কেউ ভুলে ছোট শিরক/কুফরি ভেবে না বুঝে বড় শিরক/কুফরি করে ফেললে।বড় শিরক জানলে জীবনেও করার কথা চিন্তাও করে না এমন মানুষ। পরে জানার পর তওবা করলে হবে নাকি ঈমান চলে যাবে?
সংক্ষিপ্ত উত্তর — হানাফী মতানুযায়ী:
1) যদি কেউ জেনে–সু centerpiece/উদ্দেশ্য নিয়ে স্পষ্ট বড় শিরক বা কুফর করে (অর্থাৎ যেটা বুঝে বিশ্বাস বা ঘোষণা করে যে আল্লাহর সমতুল্য বা প্রতিপালন অন্য কাউকে দেওয়া হবে, অথবা ঈমানের মৌলিক বিষয় নাকচার করে), তাহলে সেটা ঈমান ছিন্ন করার সমতুল্য।
2) আর যদি সেটা ভুলে বা অজ্ঞতাবশত হয়েছে — অর্থাৎ সে জানত না এটা বড় শিরক/কুফর এবং জানলে করত না — তাহলে হানাফী উলামার কাছে সাধারণত অজ্ঞতা এক রকম হালকা করে; তেমন অবস্থায় যদি ব্যক্তি পরে বুঝে সত্যিই নেপথ্যে অনুতপ্ত হয় এবং সৎ হৃদয়ে তওবা করে, তবে তার তওবা কবুলের সম্ভাবনা আছে এবং ঈমান স্থিতিশীল করা যায়। মোট কথা: সততা ও ইচ্ছাকৃত কুফর করলে ঈমান যায়; ভুল/অজ্ঞতায় হলে তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করতে পারেন এবং ঈমান ফিরিয়ে নিতে পারেন।
তওবার প্রয়োজনীয়তা ও কার্যপদ্ধতি (ব্যবহারিক):
- আন্তরিক অনুতাপ (পূর্বকৃত কর্মকাণ্ডের জন্য দু:খ ও লজ্জা)
- তাৎক্ষণিক সেই কাজ বন্ধ করা
- পুনরায় সে পাপে ফিরে না যাওয়ার ষড়যন্ত্র করা (ঈমানপূর্ণ সংকল্প)
- যদি কারও অধিকার হরণের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাদের অধিকার ফেরত দেওয়া/ক্ষতিপূরণ করা
- ইসলামী জ্ঞান বাড়ানো এবং দু’আ করা; প্রয়োজনে কালেমা পড়ে নিজেকে নবীকরণ (যদি সাব্যস্ত থাকে যে সে কার্যত কুফর ঘোষণা করেছিল)
আল্লাহর রহমত সম্পর্কে কয়েন: যে লোকেরা নিজেদের ওপর অত্যাচার করেছে (অর্থাৎ পাপ করেছে), তাদেরকে বলা হয়েছে আল্লাহর রহমত থেকে মনে হতাশ হউন না; আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন যদি তারা তওবা করে। (কিতাব: আল-কুরআন,সূরা আজ–যুমার 39:53)