—সৎ তওবা ও জীবন বদলের ইচ্ছা। প্রয়োজনে সামাজিক ও পেশাদার সহায়তা নিন এবং নিয়মিত ইবাদত বজায় রাখুন। আল্লাহ তাআলার কাছে সব সময় ফিরে আসার সুযোগ আছে; হাল ছাড়বেন না।