🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আল্লাহর ওয়াস্তে পুরো বিষয়টি পড়ে উত্তর দিলে উপকৃত হতাম! কেননা এর কারণে আমি মানসিক ভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি, মনে হলেও বা দোয়া এমনকি নামাজেও অনুশোচনায় চোখ দিয়ে পানি ঝড়ে 😭😭😭 আমার বয়স ২২, বর্তমানে আমি কারীসাব, কিন্তু শুরু থেকে এখন অবধী জেনারেলে অনার্সে পড়ছি!আমি ১২ বছর থেকেই ৫ ওয়াক্ত নামাজ সহ ইসলামি বিধান অনুসারে জীবন চলতে পছন্দ করি! কিন্তু ২০২১এর শেষের দিক থেকে আমি টিউশনি পড়াতাম তো সেখানে ছাত্রী দের সাথে কথা বললে, সাদা পিচ্ছিল পানি বাহির হতো, তাই নামাজ পড়ার আগে প্রস্রাব করতে গেলে এরুপ পানি বাহির হতো, টিস্যু ব্যবহার করলেও বাহির হতো তাই, আমি পরিস্কারের জন্য দেওয়ালে পুরুষাঙ্গ ঘষাতাম, আমি হস্তমৈথুন কি,কিভাবে করা হয় এটি জানতাম না, কিন্তু একটা লিখনি পড়ে আমার এরুপ কাজের জন্য নিজের প্রতি অনেক অনেক রাগ ও কষ্ট হচ্ছে প্রায় সময় চোখ দিয়ে পানি বাহির হয়! ২০২৫ সালের শেষের দিকে পরীক্ষা করে আমার Epididiyo orcratics with moderate hydrocile রোগ ধরা পড়েছে! এর কারণেও এরুপ পানি বাহির হতো পারে! আমার প্রশ্ন হলো আমার এই কাজটি কি হস্তমৈথুনের মধ্যে পড়ে এবং আমার নিয়ত যেহেতু ইস্তেঞ্জা/ পরিষ্কার হওয়া, তাছাড়া আমি হস্তমৈথুন কি তা জানতাম না! তাই এতে আমার কোনো গোনাহ হবে কি? গোনাহ হলে এখন করণীয় কি কুরআন হাদিসের আলোকে জানতে চাই?
ওয়ালাইকুমুসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আপনার কষ্ট বোঝতে পারছি — আল্লাহ দরগাহে রহমতবান এবং তওবাহের পথ সবসময় খোলা। সংক্ষেপে হানাফি শরীয়তের আলোকে উত্তরে বলছি —

১) যদি আপনার কাজটি নিছক পরিচ্ছন্নতা (ইস্তিনজা/পিসকাপ) করার উদ্দেশ্যে ছিল এবং আপনার ইচ্ছাকৃতভাবে যৌন তৃপ্তি কিংবা শুক্রবিসর্জ্য (মনিজ) অর্জনের উদ্দেশ্য ছিল না, তাহলে এটি গোনাহ নয়। বিশেষ করে যে পানি বা পাতলা সাদা নিঃসরণ ছিল সেটা অনেক সময় মেডিক্যাল কারণে হয়ে থাকে — সেই ক্ষেত্রে দোষ আপনার উপর পড়ে না। আপনি নিজে পরে জানতে পেরেছেন যে এটা যৌন আচরণ বা হস্তমৈথুন ছিল না, তাতে আপনাকে দোষী ধরা উচিত নয়।

২) যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে যৌনভাবে উত্তেজিত করে এবং শুক্রবিসর্জ্য (মেনী/মনিজ) বের করে, হানাফি মতানুসারে সাধারণভাবে সেটিকে ঘৃণ্য/নাপছন্দ (মাকরুহ) হিসেবে দেখা হয়; অনেক হানাফি উলামা বলেন, বড় পাপকর্ম না হলেও অবৈধ হলে স্ত্রীর বাইরে যৌন তৃপ্তি উদ্দেশ্যে করা উচিত নয়, এবং কেয়ামত-পর্যন্ত আত্মরোধ সম্ভব না হলে অবরোধ হিসাবে জিনাহ জীবন বাঁচাতে (যেমন ধর্ষণ বা বড় গোনাহ সুরক্ষার জন্য) কিছুমাত্র অনুমতি দেওয়া হতে পারে। কিন্তু জরুরি অবস্থাই না থাকার পর ইচ্ছাকৃত অনুশীলন গোনাহ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাওয়বাহ করা দরকার।

৩) যদি শুক্রবিসর্জ্য (মেনী) বের হয়ে থাকে — তাহলে নামাজের জন্য গুসল ফরজী। যদি কেবলমাত্র স্বল্প সাদা পানীয় বা অস্বাভাবিক স্রাব যা মেনী নয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী শুদ্ধতা দেখে আত্মবিশ্লেষণ করুন। (গুসল/ওযু নিয়ে নির্দিষ্ট সন্দেহ থাকলে স্থানীয় ঠিন্কার আলেমের সাথে পরামর্শ নিন।)

৪) আপনি যদি আগে থেকে জানতেন না যে আপনার কাজটি হস্তমৈথুন — তাহলে আপনার নিয়াৎ (Intent) বিবেচনায় রাখা হবে: অজ্ঞতাবশত করলে আল্লাহ ক্ষমাশীল। যদি কিছু গোনাহ হয়ে থাকে, তাওয়া/তওবাহ করলেই আল্লাহ তওবা গ্রহন করেন। এতটাই আশ্বাসযোগ্য যে আল্লাহ তওবার দরজা খোলা রেখেছেন — যেমন হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ العَبْدِ مَا لَمْ تَضْرِبِ الروحُ حَنَجِرَهُ" — (মৃত্যুর সময় আগ পর্যন্ত আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবা গ্রহণ করেন)। (সাহিহ মুসলিম) [একটি মাত্র রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করা হলো]

৫) পরবর্তী করণীয় (প্রাকটিক্যাল):
- দ্রুত কোনো মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞ/ইউরোলজিস্ট দেখান; আপনার রোগ (Epididymal/orchitic/hydrocele) চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হতে পারে।
- ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কাজ না করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিন, প্রতিক্রিয়া কমাতে চোখ নীচে রাখা, সামাজিক মিডিয়া/পরিবেশে সংযম, একা মেয়েদের সাথে দীর্ঘাকালিকা একান্ত অবস্থা এড়িয়ে চলা ইত্যাদি।
- নিয়মিত তওবা, দোয়া, কোয়াম-উল-লাইল, কোরআন তেলাওয়াত এবং অতিরিক্ত নফল ইবাদত করে হৃদয় শক্ত করুন।
- যদি গোনাহ হয়ে থাকে, সত্যিকার অনুশোচনা, আবার তা করতে না যাওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত এবং পারদর্শীভাবে বদ কাজ এড়িয়ে চলা — এগুলো তওবার শর্ত।

আল্লাহ তোমার কষ্ট সহজ করুক, তোমার তওবা কবুল করুন। যদি চিকিৎসা বিষয়ক বা গুসল/ওযু সংক্রান্ত নির্দিষ্ট শারঈ প্রশ্ন থাকে, জানালে বিস্তারিতভাবে হানাফী ফিকহ অনুযায়ী নির্দেশ দেব।