কারো স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো না হলে হুজুর এনে তওবা কেন করানো হয় বিশেষ করে চট্টগ্রামের দিকে?
চট্টগ্রামের মতো জায়গায় রোগীর পাশে হুজুর (মসজিদের ধর্মীয় নেতা/বউল/কওমি ওলামা) এনে তাকে তাওবা করান হওয়ার মূল কারণগুলো ও হানাফি রায় নিম্নরূপ —
- উদ্দেশ্য: রোগীর মনে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, গুনাহ থেকে তওবা করা, ক্বরআন পড়ে শোনানো ও শাহাদাত-মোনাজাত করিয়ে শেষ কথা আল্লাহর নাম করানো—এগুলো মৃত্যুর আগে এহসান করার উদ্দেশ্য।
- শর্ত ও মর্যাদা: প্রচলিতভাবে কাউকে উইল-ভিত্তিতে জোর করে তাওবা করানো বা হুজুরকে বিশেষ ক্ষমতা ধারক হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। তাওবা স্বেচ্ছা ও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন; অন্য কেউ ব্যক্তিগত তাওবা বদলায় না, তবে অন্যান্যরা তার কাছে দোয়া করতে, ক্বরআন পড়াতে ও গোনাহ মাফীর জন্য আল্লাহর কাছে সুবিচার প্রার্থনা করতে পারে।
- অনুমোদন ও সীমা (হানাফি মতে): রোগীর কাছে আল্লাহর কাছে ফিরে আসার শিক্ষা দেওয়াকে অনুমোদিত এবং ওঁদের জন্য দোয়া ও সাদাকা দেওয়াকে সওয়াবময় বলা হয়। কিন্তু কোনও ব্যক্তি বা রক্ষাকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ ছাড়া মৃত্যু রোধ করার ক্ষমতা সঁপে দেওয়া বা কুসংস্কার (বিদের/শির্ক) মেনে চলা হারাম বা নবীর নবদী ধর্মবিরোধী।
একটি বিস্তারকারী আয়াত বিশ্লেষণগত নির্দেশ হিসেবে দেওয়া যায়:
“বল: হে আমার বান্দারা, যারা নিজের উপরে অত্যাচার করেছে! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হিও না; আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে, তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়াবান।” (সূরা জুমর/অয-যুমার 39:53)