বিছানা বা তোশকে বাচ্চা/বিড়ালের পেশাব লাগলে তা যদি বারবার ধোয়া সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে কি নাপাক বিছানা বা তোশকের উপর পাক চাদর বিছিয়ে তার উপর নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা জায়েজ আছে?
প্রশ্নোত্তর (হানাফী ফিকহ অনুযায়ী) — ifatwa.info
সারসংক্ষেপ:
- শিশুর প্রস্রাব ও বিড়ালের প্রস্রাব উভয়ই نجس (অপ্রসন্ন) ধরতে হবে এবং মসজিদ বা নামাজের স্থান/বস্ত্র থেকে তা দূর করতে হবে।
- সম্ভব না হলে অন্তত দৃশ্যমান অংশ ঝাপসা করে পানি দ্বারা ধুয়ে/মুছে যতটা সম্ভব দূর করতে হবে; তারপর যদি ময়লা পুরোপুরি সরানো না যায় তবে এমন একটি পবিত্র (پاک) চাদর/আচ্ছাদন বসাতে পারেন যা נাজা(অপদার্থ) সরাসরি স্পর্শ করতে দেবে না এবং যাতে দাগ ভিতরে থেকে পাতিয়ে বেরোবে না—এমন অবস্থায় সেই চাদরের উপর নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা জায়েজ হবে।
- তবে আদায়যোগ্য হলে দাগ–মলিন স্থানে নামায আদায় করার বদলে পরিস্কার স্থানে নামাজ করা বা পরে যত দ্রুত সম্ভব সম্পূর্ণ ধোয়া করাই উত্তম। কোরআন রেখে পড়ার ক্ষেত্রে (মুস্হাফ স্থাপন করা) মুখে/পড়ার স্থানটিকে নাজা থেকে মুক্ত রাখা বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে।
সংক্ষিপ্ত বিধানগত ব্যাখ্যা:
- হানাফী ফিকহে মল-মলিনতা (نجاسة) অপসারণের দায়িত্ব অপরিহার্য। যদি সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা না যায়, তবে সরাসরি ওই অপরিষ্কার স্থানের উপর বসা/নামাজ করা উচিত নয়। তবে যদি পরিষ্কার, পুরু ও অজৈব (জলরোধী বা প্যারা-পর্দা মতো) আচ্ছাদন দিয়ে এমনভাবে ঢেকে দেওয়া হয় যে নাজা সরাসরি স্পর্শ না করে এবং মাধ্যমে বেরোবে না, তা হলে তার ওপর নামাজ ও ইবাদত করা চলবে।
- এটা সর্বদাই মাসকূর যে সম্ভব হলে ধুয়ে–পরিষ্কার করাই শ্রেয়।
রেফারেন্স (হানাফী কিতাব/হাদীস থেকে একটি):
- Ibn ʿĀbidīn, Radd al-Muhtār (হাদিস/কিতাবীয় ফিকহী সূত্র—Kitāb al-Ṭahārah-এর আলোকে)
Allah-Ta’ālā যেভাবে সহজ করেছেন, তৎপর্য বজায় রেখে যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখুন; এবং সন্দেহ থাকলে কাছে থাকা আলেমের কাছে স্থানীয় দিকনির্দেশনাও নিন।