১. ইংলিশের সাত দিন দিন এসেছে কথিত দেবতাদের নাম থেকে আর বাংলা সাত দিনের নাম এসেছে সংস্কৃত ও জ্যোতিষের গ্ৰহ থেকে(যাদের দেবতা হিসেবে মানা হত) এখন প্রত্যাহিক জীবনে এগুলো ব্যাবহার করা কি জায়েজ?
২. দুইটি বিষয়ে দুইটি মত রয়েছে। এরমধ্যে দ্বীন পালনে সুবিধার্থে রুখসত মতটি অনুসরণ করা জায়েয?
১) ভাষা ও দৈনন্দিন নাম-ব্যবহার: সাধারণত দিন, মাস বা স্তরের নাম যারা পুরাতন দেবতা/গ্রহ থেকে এসেছে তাদের ব্যবহারই যদি সাধারণ উপমা/সকালের নাম বলেই থাকে এবং এতে কোনো ইবাদত বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সম্মান করা বা দেবতা মানার ইচ্ছা না থাকে, তাহলে তা হারাম নয় — এটি হচ্ছে একটি ‘আদত/ঔপচারিক নাম’ (ʿurf) এবং শারʿি দৃষ্টিতে অনুমোদিত। যদি কেউ বিশ্বাস করে যে নামটি কোনো পলিৎবাদী অর্থ বহন করে, সে ক্ষেত্রে এ নাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উত্তম। সংক্ষেপে: সাধারণ লোকাচারকৃত ভাষাগত নাম ব্যবহার করা জায়েজ, অনাগত বা কুসংস্কারের উদ্দেশ্য ছাড়া।
২) রুখসত অনুসরণ: দ্বীনে দুʼমত থাকলে সহজ বা রুখসত মতটি নেওয়া শরীয়া পুর্ণভাবে অনুমোদিত হতে পারে, বিশেষ করে যদি পক্ষের উপর কষ্ট, বাধা বা বাস্তবি প্রয়োজন থাকে এবং রুখসতটি মাশহুর, শক্তিশালী ও শায়েস্তা হামিল-এ-হুকুম (শায়েক/মাস্টার) মত থেকে নেয়া হয়। তবে রুখসতকে অযথা তথা ঢিলেমি বা নদর বদলে প্রয়োজনীয়তা ছাড়া নিয়মিতভাবে নৈতিক ছাড় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। যদি রুকসত গ্রহণে গুনাহ বা_bidʿa প্রবৃত্তি যুক্ত হয়, তা গ্রহণ করা জায়েজ নয়। সারকথা: বৈধ রুকসত প্রয়োজন-নিষ্ঠভাবেই গ্রহণ করা যায়, অনর্থক সুবিধাবাদী উদ্দেশ্যে নয়।
নির্ধারণমূলক উৎস (শ্রেষ্ঠ হাদিস): "إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ..." — "কর্মসমূহ নিরন্তরভাবে মনসুবা/নিয়ত দ্বারা নির্ধারিত" (সাহীহ বুখারি)।