. মোটা বিছানা বা তোষক নাপাক হয়ে গেলে তা পাক করার পদ্ধতি কি?
মোট মূল কথা (হানাফী ফিকহ অনুযায়ী): যদি বিছানা/তোষকে নাজাইল বস্তু লেগে যায়, সেটিকে পাক করতে হবে—অর্থাৎ নাজাওয়াতের চিহ্ন (দাগ, রঙ বা গন্ধ) সম্পূর্ণ মুছে না যাওয়া পর্যন্ত পানি দিয়ে ধুতে হবে; যদি তা সম্ভব না হয় তবে সেটি নাজিসই থাকবে এবং ব্যবহার/নামাজে রাখা উচিত নয়। সাধারণ নিয়ম ও পদ্ধতি:
1) কঠিন বা আঠালো নাজিল পদার্থ (বমি, রক্ত, গুদাগা, ইত্যাদি) থাকলে প্রথমে যথাসম্ভব সরিয়ে ফেলুন (কাঠি/চামচ/কাগজ দিয়ে)।
2) এরপর প্রভাবিত অংশে পানি ঢালুন ও ঘষে ধুয়ে নিন যতক্ষণ না দাগ/রঙ/গন্ধ সম্পূর্ণ নেমে যায়। শ্যাম্পু বা রসায়নিক সোপ ব্যবহার করা যায়, কারণ মূলমন্তব্য হল নাজিসের চিহ্ন না থাকা।
3) যদি পুরো তোশক ধোয়া সম্ভব না হয়, তবে কমপক্ষে প্রভাবিত স্থানকে প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে নিন; যদি তবুও নাজিস মুছে না যায় এবং সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা সম্ভব না হয়, তাহলে সেই অংশকে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন — পচাতক বা বিকল্প হিসেবে নাজিস অংশটি কেটে ফেলা, বদলানো বা সম্পূর্ণ তোশক বদলানোই উত্তম।
4) নাজিস অংশ ঢেকে রাখা (বস্ত্র, প্লাস্টিক) তা নিজে তহির (=পাক) করে না; কেবল ব্যবহার-নিয়ন্ত্রণের জন্য ঢাকাটা ব্যবহার করা যায়, কিন্তু ঢাকাও যদি নাজিসের সরাসরি সংস্পর্শে আসে তবে তাকে ধুয়ে নিতে হবে।
5) পরিষ্কার করে সুতিতেই শুকিয়ে নেবেন (সূর্যপ্রকাশ থাকলে ভালো) এবং নামাজের আগেই নিশ্চিত হবেন যে যেই স্থানে সেজেছেন বা যেই বস্ত্র স্পর্শ করেছেন তা তহির।
রেফারেন্স: Al‑Hidayah, Kitab al‑Taharah — যেখানে উল্লেখ আছে যে নাজিস জিনিসে লেগে গেলে সেটি পানি দিয়ে ধুয়ে নাজিসের চিহ্ন (رنگ/غَیر) চলে না গেলে তা তহির হয় না।