সন্তান প্রসবের পূর্বের স্বলাত ও বিবিধ
ifatwa.info (হানাফি মত) অনুসারে সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা — সন্তান প্রসবের পূর্ব ও প্রসবের সময় সালাত ও অন্যান্য বিবিধ বিষয়ে:
- মূল কথা: সালাত ফরজই থাকে; যে পর্যন্ত সক্ষম তা আদায় করতে হবে। প্রসবের কষ্ট থাকা সত্ত্বেও যদি স্বলাত পড়া সম্ভব হয়, তবে ফরজ পড়তে হবে। যদি দাঁড়ানো যায় না, বসে বা শুয়ে সালাত করা যায় — শরীয়ত অনুযায়ী যে মত থাকতে পারে সেই ভঙ্গিতে রাকআত পূরণ করবে।
- প্রসবের সময় কষ্ট সাময়িক হলে: ব্যথার ফাঁকে (contraction-এর মধ্যেমধ্যে) সালাত করা আদেশযোগ্য।
- কঠোর ব্যথা/সমস্যায় অক্ষম হলে: যদি শারীরিক কারণে সত্যি কষ্টজনকভাবে সালাত পড়া অসম্ভব হয় বা ভুলে যান, তাহলে পরে ঐ ফরজগুলো কায়াম (কাদা) করে পূরণ করতে হবে।
- ওয়ু' ও তায়াম্মুম: যদি পানি ব্যবহার করলে ক্ষতি হয় বা পানি নিতে পারে না, তবে তায়াম্মুম করা যায়; সাধারণত পানি হয়ে থাকলে ওয়ু' করাই উত্তম।
- নিফাস (পরিসেবা/বাচ্ছা প্রসবের পরে রক্তপাত): প্রসবের পর যে রক্তপাত হয় তা nifas বলে — nifas চলাকালীন নারী সালাতের অবকাশ প্রাপ্ত; nifas-এর দিনগুলোতে সালাত বা রোজা উচিত নয় এবং এগুলো পরে কাদা করা হয় না। হানাফী মতে nifas-এর সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪০ দিন; যদি রক্তপাত ৪০ দিন কাটিয়ে চলতে থাকে তবে বাকিটা istihadah ধরা হয় এবং সেই অবস্থায় সালাত আদায় করতে হবে।
- নষ্ট হওয়া বা হারানো সালাত: প্রসবকালীন অসামর্থ্যের কারণে না পড়া ফরজগুলো কাদায় পরে পড়তে হবে (কিন্তু nifas-এ করার নিয়ম আলাদা, যেমন উপরে বর্ণনা)।
- নফল, দোয়া ও অন্যান্য আমল: প্রসবের আগে ও সময়ে বেশি দোয়া, কোরআন পাঠ ও ধাক্কা-তাসবিহ করা প্রশস্তভাবে সুপ্রশংসিত; নফল পড়া সম্ভব হলে পড়তে পারেন, তবে কষ্ট হলে সংক্ষিপ্ত রাখবেন। চিকিৎসা-সেবা নেওয়া, ডাক্তার নির্দেশ মেনে চলা ও দু’আ—সবই করা যায়।
তথ্যসূত্র (হানাফি): Ibn Abidin, Radd al-Muhtar (ফিকহীয় বিধানসমূহ অনুযায়ী)।