🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

যাকাত বিষয়
যাকাত (জাকাত) — হানাফী ফিকহ অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা

- অর্থ ও গুরুত্ব: যাকাত হলো মুসলিমের মাল থেকে নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর পথে পরিবেশন করে মালের পবিত্রকরণ ও সমাজের দরিদ্রদের সহায়তা প্রদানের عبادত।

- ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ:
1. মুসলিম হওয়া।
2. বালিগ (যৌবনে পৌঁছানো) ও সুস্থ বিবেকশক্তি থাকা।
3. মালের উপর পূর্ণ মালিকানা ও হালাল উপার্জন হওয়া।
4. নিসাব (নিয়ত ন্যূনতম পরিমাণ) পৌঁছানো।
5. মাল নিসাব অর্জনের পর এক হিজরী বছর (হাওল) ধরে মালিকানা থাকা (হানাফী দর্শনে সাধারণ নিয়ম)।

- নিসাব (প্রচলিত গণনা): সাধারণভাবে নিসাব ধরা হয় স্বর্ণ ও রৌপ্যের মূল্য অনুসারে — প্রথাগতভাবে প্রায় 87.48 গ্রাম বিশুদ্ধ স্বর্ণ বা প্রায় 612.36 গ্রাম বিশুদ্ধ রৌপ্য-এর সমমূল্য; বর্তমানে এগুলোর টাকা/মুদ্রা মূল্য দেখে নির্ণয় করা যায় (যে তফাৎটি পূরণ করে সে অনুযায়ী নিসাব ধরা হবে)।

- হার (রেট):
- নগদ, স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্যবসায়িক পুঁজি/পণ্য ইত্যাদিতে: 2.5% (১/৪০) বার্ষিক।
- ধান-ফসল ও কৃষিজournal: প্রাকৃতিক/বৃষ্টির জল দ্বারা পড়লে ১০% (১/১০), যদি কৃত্রিমভাবে সেচ/পানি যুক্ত করে হয় তাহলে ৫% (১/২০) — (হানাফী রায়ানুসারে)।
- পশুপালন, খনিজ ইত্যাদির জন্য পৃথক নিয়ম ও শর্ত আছে; বিশদে ক্লাসিক্যাল হুকুম প্রযোজ্য — দরকারে স্থানীয় আলেমের সাহায্য নিন।

- যাকাতের গন্তব্য (আসনাফ): কোরআন অনুযায়ী আট শ্রেণীর মধ্যে বিতরণ করা হয় — দরিদ্র (ফুকারা), অসহায় (মাসাকীন), যাকাত সংগ্রহকারী (আমিলীন), হৃদয় নরম করার জন্য (মুয়াল্লাফাত), দাস-মুক্ত করা (ফির-রুক্ব), দেনাদার (ঘারিমীন), আল্লাহ’র পথে (ফি সাবিলিল্লাহ) এবং পথিক (ইবনুস-সাবিল)। বিতরণে স্থানীয় দরিদ্রদের সুবিধা দেওয়াই উত্তম।

- অভ্যন্তরীণ নিয়ম: আত্মীয়স্বজনকে দেওয়া যায়, কিন্তু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কিছু সীমা ও শর্ত আছে (উদাহরণ: সরাসরি জীবিকায় অধিকারপ্রাপ্ত সন্তান/মাতা-পিতার দিকে আলাদা বিধান) — জটিল ক্ষেত্রে স্থানীয় হানাফী আলেম/ইমামকে জিজ্ঞাসা করুন।

- দেওয়ার পদ্ধতি: নিকটস্থ ও প্রকৃত প্রাপকদের হাতে সরাসরি দেওয়াই শ্রেয়; প্ল্যান করলে সচেতনভাবে হিসাব করে নিসাব ও হাওলপুরণ নিশ্চিত করে দেওয়া উচিত।

সূত্র: কোরআন, সুরা আত‑তাওবাহ (৯):১০৩ — “خذ من أموالهم صدقة تطهرهم وتزكيهم وصَلِّ عليهم ۚ إنّ صلاتك سكن لهم ۗ والله سميع عليم” (কোরআনী নির্দেশনার আলোকে যাকাতের বিধান)