🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ মানে একবার ঈলার মিলিত হওয়ার আগে কোনদিন আবার ঈলা করলে ওখানে যে সময় মেনশন করে দেওয়া আছে ৭_৮ মাসের ভেতর এতে কোন সমস্যা হয় না এটা বুঝানো হয়েছে ??মাফ করবেন হুজুর ভালো করে বুঝার জন্য কারণ এটা নিয়ে মারাত্মক টেনশন কাজ করে।।। https://ifatwa.info/142137/ এখানে বলা হয়েছে তালাক হবে না
ওয়ালাইকুম আসসালামু ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।

আপনার টেনশন বোঝা যাচ্ছে। বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য প্রশ্ন করার জন্য ধন্যবাদ।

আপনার প্রশ্নটি হলো, ইলার কসম করার পর প্রথম ইলার সময় (যেমন ৭-৮ মাস) শেষ হওয়ার আগেই যদি স্বামী আবার ইলার কসম করে, তাহলে কি প্রথম ইলার সময় বর্ধিত হবে, নাকি প্রথম ইলার মেয়াদ অনুযায়ী তালাক হয়ে যাবে? আর আপনার দেওয়া fatwa.info/142137 লিংকের সাথে আপনার পরিস্থিতি মিলে যাচ্ছে কিনা?

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত উত্তর:

যদি স্বামী একবার ইলার কসম করে (অর্থাৎ চার মাস বা তার বেশি সময় স্ত্রীর সাথে সহবাস না করার কসম), এবং সেই কসমের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সে আবার ইলার কসম করে, তাহলে প্রথম ইলার মেয়াদ কোনোভাবেই বর্ধিত হয় না বা নতুন করে গণনা শুরু হয় না। প্রথম কসমের মেয়াদ অনুযায়ীই সময় গণনা চলতে থাকবে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

1. ইলার মূল উদ্দেশ্য: ইলার বিধানের উদ্দেশ্য হলো স্ত্রীকে দীর্ঘ মেয়াদী যৌন বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করা। শরীয়ত স্বামীকে একটি নির্দিষ্ট সময় (সর্বনিম্ন ৪ মাস) দেয়, যার মধ্যে সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে সে স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক রক্ষা করবে নাকি বিচ্ছেদ ঘটাবে।

2. একাধিক কসমের বিধান (হানাফি): যদি স্বামী ইলার কসম করার পর, প্রথম কসমের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয়বার ইলার কসম করে (একই স্ত্রীর জন্য), তাহলে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী এই দ্বিতীয় কসমের কারণে প্রথম কসমের মেয়াদ নতুন করে শুরু হবে না বা বর্ধিত হবে না। প্রথম কসম যেই দিন করা হয়েছে, সেই দিন থেকেই চার মাস (বা কসমে উল্লিখিত মেয়াদ, যদি চার মাসের বেশি হয়) গণনা করা হবে।

3. ফলাফল:
* যদি প্রথম কসমের মেয়াদ (যেমন আপনার উল্লেখিত ৭-৮ মাস) শেষ হওয়ার আগেই স্বামী স্ত্রীর সাথে সহবাস করে নেয়, তাহলে ইলার কসম ভঙ্গ হয়ে যাবে। তালাক হবে না, তবে কসম ভাঙ্গার কাফফারা (কসমের কাফফারা) আদায় করা ওয়াজিব হবে।
* যদি প্রথম কসমের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং এই সময়ের মধ্যে স্বামী স্ত্রীর সাথে সহবাস না করে, তাহলে তালাক-এ-বায়েন (বায়েন তালাক) সংঘটিত হয়ে যাবে, দ্বিতীয় কসমের কারণে তালাক বিলম্বিত হবে না।

4. আপনার উল্লিখিত ফতোয়ার (ifatwa.info/142137) সাথে পার্থক্য:
আপনি যে ফতোয়াটি উল্লেখ করেছেন, সেখানে বলা হয়েছে: "যদি স্বামী ইলার কসম করার পর সঙ্গম করে ফেলে, তাহলে ইলার সময় শেষ হয়ে যাবে। তালাক হবে না। আর ইলার কসম ভাঙার কারণে কসমের কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব হবে।"

এই ফতোয়াটি সঠিক, কিন্তু এটি আপনার বর্তমান পরিস্থিতির থেকে ভিন্ন। এই ফতোয়াটি সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন স্বামী ইলার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলে। সহবাস করলে ইলা ভেঙে যায় এবং তালাক হয় না।

কিন্তু আপনার প্রশ্নটি হলো, সহবাস না করে যদি আবার কসম করে। এই ক্ষেত্রে, যেহেতু সহবাস হয়নি, তাই আগের কসমের মেয়াদ অনুযায়ীই বিধান কার্যকর হবে।

সারসংক্ষেপ:

আপনার মারাত্মক টেনশন দূর করার জন্য সহজভাবে বলা যায়, যদি ইলার একটি কসম করা হয় এবং সেই কসমের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্বামী আবার ইলার কসম করে, কিন্তু স্ত্রীর সাথে সহবাস না করে, তাহলে প্রথম কসমের মেয়াদ অনুযায়ীই ফলাফল নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ, প্রথম কসমের মেয়াদ শেষ হলে (এবং সহবাস না হলে) তালাক-এ-বায়েন হয়ে যাবে। নতুন কসম প্রথম কসমের মেয়াদকে বাতিল বা বর্ধিত করে না।

রেফারেন্স:



যদি আপনার পরিস্থিতিতে কোনো সহবাস না হয়ে থাকে এবং প্রথম কসমের নির্দিষ্ট মেয়াদ (যেমন ৭-৮ মাস) পার হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী তালাক-এ-বায়েন সংঘটিত হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য একজন বিজ্ঞ স্থানীয় আলেমের সাথে সরাসরি পরামর্শ করা আপনার জন্য সবচেয়ে উপকারী হবে।

আল্লাহ তায়ালা আপনার টেনশন দূর করুন এবং সহজ পথ দেখান।