আসসালামু আলাইকুম শায়েখ, আমি সাউদিতে ছোট একটা মোয়াছাছা (কোম্পানিতে) কাজ করি এবং গাড়ি চালাই, আজকে ডিউটিতে ৪ জনে এক গাড়িতে ছিলাম, আমাদের কোম্পানিতে বর্তমানে ৭ জন কর্মরত আছি, এর মধ্যে ৪ জন সৌদি কফিলের কাছ থেকে চুক্তিতে দোকান আমি এখানে আসার আগেই নিয়ে নিছে বিনিময়ে কফিল মাসে মাসে ফায়দা (টাকা) নেয়, কফিল কাউকে কোন বেতন দেয়না,আমি বেতনে চাকুরি করি অই ৪ জন বেতন আর ইকামা যাবতিয় খরচ বহন করে। আজকে অই ৪ জনের ২ জন আমার সাথেই গাড়িতে ছিল বাকি আর একজন উনিও আমার মত বেতনে চাকুরি করেন। গাড়ি চালাচ্চিলাম সামনে সিগনাল আসলে ব্রেকে পা দেই এবং বুজতে পারি যে ব্রেক দরছে না, পা দিয়ে ব্রেক দরি কাজ হয়না, হাতের ব্রেক ছিল অইটাই দরি কাজ হয়না, এরপর সামনে দেখি সিগনালে গাড়ি লাল বাতির অবস্তায় দারিয়ে আছে, আমি আল্লাহর রহমতে গাড়ি ডান দিকে টার্ন নেই গাড়ি এতে করে রাস্তায় পাশের ওয়ালে গিয়ে ধাক্কা লাগে এবং অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার সাথের যে লোক গুল ছিল এর মধ্যে ২ জন হইল অই ৪ জনের যারা কফিলের কাছ থেকে চুক্তিতে কোম্পানি বা মোয়াছাছা নিয়েছে, গাড়ি রাস্তার পাশে ধাক্কা লাগার পর গাড়ির বাহিরে আসলে অই ২ জনের একজন হইল সুদান দেশের ও আমাকে আরবিতে জিজ্ঞাসা করে আমি কি ব্রেক দরি না, আমি তখন বলি সুফ সুফ আনা ছয়িতু মানে আমি ইশারা করে হাত দিয়ে দেখাই আমি যে হাতের ব্রেক টানছিলাম অইটা অই অবস্থায় আছে এখনো, আর আমি গাড়ি ইঞ্জিন বন্ধ করেও দিয়েছিলাম।
শায়েখ আমার এই বর্ননায় আমি যা উল্ল্যেখ করেছি এখান থেকে আমার জানার বিসয় গুলা হইল,
১,আমি গাড়ির ব্রেক পা দিয়ে দরেছি, হাতের ব্রেক দরেছি, গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করেছি, আল্লাহর রহমতে ব্যথা পাইনি, গাড়ির ক্ষতি হয়েছে এখন আমার কি এই ক্ষতির জন্য উনাদের মানে অই ৪ জনকে ক্ষতি বাবদ টাকা দিতে হবে কিনা?
