🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

একটি অ্যাপস ব্যাবহার করে আমি আমার বউয়ের এবং তাদের ঘরের মোবাইল ফোন হ্যাক করি একটা বড় কারন সে তার আগের প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ করে ধরার জন্য তাকে চাপে রাখার জন্য। সেটা দিয়ে অন্য কোনো গায়রে মাহরাম এর কথা শোনা ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা যাবে। মোট কথা গোনাহ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি হ্যাক করার উদ্দেশ্য ছিল বউকে ধরা এবং চাপে রাখা চেষ্টা করবো গোনাহ না করার যদি হয়ে যায় তাহলে কি গোনাহ না করে এখন হ্যাক করা এবং  ব্যাবহার করার কারনে  গোনাহ হবে কি ইমান চলে যাবে কি আর পরে গোনাহ করলে তখন ইমান চলে যাবে কি?
আপনার প্রশ্নগুলো ifatwa.info-এর সংশ্লিষ্ট ফতোয়ার আলোকে ফিকহে হানাফির মূলনীতি অনুযায়ী নিচে উল্লেখ করা হলো:

1. এখন হ্যাক করা এবং ব্যাবহার করার কারনে গুনাহ হবে কি?
হ্যাঁ, আপনার স্ত্রীর এবং তার পরিবারের মোবাইল ফোন তাদের অজান্তে হ্যাক করে গোপন নজরদারি (গুপ্তচরবৃত্তি বা তাজাসসুস) করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি একটি কবীরা গুনাহ। এমনকি সন্দেহের বশবর্তী হয়েও এমন কাজ করা পারিবারিক বিশ্বাস ও সম্পর্কের উপর বড় ধরনের আঘাত হানে। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "আর তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না।" (সূরা হুজুরাত: ১২)। এই কাজটি নিজেই গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

2. ইমান চলে যাবে কি?
মোবাইল ফোন হ্যাক করার এই কবীরা গুনাহের কারণে আপনার ঈমান চলে যাবে না, যতক্ষণ না আপনি এই কাজের হারাম হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করেন অথবা এর মাধ্যমে ইসলামের মৌলিক কোনো বিধানকে অস্বীকার করেন। কবীরা গুনাহ ঈমানকে দুর্বল করে দেয়, কিন্তু ঈমানকে বিলুপ্ত করে না।

3. পরে গুনাহ করলে তখন ইমান চলে যাবে কি?
যদি আপনি পরবর্তীতে এই অ্যাপ ব্যবহার করে অন্য কোনো গায়রে মাহরামের কথা শোনেন বা তাদের ক্যামেরার মাধ্যমে দেখেন, তবে সেগুলোও স্বতন্ত্র কবীরা গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে। এই গুনাহগুলোও আপনার ঈমানকে দুর্বল করবে, কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঈমান চলে যাবে না, যতক্ষণ না আপনি ঐ গুনাহগুলোকে হালাল মনে করেন বা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হন। তবে মনে রাখবেন, গুনাহে লিপ্ত থাকা ও তওবা না করা ঈমান হারানোর ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

রেফারেন্স:
ifatwa.info-এ স্ত্রীর মোবাইল ফোন চেক করা সংক্রান্ত একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে যে, দৃঢ় প্রমাণ ছাড়া শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে এমন করা ঠিক নয় এবং এতে দাম্পত্য জীবনে অবিশ্বাস জন্মায় ও নিষিদ্ধ গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়। হ্যাকিং এর মতো কাজ এর চাইতেও গুরুতর গোপনীয়তা লঙ্ঘন।