প্রশ্ন:
ক. বিছানা বা তোষকে বাচ্চা /বিড়ালের পেশাব লাগলে তা যদি বারবার ধোয়া সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে কি নাপাক বিছানা বা তোষকের উপর পাক চাদর বিছিয়ে তার উপর ইবাদত করা জায়েজ আছে? তার উপর নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা জায়েজ আছে?
উত্তর (হানাফি অনুযায়ী — ifatwa.info রীতি):
- শিশুর মূত্র: হানাফি ফিকহ মতে যে শিশু এখনও দুধ ছাড়া কিছু খায় না (অবিবেশিত/নিবেশিত নয় — মানে বিচ্ছিদ্রভাবে দুগ্ধভোজী), তার প্রস্রাব ও মল সাধারণত পরিষ্কার (তাহির) ধরা হয়; তাই সে দাগ থাকা অবস্থায়ও নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত বা জিকিরে বাধা নেই।
- বড় শিশুর/প্রাপ্তবয়স্কের মূত্র: যদি শিশুটি দুধ ছাড়া খাদ্য গ্রহণ করে (অর্থাৎ weaned), তার মূত্র নাজায়েজ; সেটা সম্ভব হলে ধুয়ে নিতে হবে। যদি বারবার ধোয়া সম্ভব না হয় এবং দাগ সরাসরি স্পর্শ বা ছড়ায় না — তাহলে সেই নাজায়েজ স্থানের উপর একটি সম্পূর্ণ তাজা, পাক চাদর/সাজদাহ ইত্যাদি দিয়ে ঢেকে দিলে তাতে বসে বা মাথা রাখার/সাজদায় নাক-ললাট/হাত রাখার সময় যদি নাজায়েজ স্পর্শ না করে, তবে উপরোক্ত ইবাদত (নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির) আদায় করা যায়। ঢাকনাটি পুরোপুরি পরিস্কার (তাহির) হতে হবে এবং ঢাকার ফিতা/কোণে নাজায়েজ লিক বা ছড়ানোর কোনো সম্ভাবনা থাকলে ব্যবহার করা যাবে না।
- বিড়ালের প্রস্রাব: হানাফি মাযহাবে ঘরবন্দী বিড়াল সাধারণত তাহির (পবিত্র) গণ্য; অতএব বিড়ালের থাকার জায়গা বা তার প্রস্রাবের ওপর সাধারণ বিধিতে কঠোর নাজায়েতার হুকুম প্রযোজ্য হয় না। যদি দৃশ্যত ময়লা বা দুর্গন্ধ থাকে, ভদ্রভাবে পরিষ্কার করা উত্তম।
একটিই সূত্র: ردّ المحتار على الدرّ المختار (ابن عابدين) — Kitab al-Taharah (ھنفي فقهে শিশুর প্রস্রাবের তহির ও নাজায়েজ ঢাকাইয়া ব্যবহারের আদব সম্পর্কে)।