🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

السلام عليكم و رحمة الله و بركاته উস্তায একটা ব‍্যাপারে একটু জানার ছিলো আমি রকমারি, দারাজ  এফিলিয়েটের মাধ‍্যমে কিছু পন‍্য বিক্রি করেছি এবং পোস্টও করি আমি সরাসরি পন‍্যের রিভিউ দেই না, পন‍্যের ছবি দিয়ে পন‍্যটির বিস্তারিত লিখি আর বইয়ের ক্ষেত্রে অন্য জায়গা থেকে সংগ্রহিত রভিউ দিয়ে পোস্ট করি। এবং কেউ আমাকে অর্ডার দিলে আমি তা রকমারির এফিলিয়েট লিংক এর মাধ‍্যমে তার ঠিকানায় অর্ডার করে দিই। সেক্ষেত্রে  রকমারি আমাকে যেই পন্য বিক্রি করি তার উপরে একটা কমিশন দেয়। এভাবে  এফিলিয়েটের টাকা বা বিজনেজ কী হালাল হবে? আরেকটা প্রশ্ন যদি কোথাও থেকে একটা পন‍্য কিনে কিংবা না কিনে নিজের পেজে বিক্রির জন্য পোস্ট করি এবং দামটা নিজের লাভের জন্য হালকা বাড়িয়ে বলি এবং কেউ যদি আমাকে অর্ডার করে তবে যদি সেখান থেকে তাকে অর্ডার করে দেই এবং বাড়তি দামটা নিজের জন্য রাখি (কিন্তু যার কাছ থেকে অর্ডার করছি সে জানে না তার পন‍্যটি একটু বেশি দামে আমি অন্য জায়গায় সেল করছি।) তবে এটি কী হালাল হবে বা এটি কী সৎ হবে। এটি কী জায়েজ? আর জায়েজ হলে কতটুকু পরিমাণ টাকা আমি বাড়িয়ে বলতে পারবো?
ওয়ালায়kumussalam।

সংক্ষিপ্ত জবাব (হানাফী ফিকহ অনুযায়ী) —
- রকমারি/দারাজের মাধ্যমে এফিলিয়েট কমিশন গ্রহণ হালাল, যদি পণ্যের স্বভাব, পরিমাণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কোনো মিথ্যা বলা না হয় এবং আপনি গ্রাহককে ঠকান না।
- অন্য জায়গা থেকে নেয়া রিভিউ পোস্ট করতে পারবেন, কিন্তু তা নিজের লিখা বা নিজের অভিজ্ঞতা বলে মিথ্যা উপস্থাপন করা যাবে না; যে জায়গা থেকে নেয়া হয়েছে তা উল্লেখ করুন বা স্পষ্ট করে বলুন যে এটি তৃতীয় পক্ষের রিভিউ।
- কেউ আপনাকে অর্ডার দিলে আপনি সরাসরি সেই সাইটের এফিলিয়েট লিংকের মাধ্যমে অর্ডার দিলে এবং গ্রাহককে ঠিকভাবে পণ্য পৌছে দেয়া হয়, এই আয় (কমিশন) হালাল। এটি মূলত যুবাহ (agency/commission) হিসেবে বিবেচিত।

আরেকটি অবস্থার পর্যালোচনা (আপনি দাম বাড়িয়ে বললে) —
- আপনি যদি পণ্যটি নিজে ক্রয় করে (অধিকার লাভ করে) তারপর তা পুনঃবিক্রি করেন, তাহলে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা সম্পূর্ণ জায়েজ; বিক্রেতা হিশেবে আপনি নিজের মুনাফা নিতে পারবেন।
- যদি গ্রাহক থেকে টাকা নিয়ে তাদের পরিকল্পিতভাবে অন্য জায়গায় থেকে অর্ডার দেন (drop-shipping বা তৃতীয় পক্ষ থেকে সরাসরি শিপ করানো) এবং গ্রাহককে আপনি বিক্রেতা হিসেবে উপস্থাপন করেন, তাহলে অবশ্যই প্রতারণা বা ভ্রম সৃষ্টি করা যাবে না। গ্রাহককে যদি আপনি বলেন “আমি বিক্রয় করি/আমার স্টক থেকে পাঠানো হবে” অথচ বাস্তবে সরাসরি তৃতীয় পক্ষে অর্ডার করা হয় এবং পণ্যের কোনো দফারফার থাকে, তাহলে এটি সৎ নয়।
- মূল নীতি: সততা আর প্রতারণা বর্জন। যদি আপনি পরিষ্কারভাবে বলেন যে আপনি মধ্যস্থতাকারী/এজেন্ট এবং আপনার মূল্যায়িত মূল্য মুনাফা হিসেবে আছে, বা গ্রাহককে জানেন যে পণ্য তৃতীয়-পক্ষ থেকে আসবে, তাহলে যায়েজ। অন্যথায় গোপনে দাম বাড়িয়ে নেওয়া এবং ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করা অবৈধ/নেইজব।

কতটা বৃদ্ধি করা যাবে? —
আইনগত কোনো নির্দিষ্ট হার নেই; হানাফী নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হয় না, তবে শর্ত হলো ন্যায্যতা ও প্রতারণা নেই। অত্যাধিক মূল্যবৃদ্ধি (অত্যাধিক দামের চাহিদা-শোষণ) বিশেষ করে দুর্যোগে অনৈতিক হবে। সাধারণভাবে, আপনি নিজের খরচ, ঝুঁকি ও যুক্তিসংগত মুনাফা যোগ করে দাম নির্ধারণ করবেন; তবে গ্রাহককে যখন আপনার প্রদত্ত মূল্য গ্রহণ করে, তখন সেটি বৈধ।

হেড-লাইনের মূল নির্দেশ: সততা বজায় রাখুন — পণ্যের সূত্র, বাস্তব অবস্থা ও আপনার ভূমিকা (বিক্রেতা না এজেন্ট) লুকাবেন না। প্রতারণা হারাম। Hadith: “من غشنا فليس منا” (যে ঠকায়, সে আমাদের নয়) — (সহীহ সূত্রে পাওয়া কথা)।

ফলতু জটিলতা থেকে বাঁচতে পরামর্শ:
- আপনার পোস্টে স্পষ্ট লিখে দিন আপনি “এফিলিয়েট/এজেন্ট/রিসেলার” হিসেবে কাজ করছেন।
- রিভিউ গেলে উৎস উল্লেখ করুন বা নিজের অভিজ্ঞতা বলার ক্ষেত্রে সত্য বলুন।
- গ্রাহকের অর্ডার গ্রহণের আগে ডেলিভারি নিশ্চয়তা থাকুক এবং ফেরত/বাতিল নীতিমালা স্পষ্ট রাখুন।

আল্লাহ তাওফিক দিন।