☘অনুশীলন-১☘
প্রশ্ন:
ক. বিছানা বা তোষকে বাচ্চা /বিড়ালের পেশাব লাগলে তা যদি বারবার ধোয়া সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে কি নাপাক বিছানা বা তোষকের উপর পাক চাদর বিছিয়ে তার উপর ইবাদত করা জায়েজ আছে? তার উপর নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা জায়েজ আছে?
ifatwa.info — হানাফি ফিকহ অনুযায়ী:
সংক্ষেপে উত্তর:
হ্যাঁ — যদি দাগ বা পেশাব যতই সম্ভব সরানো হয়েছে এবং আপনি তাকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেন এমন একটি পরিষ্কার (অবশ্য পরীক্ষিত) চাদর/পলিথিন ইত্যাদি বসান যাতে নাপাক উপরের দিক পর্যন্ত পৌঁছতে না পারে এবং স্পর্শ না করে, তবে তার ওপর নামায পড়া, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা জায়েজ। কিন্তু যদি পেশাব ভেজা থেকে শীটে ছড়িয়ে যেতে পারে বা ঢাকাটিই পানিস্রোতশীল হয়ে সরাসরি নাপাক স্পর্শ করবে, তাহলে তা ঠিক হওয়া পর্যন্ত নামায বা কিতাবপাঠ করা উচিত নয় — প্রথমে নাপাক যতটা সম্ভব সরাতে হবে বা অটল বাধা (অলংঘনীয় পলিথিন/বহুস্তরী কাপড়) দিতে হবে।
বিস্তারিত অনুক্রম:
1) প্রথমে দৃশ্যমান নাপাক চোঁরা/মল-দাগ গুলো স্ক্র্যাপ করে যতটা সম্ভব সরান। পানি দিয়ে ধোয়া সম্ভব হলে ধুয়ে নিন — পবিত্রতা রক্ষাই প্রাথমিক কর্তব্য।
2) যদি বারবার ধোয়া করা বাস্তবে সম্ভব না (বিছানা বড়/স্থায়ী/অপরিবর্তনীয়) এবং দাগ শুকনো অবস্থায় থাকে এবং উপরের অংশে আর নাপাক নেই, তবে পরিষ্কার চাদর বিছিয়ে ওপরেই ইবাদত করা যায়।
3) ঢাকাটি যদি পাতলা হয় এবং পেশাব ছোপ দিয়ে ভিজে সোজা উপরের দিকে পৌঁছতে পারে, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য নয় — এমন ক্ষেত্রে ফেলে দেওয়া/বিকল্প স্থানে নামায আদায় বা অপ্রবেশযোগ্য বাধা ব্যবহার করতে হবে।
4) সর্বোত্তম ব্যবস্থা হলো — নাপাক অংশ আলাদাভাবে পরিষ্কার/ফ্লাশ করা বা ভিতরের আস্তরণ (পলিথিন) বসিয়ে তার ওপর পরিষ্কার চাদর দেওয়া।
রেফারেন্স (একটি): হাদিস — "الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيمَانِ" (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিশ্বাসের অর্ধেক)। (সহীহ — এই নির্দেশ পবিত্রতা ও নাপাক দূরীকরণের গুরুত্ব স্মরণ করায় এবং হানাফি ফিকহে নাপাক সরানোর চেষ্টাকে অন্যতম ভিত্তি হিসেবে নেয়া হয়।)
(নোট: বাস্তবে কঠিন হলে অবস্থান বদলানো বা আলাদা লেয়ার/প্লাস্টিকের ব্যবহারই সহজ ও নিরাপদ উপায়।)