🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

বিছানা বা  তোষকে বাচ্চা /বিড়ালের পেশাব লাগলে তা যদি বারবার ধোয়া সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে কি নাপাক বিছানা বা তোষকের উপর  পাক চাদর বিছিয়ে তার উপর ইবাদত করা জায়েজ আছে? তার উপর নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা জায়েজ আছে কি? খ. মোটা বিছানা বা তোষক নাপাক হয়ে গেলে তা পাক করার পদ্ধতি কি?
সংক্ষেপে উত্তর (হানাফি ফিক্হ অনুযায়ী):

১) নাপাক বিছানা/তোষকের উপর পাক চাদর বিছিয়ে ইবাদত — জায়েজ কি?
- হ্যাঁ, যদি নিচের নাপাক অংশ সম্পূর্ণভাবে ঢাকানো থাকে এবং ওপরে রাখা চাদর পরিষ্কার (পাক) হয়, তাতে আপনার দেহের কোনো অংশ সরাসরি নাপাকে স্পর্শ না করে এবং নাপাক থেকে কোন তরল/গন্ধ সেঁকে উঠে না আসে — তখন ওই পাক চাদরের উপর নামাজ আদায় করা, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা জায়েজ। নামাজে যেখানে সিজদা করবেন সেই স্থানও অবশ্যই পাক হতে হবে; তাই চাদর যেন সেখানেও সম্পূর্ণ ঢেকে রাখে। (শর্ত: চাদরটি নিজেই পবিত্র ও পরিষ্কার থাকতে হবে, আর নাপাক বস্তু থেকে চাদর দিয়ে আটকানো অংশে নাপাকে পৌঁছানোর কোনো সম্ভাবনা থাকা যাবে না।)

২) মোটা বিছানা/তোষক নাপাক হলে পাক করার পদ্ধতি (সাধারণভাবে হানাফী):
- প্রথমে শুকনো/কঠিন দাগ থাকলে সেটা কুঁচিয়ে বা স্ক্র্যাপ করে সরান (শুকনো পদার্থ)।
- তারপর দাগপ্রবণ স্থানকে প্রচুর পানিতে ধুয়ে বের করুন; যদি সম্ভব হয় গোড়ার থেকে পানি ঠেলে বের করে, যতক্ষণ পর্যন্ত রং/গন্ধ পরিবর্তিত না হয় ধুতে থাকুন। সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা যায় যাতে ময়লা ও গন্ধ কমে।
- যদি পেশাব ভেতরে গভীরে গিয়ে ফাইবার/ভর্তি অংশে সেঁকে থাকে এবং ধোয়া দিয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব না হয়, তাহলে ঘরের ভিতরের ভর্তি অংশ (কভার খুলে) আলাদা করে ধুয়ে শুকানো বা প্রয়োজন হলে আক্রান্ত ভর্তি অংশ বদলে ফেলাই উত্তম।
- যদি কোনো কারণে পুরোটা পরিষ্কার করা টেকনিক্যালি অসম্ভব হয়, তাহলে স্থায়ীভাবে পাক কোনো সিলিং/বোর্ড/ম্যাট বা শক্ত পাট্টি দিয়ে ঢেকে রেখে শুধু ওই ঢাকিতেই ইবাদত করা যাবে — যতক্ষন পর্যন্ত ঢাকাটি পাক ও নাপাক পৌঁছানো রোধ করছে।

সূত্র (হানাফি): রদ্দুল-মুহতারের বর্ণনা অনুযায়ী — নাপাক বস্তু সম্পূর্ণভাবে ঢেকে এবং তা থেকে স্পর্শ/স্রাব না পৌঁছলে তার ওপর বসা বা ইবাদত করা জায়েজ। (Radd al-Muhtar — আল-দুরর এক- মুক্তার এর উপর ইবন আবিদীন, তহারাত বা নাজাহাত সম্পর্কে)