ইমাম সাহেব মিলাদ পড়ান তাহলে তাকে সালাম দেওয়া সম্মান করা ও সম্মান জানানো কি জায়েয?
বিদআতী মুসলমানদের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক রাখা যাবে?
সংক্ষেপে উত্তর (হানাফী ফিকহ অনুসারে — ifatwa.info-এর ধারা অনুযায়ী):
1) ইমাম যদি মিলাদ (মওলিদ/নবীর জন্মদিনের আয়োজন) পড়ান — তাকে সালাম দেওয়া, সামান্য সম্মান দেখানো ও সামাজিক ভদ্রতা বজায় রাখা শৈরীভাবে জায়েয। কারণ সে মূলে মুসলমান; আত্মীয়-সম্পর্ক ও সামাজিক ভদ্রতা কায়েম রাখা ইসলামিক আচরণ। তবুও মিলাদকে প্রশংসা বা নবজাত প্রথাকে শুদ্ধ আদি ইসলামী প্রথা বলিয়া উঁচুতেই স্থাপন করা বা তার বিদআতকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
2) বিদাআতী মুসলমানদের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক রাখা যাবে; তাদের সাথে নরমমাত্রায় আচরণ, সালাম-সদকা ও রিশতা-সম্পর্ক বজায় রাখা সালাহ (ভাল)। অন্যদিকে সুবিনয়ভাবে তাঁদের ভুল-ভ্রান্তি বুঝিয়ে বলা, কষ্ট করে ত্যাগ করা বা উদ্ভুত বিভ্রান্তি ছড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অনুমোদিত। যদি সে খোলাখুলি ভুলকথা বলিয়া মানুষকে ভ্রান্ত করিয়া মিস্কিদায়া বা নেতৃত্বে ক্ষতি করে, তৎক্ষণাৎ সতর্কতা-প্রয়োগ ও সমাজগত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত (কিন্তু সাধারণভাবে হটিয়ে-দেওয়া বা কুফুরি সাব্যস্ত করা নয় যতক্ষণ সে মূল ঈমানকে অস্বীকার না করে)।
উল্লেখিত নীতির ভিত্তি হিসাবে একটি সাহিহ্ হাদীস: "مَنْ أَحْدَثَ فِيْ أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ" — “যে ব্যক্তি আমাদের এই বিষয়ে এমন কিছু উদ্ভাবন করে যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।” (সাহিহ্ মুসলিম)