২,আমাকে সুদানি জিজ্ঞাসা করেছিল আমি ব্রেক দরি নাই নাকি, আমি বলেছি হাত ইশারা করে যে দেখ আমি হাতের ব্রেক পর্যন্ত দরেছিলাম আমি আর কিছুই বলিনি, আমি তখন শুধু ইস্তেগফার পরতেছিলাম, আমি কোন আর মন্তব্য করিনি এখানে আমার কোন শিরিকি কথা হয়েছে কিনা সুদানিকে শুধু বলাতে যে দেখ আমি হাতের ব্রেক পর্যন্ত দরেছি, মানে আমি এতটুকু বলে এটা বুজাতে চেয়েছি যে আমি তো ব্রেক হাতের পায়ের সব গুলাই দরেছি মানে গাড়ির যা হবার হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাদের জিবিত রেখেছেন আলহামদুলিল্লাহ।
৩,আমি নিজে থেকে অই ২ জনকে বলেছি যে আমার বেতন থেকে চাইলে আপনারা গাড়ি ঠিক করার টাকা কাটতে পারেন, আর বলেছি আগামিকাল বাকি ২ জনকেও বলব যে আপনারা চাইলে আমার বেতন থেকে গাড়ি ঠিক করার টাকা কেটে রাখতে পারেন।
ওয়ালাইকুমুস সালাম। অবস্থা বিবেচনায় হানাফী মতানুসারে সংক্ষিপ্ত ফতোয়া নিম্নরূপ—
1) দায়বদ্ধতা (গাড়ি ক্ষতির টাকা देना) — যদি আপনি সচেতনভাবে অবহেলা করে বা ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত/অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি চালিয়েছেন এবং তাতে ক্ষতি হয়েছে, তাহলেই দায় (তখন আপনাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে)। কিন্তু আপনি যেভাবে বর্ণনা করেছেন — পা ও হাতের ব্রেক দুটো চালানোর চেষ্টা করেছেন, ইঞ্জিন বন্ধ করেছেন এবং হঠাৎ যান্ত্রিক/অপ্রত্যাশিত সমস্যা দেখা দিয়েছে — এ ক্ষেত্রে আপনার উপর দায় আরোপ করা অযৌক্তিক; অর্থাৎ যদি স্পষ্টভাবে প্রমাণ না থাকে যে আপনার অবহেলা ছিল, আপনি দায়মুক্ত। আর কোম্পানির মালিকানাধীন গাড়ি হলে মালিক/সংস্থান সাধারণত দায়বহুল; ব্যক্তিগত মালিক থাকলে মালিকের সাথে শর্তানুযায়ী হিসাব-নিকাশ হবে।
2) সুদানি (অন্য লোক) কে আপনি যে কথাটি বলেছিলেন (হাতের ইশারা করে দেখানো যে ব্রেক টানছিলাম) — এ ধরনের কথা কোনো শিরক নয়। এটা কেবল ঘটনা ব্যাখ্যা করা; আল্লাহর সন্তুষ্টি জানানো (অলহামদুলিল্লাহ, ইস্তিগফার ইত্যাদি) কোনো সমস্যা নয়। শিরক হলো আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করা; আপনার বক্তব্য তা নয়।
3) আপনার বেতন থেকে কাটার প্রস্তাব — আপনি স্বেচ্ছায় যদি অন্যদের প্রতিপূরণ হিসেবে নিজের বেতনের কিছু অংশ দিতে সম্মত হন, তা করা যায় (তা উপহার/মওফা’আত বা চুক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য)। তবে নিয়োগকর্তার কর্মসংস্থানের নিয়ম এবং সৌদি আইন অনুযায়ী বেতন থেকে কাটার বিষয়ে নিয়োগকর্তার অনুমতি অবশ্যই জরুরি; এবং যেকোনো সমঝোতা লিখিতভাবে করা ভালো যাতে ভবিষ্যতে সমস্যা না হয়।
এক সারাংশ হিসেবে: যদি প্রমাণ থাকে যে আপনি যথাসম্ভব সাবধান ছিলেন ও দুর্ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত যান্ত্রিক ব্যর্থতার ফলে হয়েছে, তাহলে সাধারণত আপনার কোনো ক্ষতিপূরণ দায় নেই; আপনার স্বেচ্ছামূলক প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হলেও কোম্পানি/নিয়োগকর্তার নিয়ম মেনে এবং লিখিতভাবে করা উত্তম। সর্বদা অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা কোরআনের নির্দেশানুসারে পালিত হওয়া উচিত (রহমতপূর্ণ বিবেচনায়) — “إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا” (সূরা আন-নিসা : 4:58)।