🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ। কারো চাকরীর যদি 90_94% ইনকাম হালাল হয় আর বাকি 6_7% যদি হালাল না হয় তাহলে এমন চাকরীকে কি হালাল চাকরী বললে গুণাহ হবে বা ঈমানে সমস্যা হবে ? ২.আর এমন চাকরীর পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলে কি গুণাহ হবে অথবা ঈমানে কোন সমস্যা হবে ? ৩. এভাবে করা যাবে হে আল্লাহ যেসব জায়েজ না ওসব কাজ থেকে আমাকে দূরে রাখুন ওসব কাজ যেন করতে না হয়। ওই চাকরী করলে এভাবে বলে দোয়া করা যাবে মানে ওই চাকরীর জন্য?আর করলে কি গুণাহ বা ঈমানে সমস্যা হবে?
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওরাহমাতুল্লাহ। নিম্নে হানাফি ফিকহ অনুসারে সংক্ষেপে উত্তর দেওয়া হলো (একটি মাত্র পবিত্র গ্রন্থীয় উদ্ধৃতি সংযুক্ত):

1) যদি চাকরির আয় ৯০–৯৪% হালাল ও প্রায় ৬–৭% হালাল না হয় — তাহলে সমগ্র বেতনকে একমুঠো “হালাল” বলে নির্দোষভাবে বলা ঠিক নয়। হানাফা অনুযায়ী যে অংশ নিশ্চিতভাবে হারাম (যেমন রিবা, জুয়ার অর্থ, সরাসরি হারাম কাজের পারিশ্রমিক ইত্যাদি) তা গ্রহণ ও খাওয়া থেকে বিরত থাকা বাধ্যতামূলক। যদি হারাম অংশ আলাদা করে নির্ণয় করা যায়, সে অংশ আলাদা করে ত্যাগ/দান করা উচিত; যদি নির্ণয় করা সম্ভব না হয় এবং পুরো বেতন অনিবার্যভাবে মিশে থাকে, তবু সতর্ক থাকা, যা সম্ভব তা আলাদা করে বের করার চেষ্টা করা এবং সন্দেহজনক অংশ আলাদা করে দান করা উত্তম। মোটের ওপর — মূল আয় থেকে হারাম অংশের বিষয়টি গৃহ্য কিন্তু পুরো চাকরিটাকেই নির্দোষভাবে “পুরোদম হালাল” বলা শুদ্ধ নয়।

2) আল্লাহর কাছে এমন দোয়া করা — অর্থাৎ আমাকে এমন রোজগার দিন যাতে হারাম অংশ কম/না থাকে বা আমাকে হারাম থেকে বিরত রাখো — এতে কোনো গুনাহ বা ইমানের সমস্যা নেই; বরং এটা প্রশংসনীয়। মানুষকে হারাম থেকে বিরত রাখার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা সুপারিশ করা হয়েছে এবং নিজের চেষ্টা ও তাওবাহ (পশ্চাত্তাপ) অত্যন্ত প্রয়োজন।

3) বিশেষভাবে বললে — “হে আল্লাহ, আমাকে সেই সব জায়েজ নয় এমন কাজ থেকে দূরে রাখুন যাতে আমি সেগুলো করতে না পারি” — এমন দোয়া করা সম্পূর্ণ জাইয এবং উক্ত কর্ম সম্পর্কে আত্মসংযম ও আইনী সীমানা রক্ষা করার ইচ্ছার প্রকাশ; এতে কোনো গুনাহ বা ঈমানের অভাব নেই। পাশাপাশি চেষ্টা করবেন হারাম অংশ কমাতে, প্রয়োজন হলে চাকরি বা কাজ পরিবর্তন বিবেচনা করবেন; যদি তা এখনই সম্ভব না হয়, তাহলে সন্দেহভাজন অংশ আলাদা করে নির্ণয় করে তা বিনা রেওয়া (সৎ মন) দান করুন ও সময়োপযোগী চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

প্রমাণ হিসেবে কোরআন উল্লেখযোগ্য: “... وَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلَالًا طَيِّبًا ...” (সূরা মায়িদাহ: ৫/৮৮) — অর্থাৎ আল্লাহ যা রিযিক দিয়েছেন, তা থেকে হালাল ও পবিত্র খাবার গ্রহণ করো। এটি থেকে আয় ও রুজির হালাল হওয়া গুরুত্ব প্রদর্শিত হয়।

পরামর্শ: নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (চাকরির প্রকৃতি, ইনকাম বিভাজ্যতা ইত্যাদি) সঠিক প্রয়োগের জন্য স্থানীয় বিশ্বস্ত হানাফি আলেমের সাথে আলাপ করে নির্দিষ্ট হিশাব বের করলে ভালো হবে।