বাথরুমে প্রস্রাব -পায়খানার সময় কেউ প্রয়োজনে ডাক দিল এক্ষেত্রে তার ডাকে সাড়া দিলাম কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বললাম না তা কি জায়েয?
সম্ভবত এক জায়গায় দেখেছিলাম বাথরুমে ইস্তেঞ্জার সময় উলঙ্গ হওয়া নিষেধ এক্ষেত্রে প্যান্ট খোলা থাকল কিন্তু গেঞ্জি পরা থাকলে
এমতাবস্থায় প্রস্রাব -পায়খানা করা কি জায়েজ?
উলঙ্গ অবস্থায় বা সতর খোলা অবস্থায় কিবলার দিকে ফিরে দাড়ানো কি জায়েয?
উত্তর (হানাফী ফিকহ অনুযায়ী):
1) বাথরুমে কাউকে ডাকে সাড়া দেওয়া — যদি সত্যি প্রয়োজনীয়তা থাকে (যেমন কিসের জন্য সাহায্য দরকার) তবে সংক্ষিপ্তভাবে সাড়া দেওয়া জায়েজ। অনাবশ্যক কথাবার্তা বা আড্ডা বলা উচিত নয়। এই বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাথরুমে অনাবশ্যক কথাবার্তা না করার নির্দেশ দিয়েছেন (দরকার ছাড়া কন্ঠতোলা/কথা না বলা)। (সূত্র: সাহিহ মুসলিম)
2) ইস্তেঞ্জা/প্রস্রাব-পায়খানার সময় উলঙ্গ হওয়া ও কাপড়ের অবস্থা — হানাফী মতে পুরুষের অউরাহ নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত; মেয়েদের অউরাহ আলাদা। উলঙ্গ হয়ে বা অউরাহ উন্মুক্ত রেখে সাধারণভাবে বাথরুমে থাকা নাযায়েয; তবে পরিষ্কারের প্রয়োজন হলে যতটুকুই প্রয়োজন তা খোলা যায় (জরুরত বা হাত পরিষ্কারের জন্য)। ফলে যদি প্যান্ট খোলা থাকলেও নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে থাকে এবং শুধু দরকারি অংশ সাময়িকভাবে খুলে ইস্তেঞ্জা করা হয়, তা নিশ্চয়ই মাকরূহ নয় বরং জরুরত-সম্মত; কিন্তু স্থায়ীভাবে উলঙ্গ থেকে ইস্তেঞ্জা করা অগ্রহণযোগ্য। সাধারণ নিয়ম—অউরাহ যতটা সম্ভব ঢেকে রাখা।
3) কিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব/পায়খানা করা (উলঙ্গ বা সতর খোলা অবস্থায়) — নিন্দনীয় ও নিবন্ধিতভাবে আক্রান্ত: কিয়ামত থেকে কিবলার দিকে মুখ করে বা পিঠ করে বাথরুমে ইস্তেঞ্জা করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নবীর নির্দেশ অনুযায়ী বাথরুমে কিবলার দিকে মুখ না করা এবং পিঠও কিবলার দিকে না করা উত্তম/আবশ্যক। (উপরোক্ত সূত্র: সাহিহ মুসলিম)
সংক্ষিপ্তভাবে: দরকার হলে সংক্ষিপ্ত উত্তর দেওয়া যায়; অউরাহ ঢেকে রাখা প্রয়োজন—শুধুমাত্র পরিষ্কারের জন্য যতটুকু খুলবেন; কিবলার দিকে মুখ করে বা পিঠ করে বাথরুমে লেভি করা ত্যাগ করুন। (সূত্র: সাহিহ মুসলিম)