🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

শাশুড়ী অত্যাচারি।মানসিক প্রেসার দেয়। এ অবস্থায় হাসবেন্ড আলাদা রাখতে না চাইলে করনীয় কি?
প্রশ্নটি সংক্ষেপে: শাশুড়ীর বিকৃত আচরণে মানসিক কষ্ট হচ্ছি; স্বামী আলাদা রাখতে রাজি নেই—এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?

উত্তর (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, ifatwa.info শৈলীতে):

1. প্রথম পর্যায়ে সাবলীল উপায়ে স্বামীর কাছে বিষয়টি रखें; তাকে বোঝান যে ইসলামে স্ত্রীকে প্রতারণা বা মানসিক নির্যাতন করা গ্রহণযোগ্য নয় এবং আপনার ওপর যে কষ্ট হচ্ছে তাতে বিবাহী জীবন বিপন্ন হতে পারে। সহমর্মিতা ও যুক্তিসঙ্গত শিক্ষণ দান করুন।

2. ধৈর্য রেখে মর্যাদা বজায় রাখুন, তবে "ধৈর্য মানে নির্যাতন সহ্য করা" নয়। যেখানে সম্ভব সীমা স্থাপন করুন (যথাযথ আচরণ, একান্ত কথোপকথন এড়ানো ইত্যাদি) যাতে সরাসরি আঘাত কমে।

3. মধ্যস্থতা/পাচক করান: পরিবারের সম্মানিত সদস্য, স্থানীয় ইমাম বা কাউন্সিলারের মাধ্যমে স্বামী ও শাশুড়ীকে বোঝানো দরকার। বহু সমস্যা মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান হয়।

4. যদি পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে সুন্দর না হয় এবং মানসিক/শারীরিক ক্ষতি হয়, তো শারই (কাজী/শরীয়ত) বা দেওয়ানি আদালতে আবেদন করতে পারেন — হানাফি ফিকহে "দরার" (নষ্ট করা/ক্ষতি) থাকলে কাদের (কাজী) দ্বারা فسخ (fasakh — বিচারিক বিযুক্তি) বা অন্যান্য রিলিফ দেওয়া যেতে পারে। আপনার নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ (নোট, মেসেজ, সাক্ষী, চিকিৎসা রিপোর্ট) রাখুন।

5. প্রয়োজন হলে নিরাপত্তার জন্য আলাদা থাকা গ্রহণযোগ্য; যদি আলাদা হওয়া শাশুড়ীর আচরণ থেকে মুক্ত থাকার একমাত্র উপায় হয়, তা করা জায়েজ। এমন離 থাকা করেই নয় যে স্বামী আপনাকে অস্থায়ী ভাবে পরিত্যাগ করলে নফাকাহ (maintenance) ও বৈধ অধিকার নিয়ে পরবর্তীতে সমস্যা হয়—অতএব কাজী/কোর্টকে বিষয়টি জানিয়ে শারই নির্দেশনা নেওয়া ভালো।

6. নৈতিক ও ইসলামী সীমা বজায় রাখুন: গীবত, অপপ্রচারের পথে না যান; কিন্তু নিজের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় সক্রিয় হোন।

7. দ্রুত সাহায্যের প্রয়োজন হলে স্থানীয় ইসলামিক ফোরাম, মহিলা হেল্পলাইন বা আইনগত সহায়তা গ্রহণ করুন; নাতিদীর্ঘ মানসিক ক্ষতি হলে চিকিৎসা/মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।

সিদ্ধান্ত ও বিকল্প নেওয়ার সময় উদ্দেশ্য হোক—নিজের ইমান, সুরক্ষা ও গৃহস্থালির স্থিতি রক্ষা। চলতি সমস্যা বিচারিকভাবে সমাধানযোগ্য এবং প্রয়োজন হলে কাজীর সহায়তায় فسخ/অন্যান্য রিলিফ সম্ভব।

রেফারেন্স (হাদিস): "لا ضرر ولا ضرار" — (হাদিস; ইবন মাজাহ)।