আমি ক্লাস সেভেনের একটা মেয়ে স্টুডেন্টকে পড়াই। সে নিজে তেমন পর্দা করে না। পোশাকের দিক থেকে ঠিক থাকলেও চুল খুলে রাখে। কিন্তু আমি তার দিকে কোন খারাপ নজরে তাকাই না। তাকে পড়ানো কি আমার জন্য জায়েজ হবে?উল্লেখ্য তার সাথে তার বড় খালাতো ভাইকেও একসাথে নিয়ে পড়াই।
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সংক্ষেপে নির্দেশ:
আপনি তাকে পড়াতে পারবেন, তবে শর্তসহ —
- আপনি তাকানো lowered gaze (নামিয়ে রাখা) রাখবেন এবং ইচ্ছাপূর্ন অনুচিত দেখার চেষ্টা করবেন না।
- কোনো একান্ত অবস্থায় (খলওয়া) একলা আটক না থাকুন; শ্রেণিতে অন্য পুরুষ বা মহিলাদের উপস্থিতি থাকলে খলওয়ার সমস্যা কমে।
- ছাত্রীর চুল উন্মুক্ত থাকাটা আদব ও পর্দার দিক থেকে ঠিক নয়; তাই তাকে ভদ্রভাবে হিজাব পরিধানের পরামর্শ দিন বা নারী শিক্ষকের ব্যবস্থা করুন।
- যদি আপনি ভীত হন যে দেখায় ফিতনা হতে পারে, তবে পড়ানো বন্ধ করা উত্তম।
- তার বড় খালাতো ভাই উপস্থিত থাকলে খলওয়া দূর হয় না; খালাতো ভাই সাধারণত মাহরাম নয়, তাই চুল উন্মুক্ত রাখা তার সামনে প্রামাণ্যভাবে গ্রহণযোগ্য করে না।
সংক্ষিপ্ত পূরণবচন: শিক্ষক হিসেবে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ, খলওয়া পরিহার ও ছাত্রীর প্রতি নরমভাবে হিজাবের পরামর্শ দেয়া—এগুলো মেনে চললে হানাফি মৎাবেক পড়ানো জায়েজ; কিন্তু যদি ফিতনার আশঙ্কা থাকে বা তিনি হিজাব না মেনে চলেন, তাহলে নারী শিক্ষক বা পবিত্র ব্যবস্থাই উত্তম।
তথ্যসূত্র: আল-কুরআন, সূরা আন‑নূর (২৪:৩০‑৩১) — “মুমিন পুরুষদের বল তাদের দৃষ্টি নামিয়ে রাখুক… এবং নারীদের বল তাদের দৃষ্টি নামিয়ে রাখুক এবং তাদের শোভা(অলংকার) সংরক্ষণ করুক…”