🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, ১. আমার পরিচিত একজন আন্টি আছেন যার ৬০+ বয়স । কিছু কারণে তিনি এখনো অবিবাহিত। তার জ্বীন জাদুর সমস্যা অনেক আগে থেকেই। তিনি বলেন যে তার সাথে একজন ভালো জ্বীন আছে যে তাকে ইবাদাত আমলে সাহায্য করে। আমার বিয়ে হয় ১ বছর আগে। আমার বিয়ের কয়েকমাস আগে তিনি আমাকে বলেছিলেন যে তার জ্বীন তাকে বলেছে আমি যেন প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর সূরা ইয়াসিন পড়ে তারপর উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য দুয়া করি । আমি উনার কথা শোনার পর থেকে জ্বীন বলেছে এই কারণে নয় বরং শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই আমল করেছি যদিও প্রতিদিন পড়তে পারিনি। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমার দুআ কবুল করেছেন। বিয়ের জন্য আমি আরো অন্যান্য আমল ও করেছিলাম। আজ সকালে তিনি আবার এসেছিলেন এবং বলেছেন তার জ্বীন তাকে বলেছে দ্রুত আমার বাসায় এসে আমাকে বলতে যে আমার শাশুড়ি এবং ননাস আমার ক্ষতি করতে চেষ্টা করবে, আমাকে নানাভাবে কষ্ট দিতে চেষ্টা করবে , আমি যেন সবসময় চুপ থাকি এবং সহ্য করে যাই পাশাপাশি ইয়া হায়্যু ইয়া কাইয়্যুম জিকিরের মতো পড়ি এবং প্রতিদিন যোহরের নামাজ পড়ে তারপর সূরা আর রহমান এবং সূরা মূলক পড়ে মুনাজাতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই। বর্তমানে আমার শাশুড়ি এবং নানাসের সাথে আমার সম্পর্ক ভালো আলহামদুলিল্লাহ তবে মাঝে মাঝে কিছু ঝামেলা হয় । আমি ঐ আন্টির কথা বা জ্বীনের কথা বিশ্বাস করছি না তবে আমি যদি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই আমলগুলো করি তাহলে কি আমার গুনাহ হবে? ২. আমি রান্না ঘরে কাজ করার কারণে খুব গরম লাগে সবসময়। আমি সারাদিন থ্রিপিস পড় থাকলেও রাতে ঘুমানোর সময় আরামদায়ক টিশার্ট ট্রাউজার পড়ে ঘুমাই। এটা শুধু আমার হাজব্যান্ডের সামনেই পড়ি এবং তিনিও পছন্দ করেন ‌। এতে আমার সতর কিছুটা খোলা থাকে। এভাবে ঘুমালে কি গুনাহ হবে বা ঘরে ফেরেশতাগণ প্রবেশে বাধা হবে ?
ওয়ালাইকুমুস সালাম। — ifatwa.info (হানাফী ফিকহ অনুসারে)

১) জ্বীন যে আমলগুলো বলে করেছে — যদি সেই আমলগুলো আল্লাহর শরীয়ত সম্মত (যেমন নামাজ, কুরআন পাঠ, সৎ-দোয়া, সাধারণ ধিকর ইত্যাদি) এবং তুমি তা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করো, তবে এতে গুনাহ নেই। আমলের মূল্য নির্ধারিত হয় নিকটতম নিয়ত দিয়ে; আমল যদি ইমানী ও শির্কমুক্ত নিয়ত থেকে করা হয় তাহলে আল্লাহ তা গ্রহণ করতে পারেন। (হাদিসের নির্দেশ: “ইন্নামা আল-আ’মালে বিল নিয়্যাত” — সহীহ বুখারী)।

তবে সাবধানতার几点:
- জ্বীন বা অন্য কোনো অবৈধ উৎসের আজ্ঞা মেনে চলা, জ্বীনকে অবলম্বন করা বা জ্বীনকে ইবাদতের মাধ্যম ধরে নির্ভর করা শির্ক বা গোনাহের সঙ্গে মিলতে পারে — এমন নির্দেশ যদি থাকে তা তৎক্ষণাত ত্যাগ কর।
- যদি আন্টি জ্বীনকে অনুসরণ করে বা জনগণের কাছে বলে যে জ্বীনই এসব বলেছে, তাকে বিরত করাই ভালো।
- অনাবশ্যকভাবে জ্বীন-অন্তঃসম্পর্ক বজায় রাখা যাবে না; যদি জ্বীন থেকে লোকটিকে কষ্ট হয় বা ভয় হয়, যোগ্য আলেম/রুকইয়াহকারী (শরীয়ত সম্মত রুকইয়াহ) এর কাছে দেখে নেওয়া উচিত।
- অনুমানভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণী বা জাদুবিদ্যা, সহায়তার জন্য জ্বীনকে ভরসা করা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হবে।
সংক্ষেপে: যদি তুমি এসব আমল শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য করো এবং সেখানে কোনো শির্ক বা নিষিদ্ধ অনুষঙ্গ না থাকে, গুনাহ নেই; কিন্তু জ্বীনকে অনুসরণ বা তার আজ্ঞা মেনে চলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে শারীরিক/মানসিক কষ্টের ক্ষেত্রে শুরাকি আলেম বা চিকিৎসার সাহায্য নাও।

২) ঘুমানোর পোশাক ও ফেরেশতাদের ব্যাপার — স্বামী যে সময় উপস্থিত, সেই সময়ে স্ত্রী তার স্বামীর সামনে শরীর দেখানোতে মৌখিক বা ঐহিকভাবে কোনো গুনাহ নেই; স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের ক্ষেত্রে পরস্পরের আবরা/হজ্জবে আলাদা রায় আছে — সাধারণত স্বামী নিজের স্ত্রীর সমস্ত শরীর দেখতে পারে। তবে স্বামীর অনুপস্থিতিতে অযথা অর্ধ-উম্মে খোলা অবস্থায় থাকা না করা উত্তম। অন্য পরিবারের সদস্য (নন-মাহরাম) থাকলে তাদের সামনে অবশ্যই শরীরের আবরা ঢেকে রাখা জরুরি।

অন্য প্রশ্ন: এমন হালকা টিশার্ট-ট্রাউজারে ঘুমালে ফেরেশতারা প্রবেশে বাধা হবে কি না — এরূপ কোনো নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় শর্ত নেই যে ফেরেশতা নির্দিষ্ট ধরনের পোশাক দেখে ভীত বা ঢুকবে না। ফেরেশতারা আল্লাহর আজ্ঞায় আসে; ঘরের পরিবেশ, ইমানী আমল ও তাৎপর্য বেশি প্রভাব ফেলে। তবে শালীনতা ও হিজাব রক্ষায় মনযোগ রাখো এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে অপুরুষদের সামনে অঢেকে ঘুমো থেকে বিরত থাকো।

সিদ্ধান্তসংক্ষেপ:
- জ্বীন-প্রসূত নির্দেশ যদি শরীয়তসঙ্গত হয় এবং তোমার নিয়ত আল্লাহর জন্য থাকে, তা করা গুনাহ নয় — কিন্তু জ্বীনকে বিশ্বাস করে চলা কিংবা জ্বীন-নির্ভরতা গ্রহণ করা বিপজ্জনক, তাই তা ত্যাগ কর।
- স্বামীর সামনে হালকা পোশাক পড়া সরাসরি গুনাহ নয়; তবে অন্যান্যদের সামনে আবরা ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক।

(হাদিসের উদ্ধৃতি শুধু নির্দেশমূলক: “ইন্নামা আল-আ’মালে বিল নিয়্যাত” — সহীহ বুখারী)