একটি অ্যাপস ব্যাবহার করে আমি আমার বউয়ের এবং তাদের ঘরের মোবাইল ফোন হ্যাক করি একটা বড় কারন সে তার আগের প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ করে ধরার জন্য তাকে চাপে রাখার জন্য। সেটা দিয়ে অন্য কোনো গায়রে মাহরাম এর কথা শোনা ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা যাবে। মোট কথা গোনাহ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি হ্যাক করার উদ্দেশ্য ছিল বউকে ধরা এবং চাপে রাখা চেষ্টা করবো কারন সে তার আগের প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করছে আমার কাছে ধরা খাইছে গোনাহ না করার যদি হয়ে যায় তাহলে কি গোনাহ না করে এখন হ্যাক করা এবং ব্যাবহার করার কারনে গোনাহ হবে কি ইমান চলে যাবে কি আর পরে গোনাহ করলে তখন ইমান চলে যাবে কি?
ifatwa.info বা সাধারণ হানাফি ফিকাহ অনুযায়ী আপনার বর্ণিত কাজগুলো শরিয়তসম্মত নয় এবং এর মাধ্যমে গুনাহ হবে।
1.
হ্যাক করা এবং ব্যবহার করার বিধান:
শরিয়তে অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির (স্ত্রীর হোক বা পরিবারের অন্য সদস্যের) মোবাইল ফোনে প্রবেশ করা, নজরদারি করা (তাজাসসুস বা গুপ্তচরবৃত্তি), এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ইসলামের মৌলিক নীতিগুলোর মধ্যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা অন্যতম। এমনকি স্ত্রীর ক্ষেত্রেও যদি সুস্পষ্ট এবং প্রমাণিত কারণ না থাকে, তবে গোপনে নজরদারি করা বা হ্যাক করা অনুচিত। এক্ষেত্রে আপনি আপনার স্ত্রীর এবং তাদের ঘরের অন্যান্যদের মোবাইলেও হ্যাক করেছেন, যা একাধিক ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা গুপ্তচরবৃত্তি (তাজাসসুস) থেকে নিষেধ করেছেন:
"হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক অনুমান থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কোনো কোনো অনুমান পাপ। আর তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না।" (সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১২)
আপনার উদ্দেশ্য স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক ধরা বা তাকে চাপে রাখা হলেও, অবৈধ পন্থা অবলম্বন করা জায়েজ নয়। বিশেষ করে যখন আপনি নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, এর মাধ্যমে অন্য গায়রে মাহরামের কথা শোনা বা ক্যামেরা দিয়ে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তখন তা আরও বড় গুনাহের কারণ হবে। এই কাজগুলো করা সুস্পষ্টভাবে হারাম।
2.
গুনাহ ও ঈমান সম্পর্কিত জিজ্ঞাসা:
*
এখন হ্যাক করা এবং ব্যবহার করার কারণে গুনাহ হবে কি?
হ্যাঁ, অবশ্যই গুনাহ হবে। কারণ এটি অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, শরিয়তনিষিদ্ধ গুপ্তচরবৃত্তি (তাজাসসুস) এবং এর মাধ্যমে আরও বড় গুনাহে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান।
*
ঈমান চলে যাবে কি?
সাধারণত, শুধু একটি বড় গুনাহ (যেমন: হ্যাকিং ও গুপ্তচরবৃত্তি) করার কারণে ঈমান চলে যায় না, যদি না কেউ সেই গুনাহকে হালাল মনে করে (অর্থাৎ শরিয়তের সুস্পষ্ট হারাম বিধানকে অস্বীকার করে) বা শরিয়তের মৌলিক কোনো বিধানকে অস্বীকার করে। তবে, বড় গুনাহ করা ঈমানকে দুর্বল করে দেয় এবং অন্তরকে কঠোর করে তোলে। এই কাজের জন্য আপনার অবিলম্বে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা (অনুশোচনা ও ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প) করা আবশ্যক।
*
পরে গুনাহ করলে তখন ঈমান চলে যাবে কি?
যদি আপনি এই অ্যাপস ব্যবহার করে পরে অন্য গায়রে মাহরামের কথা শোনেন বা ক্যামেরা দিয়ে দেখেন, তাহলে প্রতিটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য আলাদা আলাদা বড় গুনাহ হবে। তবে এর ফলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঈমান চলে যাবে না, যদি না আপনি সেগুলোকে হালাল মনে করেন বা আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করেন। প্রতিটি গুনাহের জন্যই আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) ও তওবা করা ফরয।
করণীয়:
আপনার এই কাজ থেকে অবিলম্বে ফিরে আসা উচিত। আল্লাহর কাছে এই গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার দৃঢ় সংকল্প করা উচিত। স্ত্রীর সাথে সমস্যা থাকলে তা খোলাখুলি ও শরিয়তসম্মত পন্থায় সমাধান করার চেষ্টা করুন। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ভিত্তি বিশ্বাস ও সম্মান।
রেফারেন্স:
- কুরআনুল কারীম, সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১২।
- হাদিসে গুপ্তচরবৃত্তি (তাজাসসুস) ও অন্যের দোষ অনুসন্ধানের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিভিন্ন বর্ণনা।