১. আমার ব্যাবহারকৃত সাবান এখন খুবই কম যা এখন ব্যাবহার করা যায় না বা ব্যাবহার করা কষ্টসাধ্য এখন এটি ফেলে দেওয়া কি জায়েয?
২. শ্যাম্পু,সসের প্যাকেট থেকে এগুলো বের করার পর কিছু ক্ষুদ্র অংশ (যেমন এক ফোঁটা বা তারও কম) থেকে যায়।এই অবস্থায় এগুলো ফেলে দেওয়া কি জায়েয?
৩. নামাজে(যেকোনো) সূরা ফাতিহা ছাড়া অন্য সূরা,দোয়া যদি একাধিকবার রিপিট করা হয় তবে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?
৪. ফরজ,সুন্নত,নফল নামাজের ৩য় ও ৪র্থ রাকাত সূ্রা ফাতিহার কোনো আয়াত দুইবারের বেশি রিপিট করলে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?
৫. সূরা ফাতিহা একটি আয়াত দুইবার রিপিট করলাম তারপর আবার আরেকটি আয়াত আবার রিপিট করলাম ( ১ বা দুইবার ) তবে সাহু সিজদা কি ওয়াজিব হবে?
১) হ্যাঁ — সাবান খুবই কম থেকে যেটুকু ব্যবহার করা কষ্টসাধ্য বা ব্যবহারযোগ্য নয়, সেটি ফেলে দিলে জায়েয। মলাদেয় বা কষ্টদায়ক পরিমাণ উপকরণের জন্য রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
২) শ্যাম্পু/সসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা অত্যন্ত ক্ষুদ্র ফোঁটা‑পরিমাণ অবশিষ্টাংশ (এক ফোঁটা বা তারও কম) যদি ব্যবহার করা সম্ভব না হয় বা অপ্রয়োজনীয় হয়, সেগুলো ফেলে দেওয়া জায়েয।
৩) নামাজে ফাতিহা ছাড়া অন্য সূরা বা দোয়া একাধিকবার (প্রতি রাক'at‑এ বা এক রাক'at‑এর মধ্যে) পুনরাবৃত্তি করলে সাধারণত সাহু সিজদা।ওয়াজিব হয় না। অযথা বাক্য/আয়াত দফা‑দফা পাঠ করা নামাজের নিউকৃত (রুকনীয়) অনুষঙ্গ বদলায় না, অতএব সাহু সিজদার প্রয়োজন হয় না।
৪) ফরজ, সুন্নত বা নফল নামাজের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাআতে সূরা ফাতিহার কোনো আয়াত দুইবারের বেশি রিপিট করলে—একই নীতি প্রযোজ্য: শুধুমাত্র আয়াত‑আয়াতের পুনরাবৃত্তি হওয়ায় সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। যদি কোনো রুকন/ফরায়েজ (যেমন রুকু না করা, অতিরিক্ত রাক‘আত যোগ করা ইত্যাদি) বাদ পড়ে বা যোগ হয়, তখন আলাদা বিধান আছে; কিন্তু কেবল আয়াতের পুনরাবৃত্তি হলে সাহু সিজদা দরকার পড়ে না।
৫) ফাতিহার এক আয়াত দুইবার রিপিট করে তারপর আরেকটি আয়াত এক বা দুইবার রিপিট করলে—এমন মাত্রায় কেবল পুনরাবৃত্তি হওয়ায় সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না।
তথ্যসূত্র (কিতাবী, হানাফি): Ibn Abidin, Radd al‑Muhtar ‘ala ad‑Durr al‑Mukhtar (فقه حنفی).